ঢাকা , শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

পদ্মা নদীর তড়িয়া মহলে অবৈধ বালু সংরক্ষণ রোধে ফের লাল পতাকা

ইসমাইল হোসেন বাবু:

 

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীর তড়িয়া বালুমহলে অবৈধভাবে বালু সংরক্ষণ প্রতিরোধে ফের লাল পতাকা স্থাপন করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে বালু স্থানান্তরে ব্যবহৃত পাইপলাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

 

বুধবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের পদ্মা নদীসংলগ্ন পশ্চিম বাহিরচর ও চররূপপুর মৌজার মুন্সিপাড়া ও টিকটিকিপাড়া ঘাটের তড়িয়া মহলে অভিযান চালান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিরুল আরাফাত। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডা. গাজী আশিক বাহার ও ভেড়ামারা থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

অভিযান সূত্রে জানা যায়, তড়িয়া বালুমহলে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু সংরক্ষণ ও উত্তোলনের কারণে পদ্মা নদীতে ভাঙন তীব্র হয়েছে। এতে গত কয়েক বছরে শত শত একর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পাশাপাশি হার্ডিঞ্জ রেলসেতু, লালন শাহ সেতু, ভারত-বাংলাদেশ কম্বাইন্ড বিদ্যুৎ প্রকল্প ও পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

 

বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা, গোলাগুলি ও হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা এবং পরিবেশ বিপর্যয় রোধে গত ৬ জুন উপজেলা প্রশাসনের একটি দল পুরো বালুমহলে লাল পতাকা স্থাপন করে। এর আগে ৪ জুন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্তৃপক্ষও বাহিরচর ইউনিয়নের বালুমহালের রাস্তা বরাবর লাল পতাকা টাঙিয়েছিল।

 

তবে অভিযোগ রয়েছে, নিষেধাজ্ঞা ও সতর্কতার পরও অসাধু ব্যবসায়ীরা নিয়মের তোয়াক্কা না করে বালু সংরক্ষণ ও স্থানান্তরের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার সন্ধ্যায় দ্বিতীয়বারের মতো অভিযান চালিয়ে তড়িয়া মহলে লাল পতাকা স্থাপন করা হয় এবং পাইপলাইন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

 

ইউএনও মো. আমিরুল আরাফাত বলেন, “তড়িয়া মহলে দ্বিতীয়বারের মতো লাল নিশান স্থাপন করা হলো। এর আগে সতর্কীকরণ সাইনবোর্ডও স্থাপন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযানও পরিচালনা করা হয়। এতসব করার পরও অসাধু চক্রকে ঠেকানো যাচ্ছে না।”

 

তিনি আরও জানান, অবৈধ বালু সংরক্ষণ ও উত্তোলন বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

গোমস্তাপুর সীমান্তে ৬ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ বিএসএফ

error: Content is protected !!

পদ্মা নদীর তড়িয়া মহলে অবৈধ বালু সংরক্ষণ রোধে ফের লাল পতাকা

আপডেট টাইম : ৪ ঘন্টা আগে
ইসমাইল হোসেন বাবু, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার :

ইসমাইল হোসেন বাবু:

 

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীর তড়িয়া বালুমহলে অবৈধভাবে বালু সংরক্ষণ প্রতিরোধে ফের লাল পতাকা স্থাপন করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে বালু স্থানান্তরে ব্যবহৃত পাইপলাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

 

বুধবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের পদ্মা নদীসংলগ্ন পশ্চিম বাহিরচর ও চররূপপুর মৌজার মুন্সিপাড়া ও টিকটিকিপাড়া ঘাটের তড়িয়া মহলে অভিযান চালান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিরুল আরাফাত। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডা. গাজী আশিক বাহার ও ভেড়ামারা থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

অভিযান সূত্রে জানা যায়, তড়িয়া বালুমহলে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু সংরক্ষণ ও উত্তোলনের কারণে পদ্মা নদীতে ভাঙন তীব্র হয়েছে। এতে গত কয়েক বছরে শত শত একর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পাশাপাশি হার্ডিঞ্জ রেলসেতু, লালন শাহ সেতু, ভারত-বাংলাদেশ কম্বাইন্ড বিদ্যুৎ প্রকল্প ও পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

 

বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা, গোলাগুলি ও হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা এবং পরিবেশ বিপর্যয় রোধে গত ৬ জুন উপজেলা প্রশাসনের একটি দল পুরো বালুমহলে লাল পতাকা স্থাপন করে। এর আগে ৪ জুন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্তৃপক্ষও বাহিরচর ইউনিয়নের বালুমহালের রাস্তা বরাবর লাল পতাকা টাঙিয়েছিল।

 

তবে অভিযোগ রয়েছে, নিষেধাজ্ঞা ও সতর্কতার পরও অসাধু ব্যবসায়ীরা নিয়মের তোয়াক্কা না করে বালু সংরক্ষণ ও স্থানান্তরের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার সন্ধ্যায় দ্বিতীয়বারের মতো অভিযান চালিয়ে তড়িয়া মহলে লাল পতাকা স্থাপন করা হয় এবং পাইপলাইন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

 

ইউএনও মো. আমিরুল আরাফাত বলেন, “তড়িয়া মহলে দ্বিতীয়বারের মতো লাল নিশান স্থাপন করা হলো। এর আগে সতর্কীকরণ সাইনবোর্ডও স্থাপন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযানও পরিচালনা করা হয়। এতসব করার পরও অসাধু চক্রকে ঠেকানো যাচ্ছে না।”

 

তিনি আরও জানান, অবৈধ বালু সংরক্ষণ ও উত্তোলন বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।