ঢাকা , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

ত্যাগ-তিতিক্ষা ও সংগ্রামের প্রতীক হাসাদুল ইসলাম হীরা

শুভাশীষ ভট্টাচার্য্য তুষারঃ
পাবনা-৩ (চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর) আসনের রাজনীতিতে একটি পরিচিত নাম হাসাদুল ইসলাম হীরা। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির একজন নিবেদিতপ্রাণ, ত্যাগী ও মাঠপর্যায়ের নেতা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে সংগ্রাম করে আসছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একাধিকবার কারাভোগ, নির্যাতন ও জেল-জুলুমের শিকার হওয়া সত্ত্বেও তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাস ও আদর্শ থেকে তিনি এক ইঞ্চি পিছু হটেননি।
হীরা ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। রাজনীতির প্রতি তাঁর আগ্রহ শুরু হয় ছাত্রদল থেকেই। পরবর্তীতে  উপজেলা চেয়রাম্যানের ও পৌর মেয়রের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে তিনি হয়ে ওঠেন তৃণমূল নেতাদের আস্থার জায়গা। দলের দুঃসময়ে তিনি ছিলেন সবসময় সক্রিয়, নেতৃত্ব দিয়েছেন মিছিল, সমাবেশ ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতেও।
২০০৯ সালের পর যখন বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন শুরু হয়, তখনও হাসাদুল ইসলাম হীরা এলাকায় অবস্থান ধরে রাখেন। একাধিকবার তাঁকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়, নির্যাতন করা হয়। কয়েক বছর তিনি রাজপথ ও কারাগারের ভেতর-বাইরের জীবনেই কাটিয়েছেন। তবুও দলীয় কর্মীদের মনোবল হারাতে দেননি। নিজের সম্পদ, সময় ও শ্রম ঢেলে দিয়েছেন দলকে সংগঠিত করতে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৩ আসনে কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সভাপতি হাসান জারিফ তুহিনকে  মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এতে হতাশ হয়েছেন হীরার অনুসারীরা। তাঁরা মনে করেন, যিনি দলের জন্য এত ত্যাগ স্বীকার করেছেন, প্রতিটি আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাঁকে উপেক্ষা করা অন্যায় হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অনেকেই খোলামেলাভাবে বলছেন— “হীরা ভাই শুধু নেতা নন, তিনি আমাদের প্রেরণা। তাঁর মতো নেতাকে মনোনয়ন না দেওয়া মানে মাঠের কর্মীদের মন ভেঙে দেওয়া।”
হাসাদুল ইসলাম হীরার রাজনৈতিক জীবন শুধু ত্যাগের নয়, মানুষের প্রতি ভালোবাসারও গল্প। তিনি সবসময় সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থেকেছেন। বন্যা, শীত বা দুর্যোগে তিনি ছুটে গেছেন অসহায় মানুষের বাড়িতে, সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী। রাজনীতিকে তিনি কখনোই ক্ষমতার হাতিয়ার হিসেবে দেখেননি; বরং দেখেছেন মানুষের সেবা ও ন্যায়বিচারের সংগ্রাম হিসেবে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, পাবনা-৩ আসনে হাসাদুল ইসলাম হীরা এমন একজন নেতা, যাঁর জনপ্রিয়তা তৃণমূল পর্যায়ে গভীরভাবে প্রোথিত। তিনি শুধু দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝেই নন, সাধারণ ভোটারদের মাঝেও গ্রহণযোগ্য। তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভূমিকা ও ত্যাগ তাঁকে একজন নির্ভীক, জনবান্ধব নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বিগত কয়েকটি আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁকে সামনের সারিতে দেখা গেছে। কখনো দলের পতাকা হাতে রাস্তায়, কখনো মঞ্চে বক্তব্য দিতে গিয়ে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে আহত হয়েছেন। তবুও তাঁর মুখে কখনো হতাশার ছাপ দেখা যায়নি। তিনি বিশ্বাস করেন, সত্য ও ন্যায়বিচারের পথে চললে একদিন গণতন্ত্রের বিজয় হবেই।
দলের কর্মীদের মতে, হীরা শুধু একজন রাজনীতিক নন, তিনি একজন মানবিক মানুষও। এলাকায় কোনো বিপদ ঘটলে তাঁকেই আগে খুঁজে নেওয়া হয়। অনেকে বলেন, “হীরা ভাই থাকলেই আমরা নিরাপদ বোধ করি।” তাঁর এই জনপ্রিয়তা ও ত্যাগের কারণেই মনোনয়ন না পাওয়ার পরও সাধারণ কর্মীরা তাঁর পাশে রয়েছেন, তাঁকে সমর্থন জানাচ্ছেন।
পাবনা-৩ আসনে বিএনপির রাজনীতি বর্তমানে এক জটিল সময় পার করছে। একদিকে দলীয় অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা, অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক চাপ—সব মিলিয়ে মাঠপর্যায়ের নেতাদের জন্য কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবুও হাসাদুল ইসলাম হীরা মনে করেন, সংগ্রাম ছাড়া সাফল্য আসে না। তাঁর মতে, “জেল, জুলুম, নির্যাতন- সবই রাজনীতির অংশ। যিনি সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, তাঁকে এই পথ পাড়ি দিতেই হয়।”
রাজনীতির কঠিন বাস্তবতায় অনেকেই হতাশ হয়ে পড়লেও হাসাদুল ইসলাম হীরা বরাবরই আশাবাদী। তাঁর এক ঘনিষ্ঠ কর্মী বলেন, “হীরা ভাইয়ের মতো নেতারাই বিএনপির আসল সম্পদ। তাঁরা কখনো দমে যান না, তাঁরা লড়াই করেন বিশ্বাসের জায়গা থেকে।”
তাঁর এই বিশ্বাস, সাহস ও নিষ্ঠাই হয়তো একদিন তাঁকে আবারও রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসবে। তবে এখন তিনি নীরবে, কিন্তু দৃঢ়ভাবে দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন-একজন প্রকৃত ত্যাগী নেতার মতো।
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সেনবাগ বাজারে ফুটপাত দখলের মহোৎসব, নিরাপদ চলাচল এখন স্বপ্ন

error: Content is protected !!

ত্যাগ-তিতিক্ষা ও সংগ্রামের প্রতীক হাসাদুল ইসলাম হীরা

আপডেট টাইম : ১১:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫
শুভাশীষ ভট্টাচার্য্য তুষার, পাবনা জেলা প্রতিনিধি :
শুভাশীষ ভট্টাচার্য্য তুষারঃ
পাবনা-৩ (চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর) আসনের রাজনীতিতে একটি পরিচিত নাম হাসাদুল ইসলাম হীরা। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির একজন নিবেদিতপ্রাণ, ত্যাগী ও মাঠপর্যায়ের নেতা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে সংগ্রাম করে আসছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একাধিকবার কারাভোগ, নির্যাতন ও জেল-জুলুমের শিকার হওয়া সত্ত্বেও তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাস ও আদর্শ থেকে তিনি এক ইঞ্চি পিছু হটেননি।
হীরা ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। রাজনীতির প্রতি তাঁর আগ্রহ শুরু হয় ছাত্রদল থেকেই। পরবর্তীতে  উপজেলা চেয়রাম্যানের ও পৌর মেয়রের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে তিনি হয়ে ওঠেন তৃণমূল নেতাদের আস্থার জায়গা। দলের দুঃসময়ে তিনি ছিলেন সবসময় সক্রিয়, নেতৃত্ব দিয়েছেন মিছিল, সমাবেশ ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতেও।
২০০৯ সালের পর যখন বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন শুরু হয়, তখনও হাসাদুল ইসলাম হীরা এলাকায় অবস্থান ধরে রাখেন। একাধিকবার তাঁকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়, নির্যাতন করা হয়। কয়েক বছর তিনি রাজপথ ও কারাগারের ভেতর-বাইরের জীবনেই কাটিয়েছেন। তবুও দলীয় কর্মীদের মনোবল হারাতে দেননি। নিজের সম্পদ, সময় ও শ্রম ঢেলে দিয়েছেন দলকে সংগঠিত করতে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৩ আসনে কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সভাপতি হাসান জারিফ তুহিনকে  মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এতে হতাশ হয়েছেন হীরার অনুসারীরা। তাঁরা মনে করেন, যিনি দলের জন্য এত ত্যাগ স্বীকার করেছেন, প্রতিটি আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাঁকে উপেক্ষা করা অন্যায় হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অনেকেই খোলামেলাভাবে বলছেন— “হীরা ভাই শুধু নেতা নন, তিনি আমাদের প্রেরণা। তাঁর মতো নেতাকে মনোনয়ন না দেওয়া মানে মাঠের কর্মীদের মন ভেঙে দেওয়া।”
হাসাদুল ইসলাম হীরার রাজনৈতিক জীবন শুধু ত্যাগের নয়, মানুষের প্রতি ভালোবাসারও গল্প। তিনি সবসময় সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থেকেছেন। বন্যা, শীত বা দুর্যোগে তিনি ছুটে গেছেন অসহায় মানুষের বাড়িতে, সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী। রাজনীতিকে তিনি কখনোই ক্ষমতার হাতিয়ার হিসেবে দেখেননি; বরং দেখেছেন মানুষের সেবা ও ন্যায়বিচারের সংগ্রাম হিসেবে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, পাবনা-৩ আসনে হাসাদুল ইসলাম হীরা এমন একজন নেতা, যাঁর জনপ্রিয়তা তৃণমূল পর্যায়ে গভীরভাবে প্রোথিত। তিনি শুধু দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝেই নন, সাধারণ ভোটারদের মাঝেও গ্রহণযোগ্য। তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভূমিকা ও ত্যাগ তাঁকে একজন নির্ভীক, জনবান্ধব নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বিগত কয়েকটি আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁকে সামনের সারিতে দেখা গেছে। কখনো দলের পতাকা হাতে রাস্তায়, কখনো মঞ্চে বক্তব্য দিতে গিয়ে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে আহত হয়েছেন। তবুও তাঁর মুখে কখনো হতাশার ছাপ দেখা যায়নি। তিনি বিশ্বাস করেন, সত্য ও ন্যায়বিচারের পথে চললে একদিন গণতন্ত্রের বিজয় হবেই।
দলের কর্মীদের মতে, হীরা শুধু একজন রাজনীতিক নন, তিনি একজন মানবিক মানুষও। এলাকায় কোনো বিপদ ঘটলে তাঁকেই আগে খুঁজে নেওয়া হয়। অনেকে বলেন, “হীরা ভাই থাকলেই আমরা নিরাপদ বোধ করি।” তাঁর এই জনপ্রিয়তা ও ত্যাগের কারণেই মনোনয়ন না পাওয়ার পরও সাধারণ কর্মীরা তাঁর পাশে রয়েছেন, তাঁকে সমর্থন জানাচ্ছেন।
পাবনা-৩ আসনে বিএনপির রাজনীতি বর্তমানে এক জটিল সময় পার করছে। একদিকে দলীয় অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা, অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক চাপ—সব মিলিয়ে মাঠপর্যায়ের নেতাদের জন্য কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবুও হাসাদুল ইসলাম হীরা মনে করেন, সংগ্রাম ছাড়া সাফল্য আসে না। তাঁর মতে, “জেল, জুলুম, নির্যাতন- সবই রাজনীতির অংশ। যিনি সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, তাঁকে এই পথ পাড়ি দিতেই হয়।”
রাজনীতির কঠিন বাস্তবতায় অনেকেই হতাশ হয়ে পড়লেও হাসাদুল ইসলাম হীরা বরাবরই আশাবাদী। তাঁর এক ঘনিষ্ঠ কর্মী বলেন, “হীরা ভাইয়ের মতো নেতারাই বিএনপির আসল সম্পদ। তাঁরা কখনো দমে যান না, তাঁরা লড়াই করেন বিশ্বাসের জায়গা থেকে।”
তাঁর এই বিশ্বাস, সাহস ও নিষ্ঠাই হয়তো একদিন তাঁকে আবারও রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসবে। তবে এখন তিনি নীরবে, কিন্তু দৃঢ়ভাবে দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন-একজন প্রকৃত ত্যাগী নেতার মতো।