আলিফ হোসেন:
রাজশাহীর তানোরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অধীনে উপজেলার কাশিমবাজার-বায়া বাজার সড়কের প্রায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার সংস্কারকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এদিকে রাস্তার নির্মাণকাজে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে উপকরণ কম ব্যবহার বা নির্মাণমানের সঙ্গে আপস করার কোনো সুযোগ থাকছে না।
জানা গেছে, প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের কাজ করছে সুনামধন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সৈকত এন্টারপ্রাইজ।
স্থানীয়রা জানান, কাজটি নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কিছুটা বিলম্বিত হওয়ায় শুরুতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছিল। তবে বর্তমানে কাজের অগ্রগতি ও নির্মাণমান দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
চাঁন্দুড়িয়া এলাকার যুবক জুবায়ের ইসলাম বলেন, “রাস্তার অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে খুবই খারাপ ছিল। এখন যে সংস্কারকাজ হচ্ছে, তা বেশ ভালো মানের মনে হচ্ছে। কাজ শেষ হলে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে অনেক সুবিধা হবে।”
এলাকার শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, “কাজে কিছুটা দেরি হলেও নির্মাণের মান ভালো হয়েছে। আমরা চাই কাজটি দ্রুত শেষ করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হোক।”
এদিকে পথচারীরাও জানান, কাজের কারণে কিছুদিন ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। তবে সড়কটির উন্নয়ন হলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ ও নিরাপদ হবে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সৈকত এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী টিজার বলেন, এলজিইডির নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী শতভাগ সঠিকভাবে কাজ করা হচ্ছে। কাজ কিছুটা বিলম্বিত হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল আন্তর্জাতিক বাজারে নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি। ইরান-আমেরিকা উত্তেজনার প্রভাবে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়, ফলে পাথর ও বিটুমিনের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। একসময় প্রতি টন বিটুমিনের দাম ৭০ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৭ হাজার টাকায় পৌঁছেছিল, যা সরকারের নির্ধারিত দরের চেয়ে অনেক বেশি ছিল। বর্তমানে দাম কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে আসায় আমরা দ্রুত কাজ শেষ করার আশা করছি।
এ বিষয়ে তানোর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী নুরুন্নাহার বলেন, “তানোর উপজেলায় বর্তমানে বেশ কয়েকটি উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। এর মধ্যে কাশিমবাজার-বায়া সড়কের কাজ অন্যতম। আমরা সব প্রকল্পই গুরুত্বের সঙ্গে তদারকি করছি। এখানে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই।”
এ বিষয়ে রাজশাহী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বলেন, “সড়কটির নির্মাণকাজ আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে সম্পন্ন করা হচ্ছে। ফলে উপকরণ কম ব্যবহার বা মানের সঙ্গে আপস করার কোনো সুযোগ নেই। আমাদের প্রকৌশলীরা নিয়মিত কাজ তদারকি করছেন। তাই কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, চলমান সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ হলে কাশিমবাজার-বায়া সড়কে যান চলাচল আরও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে এবং এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুই সংখ্যালঘু পরিবারকে দেশছাড়ার হুমকি 
আলিফ হোসেন, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি 



















