ঢাকা , শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo মোবাইল চার্জ দিতে গিয়ে কিশোরীর মৃত্যু Logo ফরিদপুরে ওজোপাডিকোর উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত Logo বাংলাদেশের আকাশে রহস্যময় আলোর ঝলকানি ঘিরে যা জানা যাচ্ছে Logo দেড় লাখ টাকার গাছ ৫০ হাজারে নিলাম Logo ফরিদপুরে ট্রিপল মার্ডারঃ ১০ ঘণ্টায় গ্রেফতার প্রধান আসামি, উদ্ধার কোদাল Logo ফরিদপুরে ‘শ্মশান বন্ধু’ কানু সেন অনেকটাই সুস্থ Logo বাঘায় সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিতঃ উপস্থিতির হারে বালিকা এগিয়ে Logo নরসিংদীর শিবপুরে ২৬ মামলার আসামিসহ দুই ডাকাত গ্রেপ্তার Logo খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে পালিত হবে আগামীকাল Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক উদ্ধার
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

দৌলতপুরে ‘পীর’ শামীম হত্যাঃ একমাস পার হলেও ধরা পড়েনি আসামিরা

ইসমাইল হােসেন বাবুঃ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ‘পীর’ শামীম জাহাঙ্গীর ওরফে আব্দুর রহমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনা একমাস পার হলেও ধরা পড়েনি মামলার প্রধান আসামিসহ এজাহার নামীয় অপর ৩ আসামি। উদ্ধার হয়নি দরবার বা আস্তানা থেকে লুট হওয়া সামগ্রী। তবে পুলিশের দাবি পীর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত অনেকটা এগিয়েছে। ঘটনার দিনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে ভিডিও বিশ্লেষণ, গ্রেফতার হওয়া আসামিদের রিমান্ডে এনে জিঞ্জাসাবাদে তদন্তে অনেকটা অগ্রগতি হয়েছে।

 

এদিকে মামলার প্রধান আসামি ইসলামী ছাত্র শিবির কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ও দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য খাজা আহম্মেদ (৩৬) উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে পুলিশের কাছে আগাম জামিনের কোন তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। পলাতক রয়েছেন মামলার এজাহার নামীয় অপর দুই আসামি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ দৌলতপুর উপজেলা শাখার সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ (৪৮) ও সিহাব (সাফি) (৪৫)।

 

এরআগে ৩০ এপ্রিল রাতে পীর হত্যা মামলার ৩ নম্বর এজাহার নামীয় আসামি রাজিব মিস্ত্রি (৩২) ওরফে কিলার রাজিব কে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানা রোডের নাসিম হেয়ার ড্রেসার এর সামনে থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

 

হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার করা হয় ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের তছিকুল ইসলামের ছেলে দশম শ্রেণীর স্কুলছাত্র আলমগীর হোসেন (১৬), দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামের নাহারুল মন্ডলের ছেলে বিপ্লব হোসেন (২৬) ও রবিউল ইসলামের ছেলে আলিফ ইসলাম (২৩) কে। বিপ্লব হোসেন ও আলিফ ইসলামকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। সে তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত ও অভিযান চলামান রেখেছে। স্কুলছাত্র আলমগীর হোসেন রয়েছে কিশোর সংশোধনাগারে।

 

পীর শামীম হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দৌলতপুর থানার ওসি (তদন্ত) শেখ মোহাম্মদ আলী মর্তুজা জানান, মামলার তদন্তে অনেকটা অগ্রগতি রয়েছে। হত্যাকান্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে। তবে মামলার প্রধান আসামি খাজা আহম্মেদ উচ্চ আদালত থেকে জামিনে রযেছেন এমন তথ্য তাদের কাছে নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে এখনও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

 

এরআগে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ এনে ১১ এপ্রিল দুপুর আড়াইটার দিকে দৌলতপুর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে বিভিন্ন বয়সী শতাধিক বিক্ষুব্ধ জনতা পীর শামীম জাহাঙ্গীরের আস্তানা বা দরবারে হামলা চালায়। এসময় কিলার রাজিব মিস্ত্রিসহ হামলাকারী যুবকরা পীর শামীমকে তার কক্ষ থেকে টেনে হেঁচড়ে বের করে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে তাকে দোতলা থেকে নীচে ছুড়ে ফেলে। এরপর হামলাকারীরা সংগবদ্ধভাবে আস্তানায় আগুন জ¦ালিয়ে ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাটের তান্ডলীলা চালায়।

 

হত্যাকান্ডের ৩দিন পর ১৩ এপ্রিল রাতে নিহতের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক ফজলুর রহমান সান্টু বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৮০-২০০ জনকে আসামি করা হয়। এজাহার নামীয় আসামিদের মধ্যে রয়েছে ইসলামী ছাত্র শিবির কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ও দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য খাজা আহম্মেদ (৩৬)। তাকে ১নম্বর প্রধান আসামি করা হয়। মামলার অপর ৩ আসামি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ দৌলতপুর উপজেলা শাখার সভাপতি ও হোসেনাবাদ বিশ্বাসপাড়া গ্রামের মৃত এরশাদ আলীর ছেলে আসাদুজ্জামান আসাদ (৪৮), ফিলিপনগর এলাকার গাজী মিস্ত্রির ছেলে জামায়াত সমর্থক গ্রেফতার হওয়া রাজিব মিস্ত্রি (৩২) এবং স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক ও ফিলিপনগর ইসলামপুর গ্রামের সিহাব উদ্দিন ওরফে সাফি (৪৫)।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভাঙ্গায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

error: Content is protected !!

দৌলতপুরে ‘পীর’ শামীম হত্যাঃ একমাস পার হলেও ধরা পড়েনি আসামিরা

আপডেট টাইম : ১১:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
ইসমাইল হোসেন বাবু, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার :

ইসমাইল হােসেন বাবুঃ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ‘পীর’ শামীম জাহাঙ্গীর ওরফে আব্দুর রহমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনা একমাস পার হলেও ধরা পড়েনি মামলার প্রধান আসামিসহ এজাহার নামীয় অপর ৩ আসামি। উদ্ধার হয়নি দরবার বা আস্তানা থেকে লুট হওয়া সামগ্রী। তবে পুলিশের দাবি পীর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত অনেকটা এগিয়েছে। ঘটনার দিনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে ভিডিও বিশ্লেষণ, গ্রেফতার হওয়া আসামিদের রিমান্ডে এনে জিঞ্জাসাবাদে তদন্তে অনেকটা অগ্রগতি হয়েছে।

 

এদিকে মামলার প্রধান আসামি ইসলামী ছাত্র শিবির কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ও দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য খাজা আহম্মেদ (৩৬) উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে পুলিশের কাছে আগাম জামিনের কোন তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। পলাতক রয়েছেন মামলার এজাহার নামীয় অপর দুই আসামি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ দৌলতপুর উপজেলা শাখার সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ (৪৮) ও সিহাব (সাফি) (৪৫)।

 

এরআগে ৩০ এপ্রিল রাতে পীর হত্যা মামলার ৩ নম্বর এজাহার নামীয় আসামি রাজিব মিস্ত্রি (৩২) ওরফে কিলার রাজিব কে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানা রোডের নাসিম হেয়ার ড্রেসার এর সামনে থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

 

হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার করা হয় ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের তছিকুল ইসলামের ছেলে দশম শ্রেণীর স্কুলছাত্র আলমগীর হোসেন (১৬), দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামের নাহারুল মন্ডলের ছেলে বিপ্লব হোসেন (২৬) ও রবিউল ইসলামের ছেলে আলিফ ইসলাম (২৩) কে। বিপ্লব হোসেন ও আলিফ ইসলামকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। সে তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত ও অভিযান চলামান রেখেছে। স্কুলছাত্র আলমগীর হোসেন রয়েছে কিশোর সংশোধনাগারে।

 

পীর শামীম হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দৌলতপুর থানার ওসি (তদন্ত) শেখ মোহাম্মদ আলী মর্তুজা জানান, মামলার তদন্তে অনেকটা অগ্রগতি রয়েছে। হত্যাকান্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে। তবে মামলার প্রধান আসামি খাজা আহম্মেদ উচ্চ আদালত থেকে জামিনে রযেছেন এমন তথ্য তাদের কাছে নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে এখনও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

 

এরআগে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ এনে ১১ এপ্রিল দুপুর আড়াইটার দিকে দৌলতপুর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে বিভিন্ন বয়সী শতাধিক বিক্ষুব্ধ জনতা পীর শামীম জাহাঙ্গীরের আস্তানা বা দরবারে হামলা চালায়। এসময় কিলার রাজিব মিস্ত্রিসহ হামলাকারী যুবকরা পীর শামীমকে তার কক্ষ থেকে টেনে হেঁচড়ে বের করে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে তাকে দোতলা থেকে নীচে ছুড়ে ফেলে। এরপর হামলাকারীরা সংগবদ্ধভাবে আস্তানায় আগুন জ¦ালিয়ে ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাটের তান্ডলীলা চালায়।

 

হত্যাকান্ডের ৩দিন পর ১৩ এপ্রিল রাতে নিহতের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক ফজলুর রহমান সান্টু বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৮০-২০০ জনকে আসামি করা হয়। এজাহার নামীয় আসামিদের মধ্যে রয়েছে ইসলামী ছাত্র শিবির কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ও দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য খাজা আহম্মেদ (৩৬)। তাকে ১নম্বর প্রধান আসামি করা হয়। মামলার অপর ৩ আসামি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ দৌলতপুর উপজেলা শাখার সভাপতি ও হোসেনাবাদ বিশ্বাসপাড়া গ্রামের মৃত এরশাদ আলীর ছেলে আসাদুজ্জামান আসাদ (৪৮), ফিলিপনগর এলাকার গাজী মিস্ত্রির ছেলে জামায়াত সমর্থক গ্রেফতার হওয়া রাজিব মিস্ত্রি (৩২) এবং স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক ও ফিলিপনগর ইসলামপুর গ্রামের সিহাব উদ্দিন ওরফে সাফি (৪৫)।