ঢাকা , রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

বগুড়ার কাহালুতে স্বামী গ্রেপ্তার, স্ত্রী স্বেচ্ছায় শ্বশুরবাড়িতে ফিরে মিথ্যা অপহরণ মামলার অভিযোগ

এস. এম সালমান হৃদয়ঃ

 

বগুড়ার কাহালু উপজেলার দুর্গাপুর মন্ডলপাড়া গ্রামের ফজলুর রহমানের পুত্র পলাশ (২৪) অপহরণ মামলায় বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন। তবে মামলার ভিকটিম হিসেবে উল্লেখিত তার স্ত্রী আশরাফুন নেছা বর্তমানে স্বামীর বাড়িতেই অবস্থান করছেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপুর মন্ডলপাড়া গ্রামের আব্দুল আউয়ালের কন্যা আশরাফুন নেছার সঙ্গে একই গ্রামের প্রতিবেশী পলাশের প্রায় দুই বছর আগে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে উভয় পরিবারের সম্মতিতে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পর পারিবারিক কলহের কারণে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর পলাশ অন্যত্র পুনরায় বিবাহ করেন।

বিবাহ বিচ্ছেদ হলেও আশরাফুন নেছা ও পলাশের মধ্যে পুনরায় সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ২৮ ডিসেম্বর তারা বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়ে আবারও বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ৩১ ডিসেম্বর আশরাফুন নেছার মা রোকেয়া বেগম কাহালু থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পলাশের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের দিনই পুলিশ নন্দীগ্রাম উপজেলার বর্ষণ বাজার এলাকায় পলাশের নানার বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে এবং আশরাফুন নেছাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে পলাশকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। একইসঙ্গে ভিকটিম আশরাফুন নেছাকে আদালতে জবানবন্দি ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করা হয়।

এরপর গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় আশরাফুন নেছা তার স্বামীর বাড়িতে ফিরে যান। বর্তমানে তিনি শ্বশুরবাড়িতেই অবস্থান করছেন। আশরাফুন নেছা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তাকে কেউ অপহরণ করেনি। তারা দু’জন স্বেচ্ছায় পুনরায় বিবাহ করেছেন। তিনি দাবি করেন, তার মা মিথ্যা অপহরণের মামলা করেছেন।

মামলার সাক্ষী ও স্থানীয় বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন বলেন, অপহরণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাকে না জানিয়ে মামলার সাক্ষী করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। দুর্গাপুর ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য খোকন জানান, তাদের মধ্যে পূর্বেও বৈবাহিক সম্পর্ক ছিল। তার মতে, এটি একটি মিথ্যা অপহরণ মামলা।

ভিকটিমের শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। মেয়ের বাবা-মাকেও জানানো হলেও তারা এখন পর্যন্ত মেয়ের খোঁজখবর নিচ্ছেন না।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাহালু থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রুবেল প্রামানিক জানান, মামলার পর আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং ভিকটিমকে জবানবন্দি ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য আদালতে প্রেরণ করা হয়। বিজ্ঞ আদালত ভিকটিমকে তার মা ও মামলার বাদী রোকেয়া বেগমের জিম্মায় দিয়েছেন। বর্তমানে ভিকটিমের দায়দায়িত্ব মামলার বাদীর ওপর ন্যস্ত রয়েছে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

হানিফ পাপ্পুর তুলিতে রিকশাচিত্রের নতুন জীবন

error: Content is protected !!

বগুড়ার কাহালুতে স্বামী গ্রেপ্তার, স্ত্রী স্বেচ্ছায় শ্বশুরবাড়িতে ফিরে মিথ্যা অপহরণ মামলার অভিযোগ

আপডেট টাইম : ১০:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
এস. এম সালমান হৃদয়, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি :

এস. এম সালমান হৃদয়ঃ

 

বগুড়ার কাহালু উপজেলার দুর্গাপুর মন্ডলপাড়া গ্রামের ফজলুর রহমানের পুত্র পলাশ (২৪) অপহরণ মামলায় বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন। তবে মামলার ভিকটিম হিসেবে উল্লেখিত তার স্ত্রী আশরাফুন নেছা বর্তমানে স্বামীর বাড়িতেই অবস্থান করছেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপুর মন্ডলপাড়া গ্রামের আব্দুল আউয়ালের কন্যা আশরাফুন নেছার সঙ্গে একই গ্রামের প্রতিবেশী পলাশের প্রায় দুই বছর আগে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে উভয় পরিবারের সম্মতিতে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পর পারিবারিক কলহের কারণে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর পলাশ অন্যত্র পুনরায় বিবাহ করেন।

বিবাহ বিচ্ছেদ হলেও আশরাফুন নেছা ও পলাশের মধ্যে পুনরায় সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ২৮ ডিসেম্বর তারা বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়ে আবারও বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ৩১ ডিসেম্বর আশরাফুন নেছার মা রোকেয়া বেগম কাহালু থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পলাশের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের দিনই পুলিশ নন্দীগ্রাম উপজেলার বর্ষণ বাজার এলাকায় পলাশের নানার বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে এবং আশরাফুন নেছাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে পলাশকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। একইসঙ্গে ভিকটিম আশরাফুন নেছাকে আদালতে জবানবন্দি ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করা হয়।

এরপর গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় আশরাফুন নেছা তার স্বামীর বাড়িতে ফিরে যান। বর্তমানে তিনি শ্বশুরবাড়িতেই অবস্থান করছেন। আশরাফুন নেছা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তাকে কেউ অপহরণ করেনি। তারা দু’জন স্বেচ্ছায় পুনরায় বিবাহ করেছেন। তিনি দাবি করেন, তার মা মিথ্যা অপহরণের মামলা করেছেন।

মামলার সাক্ষী ও স্থানীয় বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন বলেন, অপহরণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাকে না জানিয়ে মামলার সাক্ষী করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। দুর্গাপুর ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য খোকন জানান, তাদের মধ্যে পূর্বেও বৈবাহিক সম্পর্ক ছিল। তার মতে, এটি একটি মিথ্যা অপহরণ মামলা।

ভিকটিমের শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। মেয়ের বাবা-মাকেও জানানো হলেও তারা এখন পর্যন্ত মেয়ের খোঁজখবর নিচ্ছেন না।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাহালু থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রুবেল প্রামানিক জানান, মামলার পর আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং ভিকটিমকে জবানবন্দি ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য আদালতে প্রেরণ করা হয়। বিজ্ঞ আদালত ভিকটিমকে তার মা ও মামলার বাদী রোকেয়া বেগমের জিম্মায় দিয়েছেন। বর্তমানে ভিকটিমের দায়দায়িত্ব মামলার বাদীর ওপর ন্যস্ত রয়েছে।