ঢাকা , বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

তানোরে ভুয়া প্রতিবন্ধী সাজিয়ে সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের এক মাসেও নেই ব্যবস্থা !

আলিফ হোসেন:

 

রাজশাহীর তানোর উপজেলার বাধাইড় ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে সুস্থ মানুষকে ভুয়া প্রতিবন্ধী সাজিয়ে সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতা আত্মসাতের ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে।

 

অভিযোগের তীর রয়েছে ইউপি সদস্য ও কৃষক লীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম এবং তার স্ত্রী সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য পলি আক্তার-এর বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠার এক মাস পার হলেও তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি, এমন অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

 

স্থানীয় বাসিন্দা সাদিউর রহমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

 

অভিযোগে বলা হয়, জাহাঙ্গীর আলম তার সুস্থ পিতা নুরুল ইসলাম, মা জাহানারা বেগম ও স্ত্রী পলি আক্তার-কে প্রতিবন্ধী দেখিয়ে ভাতা কার্ড তৈরি করেছেন। এ ছাড়া ওয়ার্ডের আরও প্রায় ২০ জন সুস্থ ব্যক্তিকেও একইভাবে ভুয়া প্রতিবন্ধী সনদ দিয়ে ভাতা সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

প্রত্যেক ভুয়া ভাতাভোগীর কাছ থেকে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

 

একজন প্রকৃত শারীরিক প্রতিবন্ধী দরিদ্র ব্যক্তি সুশীলের কাছ থেকেও ৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। তিনি ৪ হাজার টাকা দেওয়ার পরও সনদ পাননি। অথচ অন্য সুস্থ-সবল ব্যক্তিরা নিয়মিত ভাতা পাচ্ছেন।

 

অভিযোগের এক মাস পার হলেও প্রশাসনের নীরবতা এবং কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়া নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

 

“এত বড় দুর্নীতির প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন এখনো নীরব কেন? তবে কি ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে?”

 

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, “প্রকৃত অক্ষম মানুষের হক ছিনিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। এর দায় কোনোভাবেই এড়ানো যায় না।”

 

তাদের দাবি:

ভুয়া প্রতিবন্ধী সনদ বাতিল করতে হবে, আত্মসাত করা অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত আনতে হবে, দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

 

ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম এবং তার স্ত্রী পলি আক্তার সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

 

তারা বলেন “আমরা কোনো ঘুষ নেইনি। সবকিছু নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে। প্রতিবন্ধী নির্বাচন করেন ডাক্তার ও সমাজসেবা কর্মকর্তা, দায় তাদের।“

 

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেন খাঁন বলেন: “অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

 

এ বিষয়ে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

‘তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি দিলে বাস্তবায়ন করেন, দুর্গাপূজার নিরাপত্তা তার প্রমাণ’

error: Content is protected !!

তানোরে ভুয়া প্রতিবন্ধী সাজিয়ে সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের এক মাসেও নেই ব্যবস্থা !

আপডেট টাইম : ১০:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
আলিফ হোসেন, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি :

আলিফ হোসেন:

 

রাজশাহীর তানোর উপজেলার বাধাইড় ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে সুস্থ মানুষকে ভুয়া প্রতিবন্ধী সাজিয়ে সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতা আত্মসাতের ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে।

 

অভিযোগের তীর রয়েছে ইউপি সদস্য ও কৃষক লীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম এবং তার স্ত্রী সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য পলি আক্তার-এর বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠার এক মাস পার হলেও তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি, এমন অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

 

স্থানীয় বাসিন্দা সাদিউর রহমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

 

অভিযোগে বলা হয়, জাহাঙ্গীর আলম তার সুস্থ পিতা নুরুল ইসলাম, মা জাহানারা বেগম ও স্ত্রী পলি আক্তার-কে প্রতিবন্ধী দেখিয়ে ভাতা কার্ড তৈরি করেছেন। এ ছাড়া ওয়ার্ডের আরও প্রায় ২০ জন সুস্থ ব্যক্তিকেও একইভাবে ভুয়া প্রতিবন্ধী সনদ দিয়ে ভাতা সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

প্রত্যেক ভুয়া ভাতাভোগীর কাছ থেকে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

 

একজন প্রকৃত শারীরিক প্রতিবন্ধী দরিদ্র ব্যক্তি সুশীলের কাছ থেকেও ৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। তিনি ৪ হাজার টাকা দেওয়ার পরও সনদ পাননি। অথচ অন্য সুস্থ-সবল ব্যক্তিরা নিয়মিত ভাতা পাচ্ছেন।

 

অভিযোগের এক মাস পার হলেও প্রশাসনের নীরবতা এবং কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়া নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

 

“এত বড় দুর্নীতির প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন এখনো নীরব কেন? তবে কি ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে?”

 

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, “প্রকৃত অক্ষম মানুষের হক ছিনিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। এর দায় কোনোভাবেই এড়ানো যায় না।”

 

তাদের দাবি:

ভুয়া প্রতিবন্ধী সনদ বাতিল করতে হবে, আত্মসাত করা অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত আনতে হবে, দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

 

ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম এবং তার স্ত্রী পলি আক্তার সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

 

তারা বলেন “আমরা কোনো ঘুষ নেইনি। সবকিছু নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে। প্রতিবন্ধী নির্বাচন করেন ডাক্তার ও সমাজসেবা কর্মকর্তা, দায় তাদের।“

 

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেন খাঁন বলেন: “অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

 

এ বিষয়ে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।