ঢাকা , মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

ধানের বিল আটকে টাকা দাবির অভিযোগ, ইউএনওর দ্বারস্থ গঙ্গাচড়ার কৃষক

গোলাম রাব্বীঃ 

 

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা খাদ্য গুদামের (এলএসডি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম খানের বিরুদ্ধে সরকারি ধানের বিল পরিশোধের আগে উৎকোচ দাবি, কৃষককে অপমান এবং বিল আটকে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের বাগপুর বাগেরহাট গ্রামের কৃষক মো. বকুল মিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চলতি সরকারি ধান সংগ্রহ কর্মসূচির আওতায় গত ১৪ ও ১৫ জুলাই তিন টন ধান গঙ্গাচড়া এলএসডি গুদামে সরবরাহ করেন বকুল মিয়া। পরে ১৬ জুলাই ধানের মূল্য পরিশোধের বিষয়ে জানতে গুদামে গেলে তার কাছে প্রতি টনে তিন হাজার টাকা করে উৎকোচ দাবি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

বকুল মিয়ার দাবি, তিনি অতিরিক্ত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার বিল আটকে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। একই সঙ্গে তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং গুদামের কয়েকজন শ্রমিকের সহায়তায় অফিস কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়।

 

 

লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, একজন প্রকৃত কৃষক হিসেবে সরকারি নিয়ম মেনে ধান সরবরাহ করার পরও বিল পেতে ঘুষের চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

 

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, চলতি মৌসুমে গঙ্গাচড়া এলএসডির সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ে একের পর এক অভিযোগ উঠছে। এর আগেও প্রকৃত কৃষকদের পরিবর্তে ব্যবসায়ী ও চালকল মালিকদের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ, প্রতি টনে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা উৎকোচ আদায় এবং একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ সামনে আসে। ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যবসায়ীর নাম উল্লেখ করে পৃথক অভিযোগও দায়ের করা হয়েছিল, যার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে।

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম খানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পূর্বে তিনি এ ধরনের সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছিলেন, সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করেই কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই।

 

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এদিকে, সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে ধারাবাহিক অভিযোগে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ ও উদ্বেগ বাড়ছে। তারা দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মাগুরায় স্কুলছাত্রী রাজিয়া হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

error: Content is protected !!

ধানের বিল আটকে টাকা দাবির অভিযোগ, ইউএনওর দ্বারস্থ গঙ্গাচড়ার কৃষক

আপডেট টাইম : ১০:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
গোলাম রাব্বী, গংগাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি :

গোলাম রাব্বীঃ 

 

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা খাদ্য গুদামের (এলএসডি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম খানের বিরুদ্ধে সরকারি ধানের বিল পরিশোধের আগে উৎকোচ দাবি, কৃষককে অপমান এবং বিল আটকে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের বাগপুর বাগেরহাট গ্রামের কৃষক মো. বকুল মিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চলতি সরকারি ধান সংগ্রহ কর্মসূচির আওতায় গত ১৪ ও ১৫ জুলাই তিন টন ধান গঙ্গাচড়া এলএসডি গুদামে সরবরাহ করেন বকুল মিয়া। পরে ১৬ জুলাই ধানের মূল্য পরিশোধের বিষয়ে জানতে গুদামে গেলে তার কাছে প্রতি টনে তিন হাজার টাকা করে উৎকোচ দাবি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

বকুল মিয়ার দাবি, তিনি অতিরিক্ত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার বিল আটকে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। একই সঙ্গে তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং গুদামের কয়েকজন শ্রমিকের সহায়তায় অফিস কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়।

 

 

লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, একজন প্রকৃত কৃষক হিসেবে সরকারি নিয়ম মেনে ধান সরবরাহ করার পরও বিল পেতে ঘুষের চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

 

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, চলতি মৌসুমে গঙ্গাচড়া এলএসডির সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ে একের পর এক অভিযোগ উঠছে। এর আগেও প্রকৃত কৃষকদের পরিবর্তে ব্যবসায়ী ও চালকল মালিকদের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ, প্রতি টনে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা উৎকোচ আদায় এবং একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ সামনে আসে। ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যবসায়ীর নাম উল্লেখ করে পৃথক অভিযোগও দায়ের করা হয়েছিল, যার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে।

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম খানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পূর্বে তিনি এ ধরনের সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছিলেন, সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করেই কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই।

 

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এদিকে, সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে ধারাবাহিক অভিযোগে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ ও উদ্বেগ বাড়ছে। তারা দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।