ঢাকা , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

বাঘায় মেয়ে হত্যার সুষ্ঠ বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

লিখিত বক্তব্যপাঠকালে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন বাবা

আব্দুল হামিদ মিঞাঃ

বিয়ের পূর্ণ বয়স হওয়ার আগেই প্রেমের সম্পর্ক গড়ে রেজিষ্ট্রি কাবিন ছাড়াই মোসাঃ মনিষাকে বিয়ে করেন বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের মৃত আবু জিহাত আলীর ছেলে আজাদ আলী (২৫)। সে সময় মনিষার বয়স হয়েছিল ১৪ বছর। বিয়ের এক বছর পরে আজাদ-মনিষা দম্পত্তির ঘরে একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। বিয়ের সময় বেসরকারী একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ২লাখ টাকাও দেন মনিষার বাবা মুনসাদ আলী।

বিয়ের ৪বছর পর পূর্ণ বয়সে কাবিন নামা রেজিষ্ট্রি করতে বলেন মনিষার বাবা মুনসাদ আলী। সে সময় আজাদ আলীর মামা শহিদুল ইসলাম ও তার আরেক আত্মীয় জুয়েল আলী যৌতুক বাবদ আরো ২ লক্ষ টাকা দাবি করে। এই টাকা দিতে না চাইলে মনিষার উপর শুরু হয় নিপিড়ন অত্যাচার। এক পর্যায়ে নির্যাতনের স্বীকার হয়ে প্রাণ হারায় মনিষা। পরিকল্পিত হত্যাকে আত্মহত্যা বলে প্রচারনা চালায় মনিষার স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন।

বুধবার (১৭-১২-২০২৫) দুপুরে বাঘা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠকালে সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে মেয়ে হত্যার বিচার দাবি করেছেন মনিষার বাবা মুনসাদ আলী । তিনি বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম ইউনিয়নের আটঘরি (চেয়ারম্যান পাড়া)গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ কালে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে মুনসাদ আলী বলেন,যেহেতু আমি ঢাকায় উল্কা গাড়ী চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। সেই কারণে আমি ২লাখ টাকা দিতে পারবোনা বলে জানিয়ে দিই। তারপর থেকে কারণে অকারণে মেয়েকে মানুষিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করতো। এমন কি আমাদের সাথে মেয়ের যাতায়াতসহ সকল যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

গত ২০ অক্টোবর রাত সোয়া ৬টায় অমানষিক নির্যাতনে আমার মেয়ে মারা যায়। এইদিন দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে গ্রামের সায়েম নামের এক লোক আমার বাড়িতে গিয়ে আমার স্ত্রী রুবিনাকে জানান, আপনাদের মেয়ে মনিষা গলায় উড়না পেঁচিয়ে মারা গেছে। আমি ঢাকায় থাকাকালিন সময়ে আমার স্ত্রী মুঠোফোনে আমাকে বিষয়টি জানাই।

 

পরে আমার স্ত্রীসহ আত্মীয়-স¦জন মেয়ের শশুর বাড়িতে গিয়ে তাদের ঘরের মেঝেতে মেয়ের লাশ চাঁদর দিয়ে জড়ানো দেখতে পাই। আত্মহত্যার কোন আলামত পাননি।
খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারেন তার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠায়। ওইদিন রাতে ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরে জানতে পারেন ঘটনার পরে আজাদ আলীসহ তার মা শরিফা পলাতক রয়েছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে বলেন, অপর একটি মেয়ের সাথে সম্পর্ক নিয়েও মেয়ের সংসারে অশান্তি ছিল। হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে মেয়ের শ্বশুর বাড়ির লোক লিখিত কাগজ দেখিয়ে বলে আমার মৃত্যুর জন্য শ্বশুর বাড়ির লোককে দায়ী করা না হয় । কিন্ত সেই লেখার সাখে আমার বাড়িতে থাকা খাতায় লেখার সাথে মেয়ের হাতের লেখার কোন মিল পাওয়া যায়নি। এতে আতœহত্যার সাজানো নাটক আরো স্পস্ট হয়ে উঠে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মনিষার মা রুবিনা ও মামা সাদ্দাম হোসেন।

 

মামলার তদন্তকারি অফিসার উপ পরিদর্শক(এসআই) মহিদুল ইসলাম জানান, মুনসাদ আলীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে আত্মহত্যার প্রচারনার মামলা রুজু করা হয়েছে। যাকে বলে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা। মামলায় আজাদ আলীসহ তার মা শরিফাকে আসামী করা হয়েছে। তবে ময়না তদন্ত রিপোর্ট পর্যালোচনা করে বিশোদভাবে জানা যাবে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সেনবাগ বাজারে ফুটপাত দখলের মহোৎসব, নিরাপদ চলাচল এখন স্বপ্ন

error: Content is protected !!

বাঘায় মেয়ে হত্যার সুষ্ঠ বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

আপডেট টাইম : ০৫:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
আব্দুল হামিদ মিঞা, বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি :

আব্দুল হামিদ মিঞাঃ

বিয়ের পূর্ণ বয়স হওয়ার আগেই প্রেমের সম্পর্ক গড়ে রেজিষ্ট্রি কাবিন ছাড়াই মোসাঃ মনিষাকে বিয়ে করেন বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের মৃত আবু জিহাত আলীর ছেলে আজাদ আলী (২৫)। সে সময় মনিষার বয়স হয়েছিল ১৪ বছর। বিয়ের এক বছর পরে আজাদ-মনিষা দম্পত্তির ঘরে একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। বিয়ের সময় বেসরকারী একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ২লাখ টাকাও দেন মনিষার বাবা মুনসাদ আলী।

বিয়ের ৪বছর পর পূর্ণ বয়সে কাবিন নামা রেজিষ্ট্রি করতে বলেন মনিষার বাবা মুনসাদ আলী। সে সময় আজাদ আলীর মামা শহিদুল ইসলাম ও তার আরেক আত্মীয় জুয়েল আলী যৌতুক বাবদ আরো ২ লক্ষ টাকা দাবি করে। এই টাকা দিতে না চাইলে মনিষার উপর শুরু হয় নিপিড়ন অত্যাচার। এক পর্যায়ে নির্যাতনের স্বীকার হয়ে প্রাণ হারায় মনিষা। পরিকল্পিত হত্যাকে আত্মহত্যা বলে প্রচারনা চালায় মনিষার স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন।

বুধবার (১৭-১২-২০২৫) দুপুরে বাঘা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠকালে সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে মেয়ে হত্যার বিচার দাবি করেছেন মনিষার বাবা মুনসাদ আলী । তিনি বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম ইউনিয়নের আটঘরি (চেয়ারম্যান পাড়া)গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ কালে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে মুনসাদ আলী বলেন,যেহেতু আমি ঢাকায় উল্কা গাড়ী চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। সেই কারণে আমি ২লাখ টাকা দিতে পারবোনা বলে জানিয়ে দিই। তারপর থেকে কারণে অকারণে মেয়েকে মানুষিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করতো। এমন কি আমাদের সাথে মেয়ের যাতায়াতসহ সকল যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

গত ২০ অক্টোবর রাত সোয়া ৬টায় অমানষিক নির্যাতনে আমার মেয়ে মারা যায়। এইদিন দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে গ্রামের সায়েম নামের এক লোক আমার বাড়িতে গিয়ে আমার স্ত্রী রুবিনাকে জানান, আপনাদের মেয়ে মনিষা গলায় উড়না পেঁচিয়ে মারা গেছে। আমি ঢাকায় থাকাকালিন সময়ে আমার স্ত্রী মুঠোফোনে আমাকে বিষয়টি জানাই।

 

পরে আমার স্ত্রীসহ আত্মীয়-স¦জন মেয়ের শশুর বাড়িতে গিয়ে তাদের ঘরের মেঝেতে মেয়ের লাশ চাঁদর দিয়ে জড়ানো দেখতে পাই। আত্মহত্যার কোন আলামত পাননি।
খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারেন তার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠায়। ওইদিন রাতে ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরে জানতে পারেন ঘটনার পরে আজাদ আলীসহ তার মা শরিফা পলাতক রয়েছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে বলেন, অপর একটি মেয়ের সাথে সম্পর্ক নিয়েও মেয়ের সংসারে অশান্তি ছিল। হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে মেয়ের শ্বশুর বাড়ির লোক লিখিত কাগজ দেখিয়ে বলে আমার মৃত্যুর জন্য শ্বশুর বাড়ির লোককে দায়ী করা না হয় । কিন্ত সেই লেখার সাখে আমার বাড়িতে থাকা খাতায় লেখার সাথে মেয়ের হাতের লেখার কোন মিল পাওয়া যায়নি। এতে আতœহত্যার সাজানো নাটক আরো স্পস্ট হয়ে উঠে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মনিষার মা রুবিনা ও মামা সাদ্দাম হোসেন।

 

মামলার তদন্তকারি অফিসার উপ পরিদর্শক(এসআই) মহিদুল ইসলাম জানান, মুনসাদ আলীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে আত্মহত্যার প্রচারনার মামলা রুজু করা হয়েছে। যাকে বলে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা। মামলায় আজাদ আলীসহ তার মা শরিফাকে আসামী করা হয়েছে। তবে ময়না তদন্ত রিপোর্ট পর্যালোচনা করে বিশোদভাবে জানা যাবে।