ঢাকা , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

বাগাতিপাড়ায় অবৈধ কারেন্ট জাল দিয়ে পাখি শিকার

আনিসুর রহমানঃ

 

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ব্যবহার করে দেশি ও অতিথি পাখি শিকারের একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে জানা গেছে। রাতের আঁধারে পরিচালিত এই অবৈধ পাখি শিকার কার্যক্রমে জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। সচেতন মহল এসব পাখি শিকারিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে দ্রুত অভিযান ও নিয়মিত নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের শালইপাড়া ধোপার বিল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই এই অবৈধ পাখি শিকার চলমান রয়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে সরেজমিনে গিয়ে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। দেখা যায়, বিলের দুই প্রান্তে লাঠির সঙ্গে কারেন্ট জাল টানটান করে পেতে রাখা হয়েছে। উড়ে যাওয়ার সময় পাখিগুলো এসব জালে আটকে পড়ছে। পরে শিকারিরা সেগুলো সংগ্রহ করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে।

এ সময় পাঁকা ইউনিয়নের ধোপার বিল এলাকায় কৃষক সাখওয়াত হোসেনের জমিতে পাতা কারেন্ট জালে ২টি পেঁচা, ১টি শালিক ও ১টি বাবুই পাখি আটকে থাকতে দেখা যায়। এর মধ্যে ১টি পেঁচা ও ১টি বাবুই পাখি মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। জীবিত ১টি শালিক ও ১টি পেঁচার শরীরে জাল পেঁচানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় দুজন সাংবাদিক কৃষকদের সহায়তায় জালে আটকানো পাখিগুলো উদ্ধার করেন। পরে জীবিত ১টি শালিক ও ১টি পেঁচাকে নিরাপদ পরিবেশে অবমুক্ত করা হয়।

জমির মালিক সাখওয়াত হোসেন (৪২) বলেন, ধান রোপণের জন্য জমি প্রস্তুত করতে এসে তিনি এসব ফাঁদ দেখতে পান। লোকচক্ষুর আড়ালে শিকারিরা জালে ধরা পাখি নিয়ে যায় এবং পরে সেগুলো বিক্রি করে। তিনি বলেন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ছাড়া এ ধরনের অপরাধ বন্ধ করা কঠিন।

জমিতে কাজ করা কৃষক রনি মিয়া (৩৩) জানান, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি ওই মাঠে কাজ করছেন। প্রায় প্রতিদিন রাতেই কেউ না কেউ এসে এভাবে ফাঁদ পেতে পাখি শিকার করে নিয়ে যাচ্ছে। শালইপাড়া এলাকার কৃষক আবুল কালাম (৫৫) বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই অপরাধ চলে আসছে। দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।

এ বিষয়ে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশন (বিবিসিএফ)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ‘সবুজ বাংলা’র সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি বলেন, কারেন্ট জাল দিয়ে পাখি শিকার একটি মারাত্মক অপরাধ এবং এটি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ভয়াবহ হুমকি। দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, পাখি শিকার সম্পূর্ণ বেআইনি ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে দ্রুত সমন্বয় সভা করে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সেনবাগ বাজারে ফুটপাত দখলের মহোৎসব, নিরাপদ চলাচল এখন স্বপ্ন

error: Content is protected !!

বাগাতিপাড়ায় অবৈধ কারেন্ট জাল দিয়ে পাখি শিকার

আপডেট টাইম : ০৭:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
আনিসুর রহমান, বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি :

আনিসুর রহমানঃ

 

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ব্যবহার করে দেশি ও অতিথি পাখি শিকারের একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে জানা গেছে। রাতের আঁধারে পরিচালিত এই অবৈধ পাখি শিকার কার্যক্রমে জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। সচেতন মহল এসব পাখি শিকারিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে দ্রুত অভিযান ও নিয়মিত নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের শালইপাড়া ধোপার বিল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই এই অবৈধ পাখি শিকার চলমান রয়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে সরেজমিনে গিয়ে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। দেখা যায়, বিলের দুই প্রান্তে লাঠির সঙ্গে কারেন্ট জাল টানটান করে পেতে রাখা হয়েছে। উড়ে যাওয়ার সময় পাখিগুলো এসব জালে আটকে পড়ছে। পরে শিকারিরা সেগুলো সংগ্রহ করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে।

এ সময় পাঁকা ইউনিয়নের ধোপার বিল এলাকায় কৃষক সাখওয়াত হোসেনের জমিতে পাতা কারেন্ট জালে ২টি পেঁচা, ১টি শালিক ও ১টি বাবুই পাখি আটকে থাকতে দেখা যায়। এর মধ্যে ১টি পেঁচা ও ১টি বাবুই পাখি মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। জীবিত ১টি শালিক ও ১টি পেঁচার শরীরে জাল পেঁচানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় দুজন সাংবাদিক কৃষকদের সহায়তায় জালে আটকানো পাখিগুলো উদ্ধার করেন। পরে জীবিত ১টি শালিক ও ১টি পেঁচাকে নিরাপদ পরিবেশে অবমুক্ত করা হয়।

জমির মালিক সাখওয়াত হোসেন (৪২) বলেন, ধান রোপণের জন্য জমি প্রস্তুত করতে এসে তিনি এসব ফাঁদ দেখতে পান। লোকচক্ষুর আড়ালে শিকারিরা জালে ধরা পাখি নিয়ে যায় এবং পরে সেগুলো বিক্রি করে। তিনি বলেন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ছাড়া এ ধরনের অপরাধ বন্ধ করা কঠিন।

জমিতে কাজ করা কৃষক রনি মিয়া (৩৩) জানান, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি ওই মাঠে কাজ করছেন। প্রায় প্রতিদিন রাতেই কেউ না কেউ এসে এভাবে ফাঁদ পেতে পাখি শিকার করে নিয়ে যাচ্ছে। শালইপাড়া এলাকার কৃষক আবুল কালাম (৫৫) বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই অপরাধ চলে আসছে। দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।

এ বিষয়ে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশন (বিবিসিএফ)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ‘সবুজ বাংলা’র সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি বলেন, কারেন্ট জাল দিয়ে পাখি শিকার একটি মারাত্মক অপরাধ এবং এটি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ভয়াবহ হুমকি। দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, পাখি শিকার সম্পূর্ণ বেআইনি ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে দ্রুত সমন্বয় সভা করে অভিযান পরিচালনা করা হবে।