ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

নোয়াখালীতে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা, লাশ ফেলে পালালেন স্বামী

মোহাম্মদ আবু নাছেরঃ

 

নোয়াখালীর হাতিয়াতে পারিবারিক কলহের জেরে তাজ নাহার (৩২) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযিাগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর স্ত্রী মারা গেছে বুঝতে পেরে অভিযুক্ত স্বামী মো. মিলন (৩৮) পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, একই দিন ভোরে উপজেলার হরণী ইউনিয়নের আলআমিন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

 

নিহত তাজ নাহার উপজেলার তমরদ্দি ইউনিয়নের আব্দুল জলিলের মেয়ে এবং তিন সন্তানের জননী ছিলেন। অভিযুক্ত স্বামী মিলন উপজেলার আলআমিন গ্রামের হোসেনের ছেলে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে বৃহস্পতিবার ভোর রাতের দিকে মিলন তার স্ত্রী তাজ নাহারকে এস এসের পাইপ দিয়ে মাথায়, হাতে বেধড়ক মারধর করেন। এতে তার মাথা, মুখমণ্ডল ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে এবং ডান হাতের কব্জি ভেঙে যায়। মারধরের একপর্যায়ে সকাল ছয়টার দিকে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

 

পরে সকাল নয়টার দিকে তাকে স্থানীয় আবু সাঈদ বাজারের এক পল্লি চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পর স্ত্রী মারা গেছে শুনে মিলন সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে স্বজনরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর বিকেল চারটার দিকে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে মোরশেদ বাজার তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

 

মোরশেদ বাজার তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. শহিদ উল্যাহ জানান, সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহত নারীর মাথা, মুখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং ডান হাতের কব্জি ভাঙা ছিল। প্রাথমিকভাবে স্বামীর মারধরেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর নির্যাতনে গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছেন এবং তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

 

তিনি আরও জানান, নিহত নারীর পরিবারের সদস্যদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পল্লীর শিশুদের জন্য আশীর্বাদ ডা. আব্দুর রহিমের শিফা মেডিকেল সেন্টার

error: Content is protected !!

নোয়াখালীতে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা, লাশ ফেলে পালালেন স্বামী

আপডেট টাইম : ০৩:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
মোহাম্মদ আবু নাছের, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি :

মোহাম্মদ আবু নাছেরঃ

 

নোয়াখালীর হাতিয়াতে পারিবারিক কলহের জেরে তাজ নাহার (৩২) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযিাগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর স্ত্রী মারা গেছে বুঝতে পেরে অভিযুক্ত স্বামী মো. মিলন (৩৮) পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, একই দিন ভোরে উপজেলার হরণী ইউনিয়নের আলআমিন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

 

নিহত তাজ নাহার উপজেলার তমরদ্দি ইউনিয়নের আব্দুল জলিলের মেয়ে এবং তিন সন্তানের জননী ছিলেন। অভিযুক্ত স্বামী মিলন উপজেলার আলআমিন গ্রামের হোসেনের ছেলে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে বৃহস্পতিবার ভোর রাতের দিকে মিলন তার স্ত্রী তাজ নাহারকে এস এসের পাইপ দিয়ে মাথায়, হাতে বেধড়ক মারধর করেন। এতে তার মাথা, মুখমণ্ডল ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে এবং ডান হাতের কব্জি ভেঙে যায়। মারধরের একপর্যায়ে সকাল ছয়টার দিকে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

 

পরে সকাল নয়টার দিকে তাকে স্থানীয় আবু সাঈদ বাজারের এক পল্লি চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পর স্ত্রী মারা গেছে শুনে মিলন সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে স্বজনরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর বিকেল চারটার দিকে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে মোরশেদ বাজার তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

 

মোরশেদ বাজার তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. শহিদ উল্যাহ জানান, সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহত নারীর মাথা, মুখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং ডান হাতের কব্জি ভাঙা ছিল। প্রাথমিকভাবে স্বামীর মারধরেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর নির্যাতনে গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছেন এবং তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

 

তিনি আরও জানান, নিহত নারীর পরিবারের সদস্যদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।