আলিফ হোসেনঃ
রাজশাহীর তানোরে অবৈধ সেচ মটরের পরিত্যক্ত বোরিংয়ের ৮ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের সরু গর্ত দিয়ে মাটির প্রায় ৩৫ ফুট গভীরে পড়ে গেছে সাজিদ হোসেন নামের ২ বছর বয়সী এক শিশু। তার বাবা নাম রাকিবুল ইসলাম।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের(ইউপি)কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে এঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও তানোর ৩টি ইউনিট শিশুটিকে জীবিত উদ্ধারে কাজ শুরু করেছে। একই সঙ্গে গর্তের ভিতরে দেওয়া হচ্ছে অক্সিজেন। ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক মানুষ উৎকন্ঠা নিয়ে অপেক্ষা করছে। ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসনসহ পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। সেখানে প্রস্তুত রাখা হয়েছে মেডিকেল টিমসহ এ্যাম্বুলেন্স।
কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আমজাদ হোসেন জানান, গ্রামের পাশের এ জমিটির মালিক একই গ্রামের মৃত তমির উদ্দিনের পুত্র কছির উদ্দিন নামের এক কৃষক। এক বছর আগে কছির উদ্দিন জমিতে সেচের জন্য একটি সেমিডিপ (সেচ মটর) নলকূপ বসানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ৩৫ ফুট বোরিং করার পর সেখানে পানি পাননি। তাই নলকূপ বসানো হয়নি। তবে এক বছর ধরে ৮ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের গর্তটি সেভাবেই পড়ে ছিল।
দুই বছর বয়সী শিশুটির মা রুনা খাতুন জানান, ওই মাঠে ধানগাছের খড় নিতে যাচ্ছিলাম দুই শিশুকে নিয়ে। এক শিশুকে কোল থেকে নামিয়ে দিই। সে আমার পিছনে পিছনে হাটছিল। পরে পিছনে তাকিয়ে দেখি ছেলে নেই। এর পর দেখি গর্ভের ভিতর থেকে মা মা করে ডাকছে।
রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক দিদারুল আলম বলেন, ‘‘প্রথমে স্থানীয়রা উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের তানোর, চাপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী সদর স্টেশনের তিনটি ইউনিট গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধারে কাজ শুরু করে। এর পর ক্যামেরা পাঠিয়ে শিশুটির অবস্থান ৩৫ ফুট নিচে নির্ণয় করা হয়। ফলে শিশুটিকে জীবিত রাখতে পাইপের মাধ্যমে অক্সিজেন দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
যেহেতু গর্তের ৮ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের সরু সেহেতু খনন ছাড়া উদ্ধার সম্ভাব নয়। তাই গর্তের পাশে স্কেভেটর দিয়ে মাটি খনন করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ফায়ার সার্ভিস পৌছার আগেই স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে কিছু মাটি ও খড় গর্তে পড়ে গেছে। সেখানে ক্যামেরা পাঠিয়ে শিশুটির অবস্থান ভালভাবে বুঝা যাচ্ছে না। সে কারণে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না শিশুটি জীবত আছে কি না।
তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান বলেন, ঘটনার পর পরই উপজেলা প্রশাসনসহ পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। প্রস্তুত রাখা হয়েছে মেডিকেল টিমসহ এ্যাম্বুলেন্স। মাটি খনন যন্ত্রের প্রয়োজন হওয়ায় দ্রুত সেটিও ম্যানেজ করা হয়। শিশুটিকে উদ্ধারে সব ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই সঙ্গে কিভাবে বা কেন এ ধরণের গর্ত সেখানে থেকে গেছে তা ক্ষতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান নাঈমা খান।
স্থানীয়রা জানা,কোয়েল পুর্বপাড়া গ্রামের মৃত তমির উদ্দিনের পুত্র কছির উদ্দিন মাঠে অবৈধ সেচ মটর স্থাপনের জন্য বোরিং করেন।তবে পানির লেয়ার না পাওয়ায় বোরিং পরিত্যক্ত করেন।কিন্ত্ত পরিত্যক্ত বোরিং সুড়ঙ্গ (গর্ত) মাটি দিয়ে ভরাট না করে উন্মুক্ত অবস্থায় ফেলে রাখেন।স্থানীয়রা অনাকাঙ্খিত এ ঘটনার জন্য কছির উদ্দিনকে দায়ি করে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুই সংখ্যালঘু পরিবারকে দেশছাড়ার হুমকি 
আলিফ হোসেন, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি 





















