ঢাকা , শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo মোবাইল চার্জ দিতে গিয়ে কিশোরীর মৃত্যু Logo ফরিদপুরে ওজোপাডিকোর উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত Logo বাংলাদেশের আকাশে রহস্যময় আলোর ঝলকানি ঘিরে যা জানা যাচ্ছে Logo দেড় লাখ টাকার গাছ ৫০ হাজারে নিলাম Logo ফরিদপুরে ট্রিপল মার্ডারঃ ১০ ঘণ্টায় গ্রেফতার প্রধান আসামি, উদ্ধার কোদাল Logo ফরিদপুরে ‘শ্মশান বন্ধু’ কানু সেন অনেকটাই সুস্থ Logo বাঘায় সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিতঃ উপস্থিতির হারে বালিকা এগিয়ে Logo নরসিংদীর শিবপুরে ২৬ মামলার আসামিসহ দুই ডাকাত গ্রেপ্তার Logo খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে পালিত হবে আগামীকাল Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক উদ্ধার
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

তানোরে ৩৮ বছরেও বাবার কাছ থেকে সন্তানের স্বীকৃতি মেলেনি

আলিফ হোসেনঃ

অবিশ্বাস্য, অকল্পনীয় কোনো বিশেষণে বিশেষায়িত করা যাবে না। এতোদিন যা নাটক বা সিনেমায় দেখা গেছে, রাজশাহীর তানোরে বাস্তবে সেই ঘটনা ঘটেছে। এঘটনাকে কেন্দ্র করে থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগও হয়েছে। হারুন আলী (৩৮) জন্মের পর থেকেই পিতার স্বীকৃতি পায়নি। বাবার আদর-স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়ে শৈশব-কৈশোর কাটিয়েছেন তানোরের কলমা গ্রামের বাসিন্দা হারুন। অনাদরে বড় হওয়ার বেদনা বুকে চেপে পড়াশোনা করতেই পারেনি। কিন্তু হারুনের এখনকার সংকট দুমড়েমুচড়ে শেষ করে দিচ্ছে তাঁকে। হারুনের অভিযোগ কলমা আইডিয়াল স্কুলের পরিচালক ও তার বোন জামাই সাদিকুল ইসলাম ঘটনা ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।এমনকি সাদিকুলের নেতৃত্বে কলমা বাজারে হারুনকে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। কিন্ত্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি থানায় অভিযোগ করে হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পরেও হারুন কোনো বিচার পায়নি।

 

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার কলমা ইউনিয়নের (ইউপি) কলমা গ্রামের বিত্তবান মৃত বিকল হাজীর বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন জনৈক নারী। এমতাবস্থায় বিকলের পুত্র কলেজ পড়ুয়া শফিকুল ইসলাম তার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলে। এক পর্যায়ে ওই নারী শফিকুলের লালসার শিকার হয়ে অবৈধ সম্পর্কে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। এসময় শফিকুল তার গর্ভের সন্তান নস্টের জন্য তাকে কিছু টাকা দেয়। কিন্তু সে গর্ভের সন্তান নস্ট করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে সন্তান ভূমিষ্ঠ হবার পর ঘটনা গ্রামের মানুষের মাঝে জানাজানি হয়।  ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্থানীয়ভাবে সালিস বৈঠক বসিয়ে শফিকুলের কিছু টাকা জরিমানা করে দায়মুক্তি দেয়া হয়।

 

এদিকে শফিকুল দ্রুত পিঁপড়াকালনা গ্রামে বিবাহ করেন এবং তার দুটি কন্যা সন্তান হয়। তিনি সম্পত্তি হারানোর ভয়ে দ্রুত তার সমস্ত সম্পত্তি তার মেয়ের নামে রেজিস্ট্রি করে দিয়ে এখন ঘর শশুর হয়ে জামাই সাদিকুল ইসলামের বাড়িতে রয়েছেন। ভুক্তভোগী ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে তার পিতৃত্ব পরিচয় নিশ্চিত করার দাবি করেছেন। ভুক্তভোগী বলেন, পিতৃত্বের স্বীকৃতি দিলে তাকে জমি দিতে হবে তাই সাদিকুল ইসলাম এসব করছে।তিনি বলেন, সাদিকুলের স্কুলেও নানা অপকর্ম হয় এটা সবাই জানে।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলমা বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সাদিকুল ইসলামের কারণে এবিষয়ে কোনো সমঝোতা হচ্ছে না।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সম্প্রতি শফিকুলের মেয়ের জামাই ও কলমা আইডিয়াল স্কুলের পরিচালক সাদিকুল ইসলাম তার স্কুলের ২১ জন ছাত্র নিয়ে হারুনের বাড়িতে হামলা করে। এসময় হারুন জীবন বাঁচাতে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। তবে আশার সময় সাদিকুল হুমকি দিয়ে আসে এর পর যদি হারুন পিতৃত্ব স্বীকৃতির দাবি নিয়ে আসে তবে তাকে পৃথিবী থেকে বিদায় করা হবে। অথচ হারুনের জাতীয় পরিচয় পত্রে তার পিতার নাম শফিকুল ইসলাম রয়েছে, যে পরিচয়পত্র শফিকুল নিজেই তাকে করে দিয়েছেন।

 

এনিয়ে বিবাদমান দুপক্ষের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অন্যদিকে স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ক্যাডার হিসেবে ব্যবহার করায় অভিভাবক মহলে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে। এবিষয়ে জানতে চাইলে শফিকুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অনেক আগে একটা সমস্যা হয়েছিল সেটা সমাধান করা হয়েছে। এখন তাকে ফাঁসানোর জন্য এসব করা হচ্ছে।

 

এবিষয়ে জানতে চাইলে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সাদিকুল ইসলাম বলেন, হারুন প্রমান দিক সে তার শশুরের পুত্র তাহলে তিনি নিজে তাকে জমি দিবেন। তিনি বলেন, একটি পরিবার তাদের ফাঁসাতে এসব ষড়যন্ত্র করছে।

 

এদিকে স্থানীয় সুশিল সমাজ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, আইন সহায়তা কেন্দ্র ও লিগ্যাল এইড-এর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনার পাশাপাশি সহায়তার আহবান জানিয়েছেন।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভাঙ্গায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

error: Content is protected !!

তানোরে ৩৮ বছরেও বাবার কাছ থেকে সন্তানের স্বীকৃতি মেলেনি

আপডেট টাইম : ৫ ঘন্টা আগে
আলিফ হোসেন, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি :

আলিফ হোসেনঃ

অবিশ্বাস্য, অকল্পনীয় কোনো বিশেষণে বিশেষায়িত করা যাবে না। এতোদিন যা নাটক বা সিনেমায় দেখা গেছে, রাজশাহীর তানোরে বাস্তবে সেই ঘটনা ঘটেছে। এঘটনাকে কেন্দ্র করে থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগও হয়েছে। হারুন আলী (৩৮) জন্মের পর থেকেই পিতার স্বীকৃতি পায়নি। বাবার আদর-স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়ে শৈশব-কৈশোর কাটিয়েছেন তানোরের কলমা গ্রামের বাসিন্দা হারুন। অনাদরে বড় হওয়ার বেদনা বুকে চেপে পড়াশোনা করতেই পারেনি। কিন্তু হারুনের এখনকার সংকট দুমড়েমুচড়ে শেষ করে দিচ্ছে তাঁকে। হারুনের অভিযোগ কলমা আইডিয়াল স্কুলের পরিচালক ও তার বোন জামাই সাদিকুল ইসলাম ঘটনা ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।এমনকি সাদিকুলের নেতৃত্বে কলমা বাজারে হারুনকে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। কিন্ত্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি থানায় অভিযোগ করে হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পরেও হারুন কোনো বিচার পায়নি।

 

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার কলমা ইউনিয়নের (ইউপি) কলমা গ্রামের বিত্তবান মৃত বিকল হাজীর বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন জনৈক নারী। এমতাবস্থায় বিকলের পুত্র কলেজ পড়ুয়া শফিকুল ইসলাম তার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলে। এক পর্যায়ে ওই নারী শফিকুলের লালসার শিকার হয়ে অবৈধ সম্পর্কে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। এসময় শফিকুল তার গর্ভের সন্তান নস্টের জন্য তাকে কিছু টাকা দেয়। কিন্তু সে গর্ভের সন্তান নস্ট করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে সন্তান ভূমিষ্ঠ হবার পর ঘটনা গ্রামের মানুষের মাঝে জানাজানি হয়।  ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্থানীয়ভাবে সালিস বৈঠক বসিয়ে শফিকুলের কিছু টাকা জরিমানা করে দায়মুক্তি দেয়া হয়।

 

এদিকে শফিকুল দ্রুত পিঁপড়াকালনা গ্রামে বিবাহ করেন এবং তার দুটি কন্যা সন্তান হয়। তিনি সম্পত্তি হারানোর ভয়ে দ্রুত তার সমস্ত সম্পত্তি তার মেয়ের নামে রেজিস্ট্রি করে দিয়ে এখন ঘর শশুর হয়ে জামাই সাদিকুল ইসলামের বাড়িতে রয়েছেন। ভুক্তভোগী ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে তার পিতৃত্ব পরিচয় নিশ্চিত করার দাবি করেছেন। ভুক্তভোগী বলেন, পিতৃত্বের স্বীকৃতি দিলে তাকে জমি দিতে হবে তাই সাদিকুল ইসলাম এসব করছে।তিনি বলেন, সাদিকুলের স্কুলেও নানা অপকর্ম হয় এটা সবাই জানে।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলমা বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সাদিকুল ইসলামের কারণে এবিষয়ে কোনো সমঝোতা হচ্ছে না।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সম্প্রতি শফিকুলের মেয়ের জামাই ও কলমা আইডিয়াল স্কুলের পরিচালক সাদিকুল ইসলাম তার স্কুলের ২১ জন ছাত্র নিয়ে হারুনের বাড়িতে হামলা করে। এসময় হারুন জীবন বাঁচাতে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। তবে আশার সময় সাদিকুল হুমকি দিয়ে আসে এর পর যদি হারুন পিতৃত্ব স্বীকৃতির দাবি নিয়ে আসে তবে তাকে পৃথিবী থেকে বিদায় করা হবে। অথচ হারুনের জাতীয় পরিচয় পত্রে তার পিতার নাম শফিকুল ইসলাম রয়েছে, যে পরিচয়পত্র শফিকুল নিজেই তাকে করে দিয়েছেন।

 

এনিয়ে বিবাদমান দুপক্ষের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অন্যদিকে স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ক্যাডার হিসেবে ব্যবহার করায় অভিভাবক মহলে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে। এবিষয়ে জানতে চাইলে শফিকুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অনেক আগে একটা সমস্যা হয়েছিল সেটা সমাধান করা হয়েছে। এখন তাকে ফাঁসানোর জন্য এসব করা হচ্ছে।

 

এবিষয়ে জানতে চাইলে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সাদিকুল ইসলাম বলেন, হারুন প্রমান দিক সে তার শশুরের পুত্র তাহলে তিনি নিজে তাকে জমি দিবেন। তিনি বলেন, একটি পরিবার তাদের ফাঁসাতে এসব ষড়যন্ত্র করছে।

 

এদিকে স্থানীয় সুশিল সমাজ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, আইন সহায়তা কেন্দ্র ও লিগ্যাল এইড-এর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনার পাশাপাশি সহায়তার আহবান জানিয়েছেন।