হুমায়ন আহমেদঃ
দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা, সততা ও দক্ষ নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার পর অবশেষে শেষ কর্মদিবসে বিদায় নিলেন গোকুলখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক।
গতকাল দুপুর ১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তাঁর শেষ কর্মদিবস উপলক্ষে বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ জিয়াউল হক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক দীর্ঘ কর্মজীবনে গোকুলখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে নিজের পরিবারের মতো ভালোবেসে দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সহযোগিতায় তাঁর নেতৃত্বে বিদ্যালয়টি শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও ফলাফলের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। তিনি আরও বলেন, আব্দুর রাজ্জাক একজন দায়িত্বশীল, দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ছিলেন। তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শ ও কর্মপদ্ধতি বিদ্যালয়ের আগামী পথচলাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
এ সময় তিনি জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যালয়ের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার। তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে বিদ্যালয়ের সকল প্রশাসনিক ও একাডেমিক নথিপত্র এবং দায়িত্বভার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর সততা ও অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করে সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন তিনি।
বিদায়ী বক্তব্যে প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গোকুলখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে নিজের পরিবারের মতো ভালোবেসে দায়িত্ব পালন করেছি। আজ সেই প্রিয় প্রতিষ্ঠান থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সহযোগিতা ছাড়া আমার পথচলা এত সুন্দর হতো না। দায়িত্ব পালনকালে যদি কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকে, সবাই ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। তিনি জানান, বিদ্যালয়ের সকল দায়িত্ব ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নিকট বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ ও শিক্ষকবৃন্দ ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সফি উদ্দীনের নেতৃত্বে সহকারী শিক্ষক শাহাবুদ্দীন, জামাল উদ্দীন, ইসরাত জাহান ও আব্দুল কুদ্দুসের পক্ষ থেকে বিদায়ী ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য, আব্দুর রাজ্জাক ১ সেপ্টেম্বর ১৯৯৩ সালে গোকুলখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৩ সাল থেকে ১২ মার্চ ২০২৬ সাল পর্যন্ত নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ১৯৯০ সাল থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত হাড়ুকান্তি বলেশ্বরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এদিকে বিদ্যালয়ের বিদায় অনুষ্ঠানে ১৬ জন শিক্ষকের মধ্যে মাত্র ৬ জন উপস্থিত থাকায় স্থানীয় সচেতন মহলে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বাকি ১০ জন শিক্ষক অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
বিদায়ী প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন সৎ ও সবার প্রিয় প্রধান শিক্ষকের বিদায়ী অনুষ্ঠানে কিছু শিক্ষকের অনুপস্থিতি অত্যন্ত দুঃখজনক। তাদের মতে, একজন সম্মানিত শিক্ষকের শেষ কর্মদিবসের অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকা শিক্ষকদের দায়িত্ববোধ ও পেশাগত মনোভাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে 
হুমায়ুন আহমেদ, আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি 





















