ঢাকা , শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

বগুড়ায় জমি বিরোধে সন্ত্রাসী হামলা, গুরুতর আহত ১

ছবি-প্রতীকী।

এস. এম সালমান হৃদয়ঃ

 

বগুড়া সদরের এরুলিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শিকারপুর মোড়ে জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে শাহিন (পিতা: সিফাত) নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটে সোমবার (৪ মে ২০২৬) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে।

 

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, শিকারপুর মধ্যপাড়া এলাকার শাহিনের সঙ্গে প্রতিপক্ষের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন সকালে শিকারপুর মোড়ে অবস্থানকালে তার ওপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা তাকে ঘিরে ধরে প্রথমে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং পরে ধারালো রামদা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।

 

ঘটনার সময় আশপাশের লোকজন চিৎকার শুনে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ভয়াবহ এ হামলার সময় কেউ বাধা দেওয়ার সাহস পাননি।

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি জড়িত। অভিযুক্তরা হলেন— মোঃ রানা পাইকার (৩৫), মোঃ সাজু পাইকার (৪৫), মোঃ সেতু পাইকার (৩৪) — এরা সবাই একই এলাকার মোঃ রফিকুল পাইকারের পুত্র; এছাড়া মোঃ রাজু পাইকার (৪০), পিতা: মৃত বাদশা; মোঃ সাদিক পাইকার (৩০), পিতা: মোঃ নুর ইসলাম; এবং মোঃ আবু বক্কর, পিতা: মৃত ময়েন। তাদের সকলের বাড়ি শিকারপুর মধ্যপাড়া, এরুলিয়া ইউনিয়ন।

 

হামলার পর স্থানীয়রা গুরুতর আহত শাহিনকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান। পরবর্তীতে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

 

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের জমিজমা বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রতিপক্ষরা আগে থেকেই বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল এবং স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করা হলেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি।

 

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। তারা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

 

এদিকে ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে।

 

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

গোমস্তাপুর সীমান্তে ৬ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ বিএসএফ

error: Content is protected !!

বগুড়ায় জমি বিরোধে সন্ত্রাসী হামলা, গুরুতর আহত ১

আপডেট টাইম : ০৩:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
এস. এম সালমান হৃদয়, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি :

এস. এম সালমান হৃদয়ঃ

 

বগুড়া সদরের এরুলিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শিকারপুর মোড়ে জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে শাহিন (পিতা: সিফাত) নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটে সোমবার (৪ মে ২০২৬) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে।

 

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, শিকারপুর মধ্যপাড়া এলাকার শাহিনের সঙ্গে প্রতিপক্ষের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন সকালে শিকারপুর মোড়ে অবস্থানকালে তার ওপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা তাকে ঘিরে ধরে প্রথমে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং পরে ধারালো রামদা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।

 

ঘটনার সময় আশপাশের লোকজন চিৎকার শুনে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ভয়াবহ এ হামলার সময় কেউ বাধা দেওয়ার সাহস পাননি।

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি জড়িত। অভিযুক্তরা হলেন— মোঃ রানা পাইকার (৩৫), মোঃ সাজু পাইকার (৪৫), মোঃ সেতু পাইকার (৩৪) — এরা সবাই একই এলাকার মোঃ রফিকুল পাইকারের পুত্র; এছাড়া মোঃ রাজু পাইকার (৪০), পিতা: মৃত বাদশা; মোঃ সাদিক পাইকার (৩০), পিতা: মোঃ নুর ইসলাম; এবং মোঃ আবু বক্কর, পিতা: মৃত ময়েন। তাদের সকলের বাড়ি শিকারপুর মধ্যপাড়া, এরুলিয়া ইউনিয়ন।

 

হামলার পর স্থানীয়রা গুরুতর আহত শাহিনকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান। পরবর্তীতে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

 

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের জমিজমা বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রতিপক্ষরা আগে থেকেই বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল এবং স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করা হলেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি।

 

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। তারা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

 

এদিকে ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে।