ঢাকা , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

তানোরে ধানের বীজতলা রক্ষায় পলিথিন

আলিফ হোসেনঃ

রাজশাহীর তানোরে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বোরো বীজতলা রক্ষায় পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখছেন কৃষকেরা। তানোরে কয়েক দিন ধরে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা। তাপমাত্রা ক্রমেই কমে যাওয়ার সঙ্গে হিমেল হাওয়া,দুপুর পর্যন্ত আকাশ কুয়াশাচ্ছন্ন ও ঘন কুয়াশায় রাতে শীতের তীব্রতা বাড়ছে। কুয়াশার কারণে অনেক দিন দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলছে না। এতে জনজীবনের পাশাপাশি কৃষিকাজেও প্রভাব পড়ছে।

 

কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলে তীব্র শীত উপেক্ষা করেই বোরো আবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষকেরা। সামনে উপজেলাজুড়ে বোরো ধান রোপণের মৌসুম শুরু হবে। তার আগে বীজতলা তৈরি ও পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তাঁরা। তবে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বোরো বীজতলা রক্ষায় পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখছেন তাঁরা।

 

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, ঠান্ডা ও কুয়াশার প্রভাবে বোরো বীজতলা হলদে ও লাল হয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখলে বীজতলার ক্ষতির আশঙ্কা অনেকটা কমে। ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে বেশিরভাগ ইরি-বোরোর বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। এ অবস্থা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য তানোরের কৃষকেরা এখন পলিথিন ঢাকা দিয়ে বীজতলা তৈরি করছে। কম সময়ে স্বাস্থ্যবান ও ভালো বীজ পাওয়ায় ইতিমধ্যে এ পদ্ধতিটি চাষিদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

 

সরেজমিন তানোর পৌরসভার ধানতৈড়, কালীগঞ্জ,কুঠিপাড়া ও কামারগাঁ ইউনিয়নের (ইউপি) কয়েকটি মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ বীজতলাই পলিথিনে ঢাকা। কৃষক নুরুল প্রামাণিক জানান, তিনি দুই বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করবেন। সে জন্য আগেই বীজতলা তৈরি করেছেন। শীত ও কুয়াশা থেকে রক্ষার জন্য বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। কৃষক আব্দুল ও আইয়ুব আলী জানান, বীজ ফেলার আট দিন পর বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিয়েছেন। ২০ দিন পর পলিথিন তুলে ফেলবেন। এতে বীজতলায় রোগবালাইয়ের আক্রমণ কম হয় এবং রোপণের জন্য ভালো চারা পাওয়া যায়। পাশাপাশি পলিথিন ব্যবহার করায় কীটনাশক দিতে হয় না। ফলে বাড়তি খরচও কমে।

 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় এবার আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ১২ হাজার ১৯০ হেক্টর জমি। যা গতবারের চেয়ে ১২০০ হেক্টর কম জমি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর ২৭০ হেক্টর জমিতে বোরো বীজতলা হয়েছে। এছাড়াও আগাম জাতের আলু চাষ হয়েছে প্রায় ১০০ হেক্টর মত জমিতে।

 

এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহমেদ বলেন, তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বীজতলায় ‘কোল্ড ইনজুরি’ দেখা দেয়। এতে বীজ ঠিকমতো বেড়ে উঠতে পারে না, অনেক সময় হলদে ও লাল হয়ে পচে যায়। পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখলে ভেতরের তাপমাত্রা কিছুটা উষ্ণ থাকে এবং চারাগাছ নষ্ট হয় না। এতে কৃষকেরা উপকৃত হন। বীজতলা রক্ষায় পলিথিন ব্যবহারের জন্য কৃষকদের আহ্বান জানান তিনি।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সেনবাগ বাজারে ফুটপাত দখলের মহোৎসব, নিরাপদ চলাচল এখন স্বপ্ন

error: Content is protected !!

তানোরে ধানের বীজতলা রক্ষায় পলিথিন

আপডেট টাইম : ০৭:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
আলিফ হোসেন, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি :

আলিফ হোসেনঃ

রাজশাহীর তানোরে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বোরো বীজতলা রক্ষায় পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখছেন কৃষকেরা। তানোরে কয়েক দিন ধরে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা। তাপমাত্রা ক্রমেই কমে যাওয়ার সঙ্গে হিমেল হাওয়া,দুপুর পর্যন্ত আকাশ কুয়াশাচ্ছন্ন ও ঘন কুয়াশায় রাতে শীতের তীব্রতা বাড়ছে। কুয়াশার কারণে অনেক দিন দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলছে না। এতে জনজীবনের পাশাপাশি কৃষিকাজেও প্রভাব পড়ছে।

 

কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলে তীব্র শীত উপেক্ষা করেই বোরো আবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষকেরা। সামনে উপজেলাজুড়ে বোরো ধান রোপণের মৌসুম শুরু হবে। তার আগে বীজতলা তৈরি ও পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তাঁরা। তবে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বোরো বীজতলা রক্ষায় পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখছেন তাঁরা।

 

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, ঠান্ডা ও কুয়াশার প্রভাবে বোরো বীজতলা হলদে ও লাল হয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখলে বীজতলার ক্ষতির আশঙ্কা অনেকটা কমে। ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে বেশিরভাগ ইরি-বোরোর বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। এ অবস্থা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য তানোরের কৃষকেরা এখন পলিথিন ঢাকা দিয়ে বীজতলা তৈরি করছে। কম সময়ে স্বাস্থ্যবান ও ভালো বীজ পাওয়ায় ইতিমধ্যে এ পদ্ধতিটি চাষিদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

 

সরেজমিন তানোর পৌরসভার ধানতৈড়, কালীগঞ্জ,কুঠিপাড়া ও কামারগাঁ ইউনিয়নের (ইউপি) কয়েকটি মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ বীজতলাই পলিথিনে ঢাকা। কৃষক নুরুল প্রামাণিক জানান, তিনি দুই বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করবেন। সে জন্য আগেই বীজতলা তৈরি করেছেন। শীত ও কুয়াশা থেকে রক্ষার জন্য বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। কৃষক আব্দুল ও আইয়ুব আলী জানান, বীজ ফেলার আট দিন পর বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিয়েছেন। ২০ দিন পর পলিথিন তুলে ফেলবেন। এতে বীজতলায় রোগবালাইয়ের আক্রমণ কম হয় এবং রোপণের জন্য ভালো চারা পাওয়া যায়। পাশাপাশি পলিথিন ব্যবহার করায় কীটনাশক দিতে হয় না। ফলে বাড়তি খরচও কমে।

 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় এবার আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ১২ হাজার ১৯০ হেক্টর জমি। যা গতবারের চেয়ে ১২০০ হেক্টর কম জমি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর ২৭০ হেক্টর জমিতে বোরো বীজতলা হয়েছে। এছাড়াও আগাম জাতের আলু চাষ হয়েছে প্রায় ১০০ হেক্টর মত জমিতে।

 

এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহমেদ বলেন, তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বীজতলায় ‘কোল্ড ইনজুরি’ দেখা দেয়। এতে বীজ ঠিকমতো বেড়ে উঠতে পারে না, অনেক সময় হলদে ও লাল হয়ে পচে যায়। পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখলে ভেতরের তাপমাত্রা কিছুটা উষ্ণ থাকে এবং চারাগাছ নষ্ট হয় না। এতে কৃষকেরা উপকৃত হন। বীজতলা রক্ষায় পলিথিন ব্যবহারের জন্য কৃষকদের আহ্বান জানান তিনি।