ঢাকা , বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

ছাদ থেকে ঝরে পড়ছে পলেস্তারা, ঝুঁকিতে চলছে পাঠদান

আব্দুল হামিদ মিঞাঃ

 

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম ইউনিয়নের মীরগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এখন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে এক আতঙ্কের নাম। ভবনের ছাদ থেকে প্রায়ই খসে পড়ছে পলেস্তারা, কোথাও কোথাও বেরিয়ে আছে রড। বৃষ্টি হলে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে, ছাদ ও বিমে ধরেছে ফাটল। এর মধ্যেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান করছেন শিক্ষকরা। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন অভিভাবকরাও।

 

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা জানান, ভবনের এমন অবস্থার কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছে না। শিক্ষাজীবন যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি উপস্থিতিও দিন দিন কমে যাচ্ছে। দুর্ঘটনা ঘটলে বের হওয়ার উপায়ও দুরূহ।

 

বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জারা খাতুনের মা মুক্তা বেগম বলেন, “ছাদের নিচে ফাটল, রড বেরিয়ে আছে। মেয়েকে স্কুলে পাঠিয়ে সারাক্ষণ দুশ্চিন্তায় থাকি।”

 

পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আনাম ও সাইমুনা বলেন, “বর্ষাকালে ছাদ থেকে পানি পড়ে, বালু পড়ে। খুব ভয় করে। কখন যে ভেঙে পড়ে!”

 

চতুর্থ শ্রেণির পল্লব ও আশিক বলেন, “গত সোমবার মাথায় খোয়া পড়েছে। এভাবে ক্লাস করতে খুব কষ্ট হয়। সরকার যেন দ্রুত নতুন ভবন করে দেয়।”

 

বিদ্যালয়টির ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা

প্রতিষ্ঠা: ১৮১১ সালে

বর্তমান শিক্ষার্থী: ৩৫০ জন

শিক্ষক: ১০ জন

ভবন সংখ্যা: ৩টি

শ্রেণিকক্ষ: ৬টি, যার মধ্যে ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ

বিদ্যালয়ের পুরাতন টিনসেড ভবন ২০১৯ সালে নিলামে বিক্রি করা হয়। বর্তমানে ব্যবহৃত ভবনগুলো নির্মাণ হয়:

১৯৯৪ সালে: ৪ কক্ষ

১৯৯৬ সালে: ২ কক্ষ

২০০৪ সালে: ২ কক্ষ

এর মধ্যে ছয়টি কক্ষের পাঁচটিই বর্তমানে ব্যবহার অনুপযোগী এবং ঝুঁকিপূর্ণ।

শিক্ষকদের উদ্বেগ

 

সহকারী শিক্ষিকা রুকসানা খাতুন বলেন, “ভবনটি বহুদিন ধরেই নাজুক। আমরা ঠিকমতো ক্লাস নিতে পারি না। কয়েকদিন আগে দ্বিতীয় শ্রেণির কক্ষে মরিচা ধরা রড ভেঙে সিলিং ফ্যান পড়ে যায়।”

সহকারী শিক্ষক নাসির উদ্দীন জানান,

“ভবনের কারণে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে থাকে, ফলে পড়ায় মনোযোগও থাকে না। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা চলতে থাকলে শিক্ষার্থী আরও কমে যাবে।”

প্রধান শিক্ষক পারভিন নাহার বলেন,

“বিষয়টি বহুবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কিন্তু সমাধান মেলেনি। যেকোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা চাই সুন্দর অবকাঠামোর একটি নিরাপদ বিদ্যালয়।”

প্রশাসনের বক্তব্য

উপজেলা শিক্ষা অফিসার মীর মামুনুর রহমান বলেন,

“শিক্ষা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভবনের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল। মে মাসে পাঠানো উন্নয়ন প্রকল্পের তালিকায় মীরগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। প্রকল্প এলে কাজ শুরু হবে।”

বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মী আক্তার বলেন,

“যেসব স্কুল সংস্কারের প্রয়োজন, তাদের জন্য শিক্ষা কমিটির মাধ্যমে বরাদ্দ চেয়ে পাঠানো হয়েছে।”

উপসংহার

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা সবাই একমত—আর দেরি নয়, দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ না হলে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মানসম্মত শিক্ষার স্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

‘তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি দিলে বাস্তবায়ন করেন, দুর্গাপূজার নিরাপত্তা তার প্রমাণ’

error: Content is protected !!

ছাদ থেকে ঝরে পড়ছে পলেস্তারা, ঝুঁকিতে চলছে পাঠদান

আপডেট টাইম : ০৪:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
আব্দুল হামিদ মিঞা, বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি :

আব্দুল হামিদ মিঞাঃ

 

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম ইউনিয়নের মীরগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এখন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে এক আতঙ্কের নাম। ভবনের ছাদ থেকে প্রায়ই খসে পড়ছে পলেস্তারা, কোথাও কোথাও বেরিয়ে আছে রড। বৃষ্টি হলে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে, ছাদ ও বিমে ধরেছে ফাটল। এর মধ্যেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান করছেন শিক্ষকরা। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন অভিভাবকরাও।

 

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা জানান, ভবনের এমন অবস্থার কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছে না। শিক্ষাজীবন যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি উপস্থিতিও দিন দিন কমে যাচ্ছে। দুর্ঘটনা ঘটলে বের হওয়ার উপায়ও দুরূহ।

 

বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জারা খাতুনের মা মুক্তা বেগম বলেন, “ছাদের নিচে ফাটল, রড বেরিয়ে আছে। মেয়েকে স্কুলে পাঠিয়ে সারাক্ষণ দুশ্চিন্তায় থাকি।”

 

পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আনাম ও সাইমুনা বলেন, “বর্ষাকালে ছাদ থেকে পানি পড়ে, বালু পড়ে। খুব ভয় করে। কখন যে ভেঙে পড়ে!”

 

চতুর্থ শ্রেণির পল্লব ও আশিক বলেন, “গত সোমবার মাথায় খোয়া পড়েছে। এভাবে ক্লাস করতে খুব কষ্ট হয়। সরকার যেন দ্রুত নতুন ভবন করে দেয়।”

 

বিদ্যালয়টির ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা

প্রতিষ্ঠা: ১৮১১ সালে

বর্তমান শিক্ষার্থী: ৩৫০ জন

শিক্ষক: ১০ জন

ভবন সংখ্যা: ৩টি

শ্রেণিকক্ষ: ৬টি, যার মধ্যে ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ

বিদ্যালয়ের পুরাতন টিনসেড ভবন ২০১৯ সালে নিলামে বিক্রি করা হয়। বর্তমানে ব্যবহৃত ভবনগুলো নির্মাণ হয়:

১৯৯৪ সালে: ৪ কক্ষ

১৯৯৬ সালে: ২ কক্ষ

২০০৪ সালে: ২ কক্ষ

এর মধ্যে ছয়টি কক্ষের পাঁচটিই বর্তমানে ব্যবহার অনুপযোগী এবং ঝুঁকিপূর্ণ।

শিক্ষকদের উদ্বেগ

 

সহকারী শিক্ষিকা রুকসানা খাতুন বলেন, “ভবনটি বহুদিন ধরেই নাজুক। আমরা ঠিকমতো ক্লাস নিতে পারি না। কয়েকদিন আগে দ্বিতীয় শ্রেণির কক্ষে মরিচা ধরা রড ভেঙে সিলিং ফ্যান পড়ে যায়।”

সহকারী শিক্ষক নাসির উদ্দীন জানান,

“ভবনের কারণে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে থাকে, ফলে পড়ায় মনোযোগও থাকে না। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা চলতে থাকলে শিক্ষার্থী আরও কমে যাবে।”

প্রধান শিক্ষক পারভিন নাহার বলেন,

“বিষয়টি বহুবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কিন্তু সমাধান মেলেনি। যেকোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা চাই সুন্দর অবকাঠামোর একটি নিরাপদ বিদ্যালয়।”

প্রশাসনের বক্তব্য

উপজেলা শিক্ষা অফিসার মীর মামুনুর রহমান বলেন,

“শিক্ষা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভবনের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল। মে মাসে পাঠানো উন্নয়ন প্রকল্পের তালিকায় মীরগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। প্রকল্প এলে কাজ শুরু হবে।”

বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মী আক্তার বলেন,

“যেসব স্কুল সংস্কারের প্রয়োজন, তাদের জন্য শিক্ষা কমিটির মাধ্যমে বরাদ্দ চেয়ে পাঠানো হয়েছে।”

উপসংহার

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা সবাই একমত—আর দেরি নয়, দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ না হলে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মানসম্মত শিক্ষার স্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন।