ঢাকা , শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

কালুখালীতে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

প্রতিনিধি:**

রাজবাড়ীর কালুখালীতে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ মোছা. মীম আক্তারকে (১৮) নির্যাতনের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও দাবি নিহতের পরিবারের।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে কালুখালী উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে নিহতের স্বজনসহ শত শত মানুষ অংশ নেন। এ সময় তারা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

আদালতের নথিপত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, রাজবাড়ীর বোয়ালিয়া গ্রামের মো. আলামিন মণ্ডলের মেয়ে মীম আক্তারের সঙ্গে পশ্চিম ভবানীপুর গ্রামের মো. আলিম কাজীর ছেলে মো. পান্নু কাজীর (২২) বিয়ে হয়। পরিবারের দাবি, বিয়ের সময় নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় দুই লাখ টাকার উপহার দেওয়া হলেও বিয়ের পর থেকেই আরও দুই লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে মীমের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়।

একপর্যায়ে মীমকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া এবং যৌতুক না দিলে তালাক দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরে তিনি নিজেই বাদী হয়ে ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় আদালতে একটি মামলা করেন।

মামলা দায়েরের পর উভয় পক্ষের মধ্যে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে মীমকে পুনরায় শ্বশুরবাড়িতে নেওয়া হয়। তবে পরিবারের অভিযোগ, কিছুদিন পর আবারও যৌতুকের দাবি করা হয়। একই সঙ্গে স্বামীর পরকীয়ার বিষয় জেনে ফেলায় তাঁর ওপর নির্যাতন আরও বেড়ে যায়।

নিহতের পরিবারের দাবি, গত ১৬ আগস্ট মীমকে মারধর করা হলে তিনি প্রাণভয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ ঘটনার দৃশ্য স্থানীয় একটি দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে বলে তারা জানান।

পরদিন ১৭ আগস্ট দুপুরে মীমকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন নিহতের স্বজনরা। পরে পুলিশ ও স্থানীয় একটি মহল ঘটনাটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হিসেবে নেওয়ার চেষ্টা করেছে অভিযোগ করে নিহতের বাবা আদালতে হত্যা মামলা করেন।

মানববন্ধনে নিহত মীম আক্তারের মা-বাবা ও স্থানীয়রা বলেন, যৌতুকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেও মেয়েকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তারা প্রধান অভিযুক্ত স্বামী পান্নু কাজীসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

তবে হত্যার অভিযোগ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মধুখালীতে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময়

error: Content is protected !!

কালুখালীতে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

আপডেট টাইম : ৫ ঘন্টা আগে
সাহিদা পারভীন, কালুখালী (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি :

প্রতিনিধি:**

রাজবাড়ীর কালুখালীতে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ মোছা. মীম আক্তারকে (১৮) নির্যাতনের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও দাবি নিহতের পরিবারের।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে কালুখালী উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে নিহতের স্বজনসহ শত শত মানুষ অংশ নেন। এ সময় তারা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

আদালতের নথিপত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, রাজবাড়ীর বোয়ালিয়া গ্রামের মো. আলামিন মণ্ডলের মেয়ে মীম আক্তারের সঙ্গে পশ্চিম ভবানীপুর গ্রামের মো. আলিম কাজীর ছেলে মো. পান্নু কাজীর (২২) বিয়ে হয়। পরিবারের দাবি, বিয়ের সময় নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় দুই লাখ টাকার উপহার দেওয়া হলেও বিয়ের পর থেকেই আরও দুই লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে মীমের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়।

একপর্যায়ে মীমকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া এবং যৌতুক না দিলে তালাক দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরে তিনি নিজেই বাদী হয়ে ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় আদালতে একটি মামলা করেন।

মামলা দায়েরের পর উভয় পক্ষের মধ্যে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে মীমকে পুনরায় শ্বশুরবাড়িতে নেওয়া হয়। তবে পরিবারের অভিযোগ, কিছুদিন পর আবারও যৌতুকের দাবি করা হয়। একই সঙ্গে স্বামীর পরকীয়ার বিষয় জেনে ফেলায় তাঁর ওপর নির্যাতন আরও বেড়ে যায়।

নিহতের পরিবারের দাবি, গত ১৬ আগস্ট মীমকে মারধর করা হলে তিনি প্রাণভয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ ঘটনার দৃশ্য স্থানীয় একটি দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে বলে তারা জানান।

পরদিন ১৭ আগস্ট দুপুরে মীমকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন নিহতের স্বজনরা। পরে পুলিশ ও স্থানীয় একটি মহল ঘটনাটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হিসেবে নেওয়ার চেষ্টা করেছে অভিযোগ করে নিহতের বাবা আদালতে হত্যা মামলা করেন।

মানববন্ধনে নিহত মীম আক্তারের মা-বাবা ও স্থানীয়রা বলেন, যৌতুকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেও মেয়েকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তারা প্রধান অভিযুক্ত স্বামী পান্নু কাজীসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

তবে হত্যার অভিযোগ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।