ঢাকা , সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

চরভদ্রাসনে কালবৈশাখীর তাণ্ডব: ১৩ ঘর বিধ্বস্ত, কোটি টাকার ফসলি জমি নষ্ট

আসলাম বেপারীঃ

 

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে আঘাত হানা প্রবল কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শুরু হওয়া এই ঝড়ে উপজেলার সদর ও গাজীরটেক ইউনিয়নে ১৩টি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি কলাবাগান ও ভুট্টাক্ষেতসহ বিপুল পরিমাণ ফসলের ক্ষতি হয়েছে। গাছপালা উপড়ে এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ায় যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে।

 

সরেজনিনে গিয়ে জানাজায়, ঝড়ে সদর ইউনিয়নে ১১টি এবং গাজীরটেক ইউনিয়নে ২টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ের তীব্রতায় মোহাম্মদ শাহিনের নির্মাণাধীন বেসরকারি মাদ্রাসা ‘আল জামিয়াতুস সালাফিয়া ইয়াফিয়াহ্’ মাটির সাথে মিশে গেছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও এখনো কোনো সরকারি সহায়তা তারা পায়নি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান বিন ইসলাম জানান, ঝড়ে প্রায় ৩০ হেক্টর কলাবাগান ও ৪০ হেক্টর ভুট্টাক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে অনেক ফসলি জমি আংশিক ও পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ ১ কোটি ২৩ লাখ টাকার বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

 

ঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন। চরভদ্রাসন সাব জোনাল বিদ্যুৎ অফিসের এজিএম মো. এনায়েত হোসেন জানান, বিভিন্ন স্থানে ১০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে, ১১২টি স্পটে তার ছিঁড়েছে এবং ৯৫টি মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।

 

চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজ জানান, ঝড়ের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে ঢেউটিন ও শুকনা খাবার বিতরণ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “বুধবার ও বৃহস্পতিবার মিলে মোট চার বান্ডেল ঢেউটিন প্রদান করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্তদের চেকের মাধ্যমে অর্থ, ঢেউটিন ও খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।”

 

ইতোমধ্যে সরকারি সহায়তা পেয়েছেন এইচ এম জাহাঙ্গীর আলম, জোসনা মৃধা ও কামাল খান। তাদের মধ্যে কামাল খান দুই বান্ডেল ঢেউটিন ও শুকনা খাবার হাতে পেয়ে প্রশাসন ও স্থানীয় চেয়ারম্যানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

 

সদর ইউপি চেয়ারম্যান আজাদ খান ও গাজীরটেক ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী জানিয়েছেন, তারা নিজ নিজ ইউনিয়নের ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করে উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অফিসে পাঠিয়েছেন এবং ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি করছেন।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আদালতের নির্দেশের পরও বিরোধপূর্ণ বাড়িতে বসবাস

error: Content is protected !!

চরভদ্রাসনে কালবৈশাখীর তাণ্ডব: ১৩ ঘর বিধ্বস্ত, কোটি টাকার ফসলি জমি নষ্ট

আপডেট টাইম : ০৯:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
আসলাম বেপারী, স্টাফ রিপোর্টার :

আসলাম বেপারীঃ

 

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে আঘাত হানা প্রবল কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শুরু হওয়া এই ঝড়ে উপজেলার সদর ও গাজীরটেক ইউনিয়নে ১৩টি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি কলাবাগান ও ভুট্টাক্ষেতসহ বিপুল পরিমাণ ফসলের ক্ষতি হয়েছে। গাছপালা উপড়ে এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ায় যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে।

 

সরেজনিনে গিয়ে জানাজায়, ঝড়ে সদর ইউনিয়নে ১১টি এবং গাজীরটেক ইউনিয়নে ২টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ের তীব্রতায় মোহাম্মদ শাহিনের নির্মাণাধীন বেসরকারি মাদ্রাসা ‘আল জামিয়াতুস সালাফিয়া ইয়াফিয়াহ্’ মাটির সাথে মিশে গেছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও এখনো কোনো সরকারি সহায়তা তারা পায়নি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান বিন ইসলাম জানান, ঝড়ে প্রায় ৩০ হেক্টর কলাবাগান ও ৪০ হেক্টর ভুট্টাক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে অনেক ফসলি জমি আংশিক ও পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ ১ কোটি ২৩ লাখ টাকার বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

 

ঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন। চরভদ্রাসন সাব জোনাল বিদ্যুৎ অফিসের এজিএম মো. এনায়েত হোসেন জানান, বিভিন্ন স্থানে ১০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে, ১১২টি স্পটে তার ছিঁড়েছে এবং ৯৫টি মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।

 

চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজ জানান, ঝড়ের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে ঢেউটিন ও শুকনা খাবার বিতরণ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “বুধবার ও বৃহস্পতিবার মিলে মোট চার বান্ডেল ঢেউটিন প্রদান করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্তদের চেকের মাধ্যমে অর্থ, ঢেউটিন ও খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।”

 

ইতোমধ্যে সরকারি সহায়তা পেয়েছেন এইচ এম জাহাঙ্গীর আলম, জোসনা মৃধা ও কামাল খান। তাদের মধ্যে কামাল খান দুই বান্ডেল ঢেউটিন ও শুকনা খাবার হাতে পেয়ে প্রশাসন ও স্থানীয় চেয়ারম্যানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

 

সদর ইউপি চেয়ারম্যান আজাদ খান ও গাজীরটেক ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী জানিয়েছেন, তারা নিজ নিজ ইউনিয়নের ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করে উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অফিসে পাঠিয়েছেন এবং ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি করছেন।