ঢাকা , শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

পলাশবাড়ীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ভাতিজা ও ভাবিকে পিটিয়ে-কুপিয়ে জখম, থানায় এজাহার

আশরাফুজ্জামানঃ

 

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে জায়গা-জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জের ধরে আপন ভাতিজা ও ভাবিকে লোহার রড ও ধারালো ছোরা দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে চাচার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মাথায় ৮টি সেলাইসহ হাত ভেঙে গেছে এবং সঙ্গে থাকা স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।

 

​গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার বরিশাল ইউপির মকদমপুর গ্রামের এক মুদি দোকানের সামনে এ লোমহর্ষক হামলার ঘটনা ঘটে।

 

​ঘটনার শিকার জখমীদের পরিবার সূত্রে জানা যায়, বরিশাল (মকদমপুর) গ্রামের মৃত বাচ্চা মিয়ার ছেলে মোঃ জাইদুল ইসলামের (৪৭) সঙ্গে তার আপন ছোট ভাই মোঃ সাইদুল ইসলাম কাঞ্চে (৪২) ও তার স্ত্রী মোছাঃ ছাবিনা বেগমের (৩৮) দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ও জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।

 

​এরই জের ধরে ঘটনার দিন সাইদুল ইসলাম কাঞ্চে ও তার স্ত্রী ছাবিনা বেগমসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জন পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র (লোহার রড ও ছোরা) নিয়ে জাইদুল ইসলামের বসতবাড়ির পাশে শাহ আলমের মুদি দোকানের সামনে অবস্থান নেয়। এ সময় জাইদুল ইসলামের ছেলে মোঃ সুমন মিয়া (১৭) ও স্ত্রী মোছাঃ সোনালী বেগমকে দেখতে পেয়ে তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে।

 

​প্রতিবাদ করলে ১ নং আসামি সাইদুল ইসলামের হুকুমে তার স্ত্রী ছাবিনা বেগম লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। একপর্যায়ে সাইদুল ইসলাম তার হাতে থাকা ধারালো ছোরা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে ভাতিজা সুমনের মাথার পেছনে সজোরে কোপ মারেন। এতে মাথা কেটে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয় (পরবর্তীতে সেখানে ৮টি সেলাই দেওয়া হয়)। এরপর ছাবিনা বেগম লোহার রড দিয়ে ফের সুমনের মাথায় আঘাত করতে গেলে তা ঠেকানোর সময় তার ডান হাতের কব্জি ও বৃদ্ধাঙ্গুলিতে লেগে হাড় ভেঙে যায়।

 

​হামলাকারীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে জাইদুল ইসলামের স্ত্রী সোনালী বেগমকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে এবং তার গলায় থাকা প্রায় ৬৪ হাজার টাকা মূল্যের চার আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। সুমন মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়।

 

​পরবর্তীতে জখমীদের ডাকচিকিৎকারে জাইদুল ইসলাম ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী শামীম, শাহ আলম, ফজলু ও শাহিনসহ আশেপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে আসামিরা সুযোগ পেলে সবাইকে জানমালের ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।

 

​পরে স্বজনরা গুরুতর আহত সুমনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করান। বর্তমানে সে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আঘাতপ্রাপ্ত সোনালী বেগম স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

​এ বিষয়ে ভুক্তভোগী জাইদুল ইসলাম বাদী হয়ে সাইদুল ইসলাম কাঞ্চে ও তার স্ত্রী ছাবিনা বেগমসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে পলাশবাড়ী থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।

 

​মামলার বিষয়ে পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, লিখিত এজাহার পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সীমান্ত এলাকায় ইয়াবা-গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার

error: Content is protected !!

পলাশবাড়ীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ভাতিজা ও ভাবিকে পিটিয়ে-কুপিয়ে জখম, থানায় এজাহার

আপডেট টাইম : ০২:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আশরাফুজ্জামান, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি :

আশরাফুজ্জামানঃ

 

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে জায়গা-জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জের ধরে আপন ভাতিজা ও ভাবিকে লোহার রড ও ধারালো ছোরা দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে চাচার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মাথায় ৮টি সেলাইসহ হাত ভেঙে গেছে এবং সঙ্গে থাকা স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।

 

​গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার বরিশাল ইউপির মকদমপুর গ্রামের এক মুদি দোকানের সামনে এ লোমহর্ষক হামলার ঘটনা ঘটে।

 

​ঘটনার শিকার জখমীদের পরিবার সূত্রে জানা যায়, বরিশাল (মকদমপুর) গ্রামের মৃত বাচ্চা মিয়ার ছেলে মোঃ জাইদুল ইসলামের (৪৭) সঙ্গে তার আপন ছোট ভাই মোঃ সাইদুল ইসলাম কাঞ্চে (৪২) ও তার স্ত্রী মোছাঃ ছাবিনা বেগমের (৩৮) দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ও জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।

 

​এরই জের ধরে ঘটনার দিন সাইদুল ইসলাম কাঞ্চে ও তার স্ত্রী ছাবিনা বেগমসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জন পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র (লোহার রড ও ছোরা) নিয়ে জাইদুল ইসলামের বসতবাড়ির পাশে শাহ আলমের মুদি দোকানের সামনে অবস্থান নেয়। এ সময় জাইদুল ইসলামের ছেলে মোঃ সুমন মিয়া (১৭) ও স্ত্রী মোছাঃ সোনালী বেগমকে দেখতে পেয়ে তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে।

 

​প্রতিবাদ করলে ১ নং আসামি সাইদুল ইসলামের হুকুমে তার স্ত্রী ছাবিনা বেগম লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। একপর্যায়ে সাইদুল ইসলাম তার হাতে থাকা ধারালো ছোরা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে ভাতিজা সুমনের মাথার পেছনে সজোরে কোপ মারেন। এতে মাথা কেটে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয় (পরবর্তীতে সেখানে ৮টি সেলাই দেওয়া হয়)। এরপর ছাবিনা বেগম লোহার রড দিয়ে ফের সুমনের মাথায় আঘাত করতে গেলে তা ঠেকানোর সময় তার ডান হাতের কব্জি ও বৃদ্ধাঙ্গুলিতে লেগে হাড় ভেঙে যায়।

 

​হামলাকারীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে জাইদুল ইসলামের স্ত্রী সোনালী বেগমকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে এবং তার গলায় থাকা প্রায় ৬৪ হাজার টাকা মূল্যের চার আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। সুমন মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়।

 

​পরবর্তীতে জখমীদের ডাকচিকিৎকারে জাইদুল ইসলাম ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী শামীম, শাহ আলম, ফজলু ও শাহিনসহ আশেপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে আসামিরা সুযোগ পেলে সবাইকে জানমালের ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।

 

​পরে স্বজনরা গুরুতর আহত সুমনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করান। বর্তমানে সে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আঘাতপ্রাপ্ত সোনালী বেগম স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

​এ বিষয়ে ভুক্তভোগী জাইদুল ইসলাম বাদী হয়ে সাইদুল ইসলাম কাঞ্চে ও তার স্ত্রী ছাবিনা বেগমসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে পলাশবাড়ী থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।

 

​মামলার বিষয়ে পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, লিখিত এজাহার পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।