ঢাকা , শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

কুষ্টিয়ায় মাদ্রাসার শিশু কে বলাৎকার, সালিশ চলাকালে আটক হুজুর

ইসমাইল হোসেন বাবু:

প্রায় ৯ দিন আগে মাদরাসায় এক মক্তব শিক্ষার্থীকে (১০) বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে ওই মাদরাসারই হুজুরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে মীমাংসার জন্য মঙ্গলবার দুপুরে সালিশ বসায় মাদরাসা কমিটি। সালিশে এক বিএনপি নেতাও ছিলেন। বিকেল ৪টা বেজে গেলেও সালিশ শেষ হয় না।

 

এরপর এমন ঘটনায় সালিশ বসানোর খবর পেয়ে উৎসুক জনতা ভিড় করেন মাদরাসায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মাদরাসার বড় হুজুরকে আটক করে। এছাড়াও ওই শিক্ষার্থী ও তার বাবাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর সদকী ইউনিয়নের তালোয়া হাফেজিয়া মাদরাসা ও লিল্লাহ বোডিং থেকে তাকে আটক করা হয়।

আটক বড় হুজুর মো. মোস্তাফিজুর রহমান (২৫) ওই মাদরাসার শিক্ষক ও ঝিনাইদহের হরিনাকুণ্ডু উপজেলার তাহেরহুদা ইউনিয়নের আব্দুর রহমানের ছেলে।

পুলিশ, ভিকটিমের স্বজন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুলাই সকালে মাদরাসাটির বড় শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে গিয়েছিল। সেদিন মাত্র পাঁচ শিশু মাদরাসায় ছিল। বেলা ১১টার দিকে মাদরাসার বড় হুজুর মোস্তাফিজুর রহমান এক মক্তব শিশুকে বলাৎকার করেন। এ ঘটনা সেদিন অন্য শিশুরাও দেখে ফেলে। ভয়ে তারা সেদিন ঘটনা কাউকে বলেনি। এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে মঙ্গলবার দুপুরে এক শিশুকে মারধর করেন হুজুর। মারধরের ঘটনাটি স্থানীয়রা টের পেলে বলাৎকারের ঘটনাটি সামনে আসে। এরপর দুপুর ২টার দিকে ঘটনা ধামাচাপা দিতে মাদরাসায় সালিশ বসায় কমিটি।

সালিশে মাদরাসা কমিটির সভাপতি ও এক বিএনপি নেতাসহ অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন। সালিশের বিষয়টি টের পেলে স্থানীয়রা মাদরাসায় ভিড় করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ উপস্থিত হয়।

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সরেজমিন তালোয়া মাদরাসায় দেখা যায়, প্রবেশপথ ও মাদরাসা চত্বরে উৎসুক জনতার ভিড়। একটি কক্ষে চলছে বৈঠক। এসময় প্রতিবেদকের উপস্থিতি টের পেয়ে সালিশ কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর সালিশে বসা মাদরাসা কমিটির সভাপতি ও অন্যান্যরা কক্ষ থেকে বের হয়ে এসে বারান্দায় বসে আলোচনা শুরু করেন। সেখানে উপজেলা জগন্নাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম উপস্থিত ছিলেন। এরপর বিকেল সোয়া ৫টার দিকে পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করে।

সালিশ বসানোর কথা স্বীকার করে মাদরাসার সভাপতি মো. জুলফিকার মাহমুদ বলেন, দুপুরে ঘটনাটি জানতে পেরে অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে বৈঠক বসানো হয়েছে। এখনো বিষয়টি স্পষ্ট নয়। বুধবার সকালে আরও বড় পরিসরে সালিশ বসানো হবে।

এমন ঘটনায় সালিশ করা যায় কি না? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অবশ্যই সালিশ মীমাংসা করা যায়। আগে আমরা বসি। সমাধান না হলে পরে আইনের কাছে যাবো।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ঘোড়াঘাটে বিতর্কিত চার্জশিটের প্রতিবাদে মানববন্ধন, মূল আসামিদের অন্তর্ভুক্তির দাবি

error: Content is protected !!

কুষ্টিয়ায় মাদ্রাসার শিশু কে বলাৎকার, সালিশ চলাকালে আটক হুজুর

আপডেট টাইম : ৪ ঘন্টা আগে
ইসমাইল হোসেন বাবু, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার :

ইসমাইল হোসেন বাবু:

প্রায় ৯ দিন আগে মাদরাসায় এক মক্তব শিক্ষার্থীকে (১০) বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে ওই মাদরাসারই হুজুরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে মীমাংসার জন্য মঙ্গলবার দুপুরে সালিশ বসায় মাদরাসা কমিটি। সালিশে এক বিএনপি নেতাও ছিলেন। বিকেল ৪টা বেজে গেলেও সালিশ শেষ হয় না।

 

এরপর এমন ঘটনায় সালিশ বসানোর খবর পেয়ে উৎসুক জনতা ভিড় করেন মাদরাসায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মাদরাসার বড় হুজুরকে আটক করে। এছাড়াও ওই শিক্ষার্থী ও তার বাবাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর সদকী ইউনিয়নের তালোয়া হাফেজিয়া মাদরাসা ও লিল্লাহ বোডিং থেকে তাকে আটক করা হয়।

আটক বড় হুজুর মো. মোস্তাফিজুর রহমান (২৫) ওই মাদরাসার শিক্ষক ও ঝিনাইদহের হরিনাকুণ্ডু উপজেলার তাহেরহুদা ইউনিয়নের আব্দুর রহমানের ছেলে।

পুলিশ, ভিকটিমের স্বজন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুলাই সকালে মাদরাসাটির বড় শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে গিয়েছিল। সেদিন মাত্র পাঁচ শিশু মাদরাসায় ছিল। বেলা ১১টার দিকে মাদরাসার বড় হুজুর মোস্তাফিজুর রহমান এক মক্তব শিশুকে বলাৎকার করেন। এ ঘটনা সেদিন অন্য শিশুরাও দেখে ফেলে। ভয়ে তারা সেদিন ঘটনা কাউকে বলেনি। এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে মঙ্গলবার দুপুরে এক শিশুকে মারধর করেন হুজুর। মারধরের ঘটনাটি স্থানীয়রা টের পেলে বলাৎকারের ঘটনাটি সামনে আসে। এরপর দুপুর ২টার দিকে ঘটনা ধামাচাপা দিতে মাদরাসায় সালিশ বসায় কমিটি।

সালিশে মাদরাসা কমিটির সভাপতি ও এক বিএনপি নেতাসহ অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন। সালিশের বিষয়টি টের পেলে স্থানীয়রা মাদরাসায় ভিড় করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ উপস্থিত হয়।

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সরেজমিন তালোয়া মাদরাসায় দেখা যায়, প্রবেশপথ ও মাদরাসা চত্বরে উৎসুক জনতার ভিড়। একটি কক্ষে চলছে বৈঠক। এসময় প্রতিবেদকের উপস্থিতি টের পেয়ে সালিশ কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর সালিশে বসা মাদরাসা কমিটির সভাপতি ও অন্যান্যরা কক্ষ থেকে বের হয়ে এসে বারান্দায় বসে আলোচনা শুরু করেন। সেখানে উপজেলা জগন্নাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম উপস্থিত ছিলেন। এরপর বিকেল সোয়া ৫টার দিকে পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করে।

সালিশ বসানোর কথা স্বীকার করে মাদরাসার সভাপতি মো. জুলফিকার মাহমুদ বলেন, দুপুরে ঘটনাটি জানতে পেরে অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে বৈঠক বসানো হয়েছে। এখনো বিষয়টি স্পষ্ট নয়। বুধবার সকালে আরও বড় পরিসরে সালিশ বসানো হবে।

এমন ঘটনায় সালিশ করা যায় কি না? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অবশ্যই সালিশ মীমাংসা করা যায়। আগে আমরা বসি। সমাধান না হলে পরে আইনের কাছে যাবো।