ঢাকা , শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo মোবাইল চার্জ দিতে গিয়ে কিশোরীর মৃত্যু Logo ফরিদপুরে ওজোপাডিকোর উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত Logo বাংলাদেশের আকাশে রহস্যময় আলোর ঝলকানি ঘিরে যা জানা যাচ্ছে Logo দেড় লাখ টাকার গাছ ৫০ হাজারে নিলাম Logo ফরিদপুরে ট্রিপল মার্ডারঃ ১০ ঘণ্টায় গ্রেফতার প্রধান আসামি, উদ্ধার কোদাল Logo ফরিদপুরে ‘শ্মশান বন্ধু’ কানু সেন অনেকটাই সুস্থ Logo বাঘায় সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিতঃ উপস্থিতির হারে বালিকা এগিয়ে Logo নরসিংদীর শিবপুরে ২৬ মামলার আসামিসহ দুই ডাকাত গ্রেপ্তার Logo খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে পালিত হবে আগামীকাল Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক উদ্ধার
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

চরভদ্রাসনে কালবৈশাখীর তাণ্ডব: ১৩ ঘর বিধ্বস্ত, কোটি টাকার ফসলি জমি নষ্ট

আসলাম বেপারীঃ

 

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে আঘাত হানা প্রবল কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শুরু হওয়া এই ঝড়ে উপজেলার সদর ও গাজীরটেক ইউনিয়নে ১৩টি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি কলাবাগান ও ভুট্টাক্ষেতসহ বিপুল পরিমাণ ফসলের ক্ষতি হয়েছে। গাছপালা উপড়ে এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ায় যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে।

 

সরেজনিনে গিয়ে জানাজায়, ঝড়ে সদর ইউনিয়নে ১১টি এবং গাজীরটেক ইউনিয়নে ২টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ের তীব্রতায় মোহাম্মদ শাহিনের নির্মাণাধীন বেসরকারি মাদ্রাসা ‘আল জামিয়াতুস সালাফিয়া ইয়াফিয়াহ্’ মাটির সাথে মিশে গেছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও এখনো কোনো সরকারি সহায়তা তারা পায়নি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান বিন ইসলাম জানান, ঝড়ে প্রায় ৩০ হেক্টর কলাবাগান ও ৪০ হেক্টর ভুট্টাক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে অনেক ফসলি জমি আংশিক ও পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ ১ কোটি ২৩ লাখ টাকার বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

 

ঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন। চরভদ্রাসন সাব জোনাল বিদ্যুৎ অফিসের এজিএম মো. এনায়েত হোসেন জানান, বিভিন্ন স্থানে ১০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে, ১১২টি স্পটে তার ছিঁড়েছে এবং ৯৫টি মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।

 

চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজ জানান, ঝড়ের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে ঢেউটিন ও শুকনা খাবার বিতরণ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “বুধবার ও বৃহস্পতিবার মিলে মোট চার বান্ডেল ঢেউটিন প্রদান করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্তদের চেকের মাধ্যমে অর্থ, ঢেউটিন ও খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।”

 

ইতোমধ্যে সরকারি সহায়তা পেয়েছেন এইচ এম জাহাঙ্গীর আলম, জোসনা মৃধা ও কামাল খান। তাদের মধ্যে কামাল খান দুই বান্ডেল ঢেউটিন ও শুকনা খাবার হাতে পেয়ে প্রশাসন ও স্থানীয় চেয়ারম্যানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

 

সদর ইউপি চেয়ারম্যান আজাদ খান ও গাজীরটেক ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী জানিয়েছেন, তারা নিজ নিজ ইউনিয়নের ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করে উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অফিসে পাঠিয়েছেন এবং ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি করছেন।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভাঙ্গায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

error: Content is protected !!

চরভদ্রাসনে কালবৈশাখীর তাণ্ডব: ১৩ ঘর বিধ্বস্ত, কোটি টাকার ফসলি জমি নষ্ট

আপডেট টাইম : ২০ ঘন্টা আগে
আসলাম বেপারী, স্টাফ রিপোর্টার :

আসলাম বেপারীঃ

 

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে আঘাত হানা প্রবল কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শুরু হওয়া এই ঝড়ে উপজেলার সদর ও গাজীরটেক ইউনিয়নে ১৩টি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি কলাবাগান ও ভুট্টাক্ষেতসহ বিপুল পরিমাণ ফসলের ক্ষতি হয়েছে। গাছপালা উপড়ে এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ায় যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে।

 

সরেজনিনে গিয়ে জানাজায়, ঝড়ে সদর ইউনিয়নে ১১টি এবং গাজীরটেক ইউনিয়নে ২টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ের তীব্রতায় মোহাম্মদ শাহিনের নির্মাণাধীন বেসরকারি মাদ্রাসা ‘আল জামিয়াতুস সালাফিয়া ইয়াফিয়াহ্’ মাটির সাথে মিশে গেছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও এখনো কোনো সরকারি সহায়তা তারা পায়নি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান বিন ইসলাম জানান, ঝড়ে প্রায় ৩০ হেক্টর কলাবাগান ও ৪০ হেক্টর ভুট্টাক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে অনেক ফসলি জমি আংশিক ও পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ ১ কোটি ২৩ লাখ টাকার বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

 

ঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন। চরভদ্রাসন সাব জোনাল বিদ্যুৎ অফিসের এজিএম মো. এনায়েত হোসেন জানান, বিভিন্ন স্থানে ১০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে, ১১২টি স্পটে তার ছিঁড়েছে এবং ৯৫টি মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।

 

চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজ জানান, ঝড়ের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে ঢেউটিন ও শুকনা খাবার বিতরণ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “বুধবার ও বৃহস্পতিবার মিলে মোট চার বান্ডেল ঢেউটিন প্রদান করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্তদের চেকের মাধ্যমে অর্থ, ঢেউটিন ও খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।”

 

ইতোমধ্যে সরকারি সহায়তা পেয়েছেন এইচ এম জাহাঙ্গীর আলম, জোসনা মৃধা ও কামাল খান। তাদের মধ্যে কামাল খান দুই বান্ডেল ঢেউটিন ও শুকনা খাবার হাতে পেয়ে প্রশাসন ও স্থানীয় চেয়ারম্যানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

 

সদর ইউপি চেয়ারম্যান আজাদ খান ও গাজীরটেক ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী জানিয়েছেন, তারা নিজ নিজ ইউনিয়নের ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করে উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অফিসে পাঠিয়েছেন এবং ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি করছেন।