ঢাকা , শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

ঘুষ না দেওয়ায় মিথ্যা মামলার শিকার বৃক্ষপ্রেমী লুৎফর রহমান

-বৃক্ষপ্রেমী লুৎফর রহমানের লাগানো গাছের ছায়ায় বসে ফুটবল খেলা উপভোগ করছেন দর্শকরা।

মোঃ ফখরুজ্জামান চৌধুরী কৌশিকঃ

দিনাজপুরের বিরামপুরে বৃক্ষপ্রেমী হিসেবে পরিচিত লুৎফর রহমান। উপজেলার ৩ নং খানপুর ইউনিয়েনের দক্ষিণ শাহাবাজপুর গ্রামের বাসিন্দা তিনি, পেশায় একজন ট্রাক চালক। অবসর সময়ে তিনি ফাঁকা স্থানে নিজ খরচে গাছ লাগান। গত এক দশকে এলাকার ফাঁকা স্থানে নিজ উদ্যোগে পাঁচ হাজারেরও বেশী ফলজ ও বনজ গাছের চারা রোপন করেছেন বলে জানা যায়। ফলে এলাকায় তিনি বৃক্ষপ্রেমী হিসেবে বেশ পরিচিত।

 

গত ২০২৪ সালের জানুয়ারী মাসে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তাঁকে ২০ টি আমের চারা দেওয়া হয়। সেই চারা বন বিভাগের ফাঁকা স্থানে অর্থৎ যেখানে খেলার মাঠ হিসেবে ব্যাবহৃত হয় সে স্থানের চার পার্শ্বে চারাগুলো রোপন করেন। কিন্তু বন বিভাগের বিট কর্মকর্তার লুৎফর রহমানের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন এলাকার মানুষ। এদিকে এটি এখন আদালতের বিষয় আদালতে যোগাযোগ করেন বলে জানান ওই বিট কর্মকর্তা ।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মামলার সূত্র ধরে দক্ষিণ শাহাবাজপুর মৌজার ৫৬৬২ নং দাগে সেখানে ফুটবল টুর্নামেন্ট খেলা চলছে। বন বিভাগের একটি ফাঁকা জায়গায় অন্তত তিন দশকেরও বেশী সময় ধরে স্থানীয়রা ফুটবল খেলার মাঠ হিসেবে ব্যাবহার করে আসছে। সেই মাঠের পাশে রাস্তা রয়েছে, আর সেই রাস্তার দুই পার্শ্বে কোন গাছ না থাকায় বৃক্ষপ্রেমী লুৎফর রহমান নিজ উদ্যোগে বৃক্ষ রোপন করেন। সেই স্থানে গাছ লাগানোর কারণে বন কর্মকর্তা ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর।

ঘুষের টাকা না দেওয়ায় চারাগাছ নষ্ট এবং সেই স্থানে ধান রোপনের মিথ্যা অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এমনকি সেই মামলায় ভুক্তভোগীর কলেজ পড়ুয়া দুই ছেলেকেও আসামী করা হয়েছে। মিথ্য মামলা দায়ের ফলে এলাকার সচেতন মহলে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সেই সাথে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসীরা।

বৃক্ষপ্রেমী লুৎফর রহমান বলেন, ২০২৪ সালে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ২০টি আমের গাছ তাঁকে দেওয়া হয়। এরপর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান চিত্ত রঞ্জন শাহার পরামর্শে ফুটবল খেলার মাঠের পার্শ্বে গাছগুলো লাগানো হয়। এর প্রায় তিন মাস পর প্রয়াগপুর বিট কর্মকর্তা মাহমুদার রহমান অফিসে ডেকে বন বিভাগের জায়গায় গাছ লাগানোর অপরাধে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। সরকারি গাছ সরকারি জায়গায় লাগানো হয়েছে। এবং এখানে আমার কোন নিজস্ব সুবিধা নেই জানিয়ে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়।

 

এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বদলির আগে আমার নামে গাছ নষ্ট ও ধান রোপনের মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। শুধু তাঁকে নয় তাঁর দুই কলেজ পড়ুয়া ছেলেকে আসামী করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, গাছ না থাকায় শৈশবকালে ওই ফাঁকা স্থানে ফুটবল খেলেছেন। এলাকায় ঔই জায়গা ফুটবল খেলার মাঠ হিসেবে পরিচিত। সেখানে কোন গাছ ছিলনা। মামলায় গাছের চারা নষ্ট করে ধান লাগানোর অভিযোগ কেন আনা হয়েছে । সেই জায়গাটি সমতল ভুমি থেকে অন্তত ৩ ফুট উচু কেউ চাইলেই ধান ধাগানো সম্ভব নয়।

 

এলাকাবাসী বলেন, ছোট বেলা থেকে এই মাঠে ফুটবল খেলেন তারা। এখন নতুন প্রজন্মরা ফুটবল খেলছেন। এখানে বন বিভাগের পক্ষ থেকে কোন দিন গাছ লাগানো হয়নি। তাছাড়া সমতল ভূমি থেকে অন্তত ৩ ফিট উচু হওয়ায় ধান লাগানোর উপযুক্ত স্থান নয়। লুৎফর রহমান একজন বৃক্ষপ্রেমী। তিনি ওই মাঠের চারিপাশে ২০ টি আমের চারা পোপন করেছেন। গাছগুলো এখন অনেকটাই বড় হয়েছে। তার লাগানো আমগাছের নিচে বসে অনেকে খেলা উপভোগ করছেন।

 

এছাড়াও এমন কোন ফাঁকা স্থান নেই যেখানে তিনি অন্তত একটি হলেও গাছ লাগায়নি। এই মাঠে আমাদের পূর্ব পুরুষের আমল থেকে গ্রামের ছেলেরা খেলাধুলা করে। সেখানে বনবিভাগের কোন গাছ নেই। লুৎফর রহমান দু’বছর আগে নিজ উদ্যোগে মাঠের পাশে ২০ টি আমগাছ লাগিয়েছেন।

 

প্রয়াগপুর বনবিভাগের বিট কর্মকর্তা মাহমুদার রহমান বৃক্ষপ্রেমী লুৎফর রহমানকে অফিসে ডাকেন। এবং বন বিভাগের জায়গায় গাছ লাগানোর অপরাধে মামলার হুমকি দিয়ে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানান বৃক্ষপ্রেমী লুৎফর রহমান। একই বছর আগস্ট মাসে বদলির সময় তাঁকে এক নাম্বার আসামী করে কলেজ পড়ুয়া দুই ছেলে হাসেন ও হোসেনকে আসামী করে ২০ শতাংশ জমির চারা গাছ তুলে ধান রোপন করার অভিযোগ এনে দিনাজপুর আদালতে মামলা দায়ের করেন। আমরা সবাই নিরুপরাধ মানুষটির মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানাচ্ছি। সেই সাথে বিট কর্মকর্তার শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।

 

পাশ্ববর্তী কুশাগাড়ি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হাকিম বলেন, বিট কর্মকর্তা মাহমুদার রহমান একজন দূর্ণীতিগ্রস্থ অফিসার। ২০২৪ সালে তিনি বদলির আগে নিজের লোক দিয়ে বনের মূল্যবান গাছ চুরি করেছেন। শুধু তাই নয় তিনি এই অঞ্চলের প্রায় ১শ থেকে দেড়শ পরিবারের নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছেন।

লুৎফর রহমান সম্পর্কে তিনি বলেন, গাছ চুরি তো দূরের কথা তাঁর দ্বারা গাছের ডাল কাটাও সম্ভব নয়। কেউ গাছ বা ডাল কাটলে তিনি প্রতিবাদ করেন। এবং নিজ উদ্যোগে সড়কের পাশ গাছ লাগান। এবং এলাকার সবাই তাঁকে বৃক্ষপ্রেমী হিসেবে চেনেন।

 

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান চিত্ত রঞ্জন শাহা বলেন, ফুটবল খেলার মাঠে কোন গাছ নেই তাই সেখানে গাছ লাগানোর পরামর্শ করতে আসলে আমি তাঁকে গাছ লাগাতে পরামর্শ দেই। পরে জানতে পারি তাঁর বিরুদ্ধে গাছ নষ্টের মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।

 

অভিযোগের বিষয়ে বিট কর্মকর্তা মাহমুদার রহমান মুঠোফোনে বলেন, তিনি এখন ঢাকায় বদলি হয়েছেন। এটি এখন আদালতের বিষয় আদালতে যোগাযোগ করেন বলে ফোন কল বিচ্ছিন্ন করে দেন।

 

বিরামপুর বন বিভাগের চরকাই রেঞ্জ কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম চারমাস আগে অফিসে যোগদান করেছেন। তিনি বলেন, এটা আমার পুরোপুরি জানা নেই। তাছাড়া এটা আদালতের বিষয়, আদালতে তিনি নিজেকে নির্দোশ প্রমাণ করুক।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ঘোড়াঘাটে বিতর্কিত চার্জশিটের প্রতিবাদে মানববন্ধন, মূল আসামিদের অন্তর্ভুক্তির দাবি

error: Content is protected !!

ঘুষ না দেওয়ায় মিথ্যা মামলার শিকার বৃক্ষপ্রেমী লুৎফর রহমান

আপডেট টাইম : ১১ ঘন্টা আগে
মোঃ ফখরুজ্জামান চৌধুরী কৌশিক, হাকিমপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :

মোঃ ফখরুজ্জামান চৌধুরী কৌশিকঃ

দিনাজপুরের বিরামপুরে বৃক্ষপ্রেমী হিসেবে পরিচিত লুৎফর রহমান। উপজেলার ৩ নং খানপুর ইউনিয়েনের দক্ষিণ শাহাবাজপুর গ্রামের বাসিন্দা তিনি, পেশায় একজন ট্রাক চালক। অবসর সময়ে তিনি ফাঁকা স্থানে নিজ খরচে গাছ লাগান। গত এক দশকে এলাকার ফাঁকা স্থানে নিজ উদ্যোগে পাঁচ হাজারেরও বেশী ফলজ ও বনজ গাছের চারা রোপন করেছেন বলে জানা যায়। ফলে এলাকায় তিনি বৃক্ষপ্রেমী হিসেবে বেশ পরিচিত।

 

গত ২০২৪ সালের জানুয়ারী মাসে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তাঁকে ২০ টি আমের চারা দেওয়া হয়। সেই চারা বন বিভাগের ফাঁকা স্থানে অর্থৎ যেখানে খেলার মাঠ হিসেবে ব্যাবহৃত হয় সে স্থানের চার পার্শ্বে চারাগুলো রোপন করেন। কিন্তু বন বিভাগের বিট কর্মকর্তার লুৎফর রহমানের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন এলাকার মানুষ। এদিকে এটি এখন আদালতের বিষয় আদালতে যোগাযোগ করেন বলে জানান ওই বিট কর্মকর্তা ।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মামলার সূত্র ধরে দক্ষিণ শাহাবাজপুর মৌজার ৫৬৬২ নং দাগে সেখানে ফুটবল টুর্নামেন্ট খেলা চলছে। বন বিভাগের একটি ফাঁকা জায়গায় অন্তত তিন দশকেরও বেশী সময় ধরে স্থানীয়রা ফুটবল খেলার মাঠ হিসেবে ব্যাবহার করে আসছে। সেই মাঠের পাশে রাস্তা রয়েছে, আর সেই রাস্তার দুই পার্শ্বে কোন গাছ না থাকায় বৃক্ষপ্রেমী লুৎফর রহমান নিজ উদ্যোগে বৃক্ষ রোপন করেন। সেই স্থানে গাছ লাগানোর কারণে বন কর্মকর্তা ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর।

ঘুষের টাকা না দেওয়ায় চারাগাছ নষ্ট এবং সেই স্থানে ধান রোপনের মিথ্যা অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এমনকি সেই মামলায় ভুক্তভোগীর কলেজ পড়ুয়া দুই ছেলেকেও আসামী করা হয়েছে। মিথ্য মামলা দায়ের ফলে এলাকার সচেতন মহলে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সেই সাথে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসীরা।

বৃক্ষপ্রেমী লুৎফর রহমান বলেন, ২০২৪ সালে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ২০টি আমের গাছ তাঁকে দেওয়া হয়। এরপর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান চিত্ত রঞ্জন শাহার পরামর্শে ফুটবল খেলার মাঠের পার্শ্বে গাছগুলো লাগানো হয়। এর প্রায় তিন মাস পর প্রয়াগপুর বিট কর্মকর্তা মাহমুদার রহমান অফিসে ডেকে বন বিভাগের জায়গায় গাছ লাগানোর অপরাধে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। সরকারি গাছ সরকারি জায়গায় লাগানো হয়েছে। এবং এখানে আমার কোন নিজস্ব সুবিধা নেই জানিয়ে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়।

 

এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বদলির আগে আমার নামে গাছ নষ্ট ও ধান রোপনের মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। শুধু তাঁকে নয় তাঁর দুই কলেজ পড়ুয়া ছেলেকে আসামী করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, গাছ না থাকায় শৈশবকালে ওই ফাঁকা স্থানে ফুটবল খেলেছেন। এলাকায় ঔই জায়গা ফুটবল খেলার মাঠ হিসেবে পরিচিত। সেখানে কোন গাছ ছিলনা। মামলায় গাছের চারা নষ্ট করে ধান লাগানোর অভিযোগ কেন আনা হয়েছে । সেই জায়গাটি সমতল ভুমি থেকে অন্তত ৩ ফুট উচু কেউ চাইলেই ধান ধাগানো সম্ভব নয়।

 

এলাকাবাসী বলেন, ছোট বেলা থেকে এই মাঠে ফুটবল খেলেন তারা। এখন নতুন প্রজন্মরা ফুটবল খেলছেন। এখানে বন বিভাগের পক্ষ থেকে কোন দিন গাছ লাগানো হয়নি। তাছাড়া সমতল ভূমি থেকে অন্তত ৩ ফিট উচু হওয়ায় ধান লাগানোর উপযুক্ত স্থান নয়। লুৎফর রহমান একজন বৃক্ষপ্রেমী। তিনি ওই মাঠের চারিপাশে ২০ টি আমের চারা পোপন করেছেন। গাছগুলো এখন অনেকটাই বড় হয়েছে। তার লাগানো আমগাছের নিচে বসে অনেকে খেলা উপভোগ করছেন।

 

এছাড়াও এমন কোন ফাঁকা স্থান নেই যেখানে তিনি অন্তত একটি হলেও গাছ লাগায়নি। এই মাঠে আমাদের পূর্ব পুরুষের আমল থেকে গ্রামের ছেলেরা খেলাধুলা করে। সেখানে বনবিভাগের কোন গাছ নেই। লুৎফর রহমান দু’বছর আগে নিজ উদ্যোগে মাঠের পাশে ২০ টি আমগাছ লাগিয়েছেন।

 

প্রয়াগপুর বনবিভাগের বিট কর্মকর্তা মাহমুদার রহমান বৃক্ষপ্রেমী লুৎফর রহমানকে অফিসে ডাকেন। এবং বন বিভাগের জায়গায় গাছ লাগানোর অপরাধে মামলার হুমকি দিয়ে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানান বৃক্ষপ্রেমী লুৎফর রহমান। একই বছর আগস্ট মাসে বদলির সময় তাঁকে এক নাম্বার আসামী করে কলেজ পড়ুয়া দুই ছেলে হাসেন ও হোসেনকে আসামী করে ২০ শতাংশ জমির চারা গাছ তুলে ধান রোপন করার অভিযোগ এনে দিনাজপুর আদালতে মামলা দায়ের করেন। আমরা সবাই নিরুপরাধ মানুষটির মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানাচ্ছি। সেই সাথে বিট কর্মকর্তার শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।

 

পাশ্ববর্তী কুশাগাড়ি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হাকিম বলেন, বিট কর্মকর্তা মাহমুদার রহমান একজন দূর্ণীতিগ্রস্থ অফিসার। ২০২৪ সালে তিনি বদলির আগে নিজের লোক দিয়ে বনের মূল্যবান গাছ চুরি করেছেন। শুধু তাই নয় তিনি এই অঞ্চলের প্রায় ১শ থেকে দেড়শ পরিবারের নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছেন।

লুৎফর রহমান সম্পর্কে তিনি বলেন, গাছ চুরি তো দূরের কথা তাঁর দ্বারা গাছের ডাল কাটাও সম্ভব নয়। কেউ গাছ বা ডাল কাটলে তিনি প্রতিবাদ করেন। এবং নিজ উদ্যোগে সড়কের পাশ গাছ লাগান। এবং এলাকার সবাই তাঁকে বৃক্ষপ্রেমী হিসেবে চেনেন।

 

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান চিত্ত রঞ্জন শাহা বলেন, ফুটবল খেলার মাঠে কোন গাছ নেই তাই সেখানে গাছ লাগানোর পরামর্শ করতে আসলে আমি তাঁকে গাছ লাগাতে পরামর্শ দেই। পরে জানতে পারি তাঁর বিরুদ্ধে গাছ নষ্টের মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।

 

অভিযোগের বিষয়ে বিট কর্মকর্তা মাহমুদার রহমান মুঠোফোনে বলেন, তিনি এখন ঢাকায় বদলি হয়েছেন। এটি এখন আদালতের বিষয় আদালতে যোগাযোগ করেন বলে ফোন কল বিচ্ছিন্ন করে দেন।

 

বিরামপুর বন বিভাগের চরকাই রেঞ্জ কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম চারমাস আগে অফিসে যোগদান করেছেন। তিনি বলেন, এটা আমার পুরোপুরি জানা নেই। তাছাড়া এটা আদালতের বিষয়, আদালতে তিনি নিজেকে নির্দোশ প্রমাণ করুক।