ঢাকা , শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

কুষ্টিয়ায় এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে জমজ তিন ভাই

ইসমাইল হোসেন বাবুঃ 

‘যেদিন ওদের (তিন ছেলে) জন্ম হলো, তার আগে টানা ২৭ দিন ওদের মা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিল। প্রসূতি-সংক্রান্ত নানা জটিলতা দেখা দিয়েছিল তার। অনেক কষ্ট আর ত্যাগের পর ওরা ঘর আলো করে এসেছিল। সেই তিন ছেলে এবার আমাদের আরও আলোকিত করেছে। তারা এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। সব কটি বিষয়ে এ প্লাস পেয়েছে তারা।

 

কথাগুলো বলতে গিয়ে বারবার আবেগতাড়িত হয়ে পড়ছিলেন কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের ফুলবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা মামুনুর রহমান। তাঁর ছেলে ফাহিম হোসাইন, ফরহাদ হোসাইন ও ফয়সাল হোসাইনের জন্ম ২০০৯ সালের ১০ সেপ্টেম্বর। তিন ভাই এবারের এসএসসি পরীক্ষায় কেএসএম ঢাকা মিনাপাড়া উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে।

 

গত মঙ্গলবার তাদের বাড়িতে গিয়ে কথা হয় তিন ভাইয়ের সঙ্গে। পাশে বসে ছিলেন তাদের গৃহশিক্ষক রবিউল ইসলাম ও বাবা মামুনুর রহমান। একসঙ্গে জন্ম, একসঙ্গে চলাফেলা, একসঙ্গে ঘুমানো আর একসঙ্গে পড়াশোনা।Ñসব মিলিয়ে তিনজনের একসঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়ার সাফল্যে পরিবারে আনন্দের বন্যা বইছে। বাবা মামুনুর কুষ্টিয়া শহরে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। মা গৃহিণী।

 

বাড়ির পাশে একটি কিন্ডারগার্টেনে তাদের পড়াশোনায় হাতেখড়ি। এরপর কুষ্টিয়া শহরে তৃতীয় শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে। ঝিনাইদহে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার পর এলাকায় ফিরে কেএসএম ঢাকা মিনাপাড়া উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি হয়। শুরু থেকেই মেধাবী ছিল তারা। নবম ও দশম শ্রেণিতে বাড়িতেই এক শিক্ষকের কাছে টানা দুই বছর প্রাইভেট পড়ে।

 

মামুনুর রহমান বলেন, ফলাফলের দিন তিনি তিন সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে শহরে অফিসে গিয়েছিলেন। সঙ্গে রেখেই ফলাফল দেখেছেন কম্পিউটারে। আশা ছিল তারা জিপিএ-৫ পাবে। কিন্তু যদি কোনোভাবে একজন না পেত, তাহলে সে মুষড়ে পড়ত। এ জন্য সাহস দিতেই কাছে রেখেছিলেন। তিনজনের ফল যখন দেখা হলো এবং সব বিষয়ে এ প্লাস দেখা গেল, তখন আনন্দে মন ভরে উঠেছিল।

 

ফাহিম হোসাইন বলে, ‘আমাদের এই ফলাফলের পেছনে বাবা-মা অনেক কষ্ট করেছেন।’ ফরহাদ বলে, ‘আমরা তিন ভাই একসঙ্গে স্কুলে যেতাম, এক টেবিলে বসে পড়তাম। খেলাধুলা করতাম। তবে কম। দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তাম। খুব সকালে উঠে পড়তে বসতাম।’

 

তিন ভাইয়েরই প্রিয় বিষয় গণিত। ফাহিম বলে, ‘গণিত দিয়ে সৌরজগৎ ব্যাখ্যা করা যায়। গণিত খুব মজা লাগে।’ তিনজনের মধ্যে দুজন চিকিৎসক ও একজন প্রকৌশলী হতে চায়। মানুষের পাশে থেকে সেবা করতে চায়। তিনজনেরই ফুটবল, ক্রিকেট ও ব্যাডমিন্টন খেলা পছন্দ।

 

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হওয়ার ইচ্ছে আছে তাদের। আবেদনও করেছে। ফয়সাল হোসাইন জানায়, এই ফলাফলের জন্য তিন ভাইকে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। পড়াশোনায় একজন কোনো বিষয় বুঝতে না পারলে অন্য দুজন সহযোগিতা করত।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ময়মনসিংহ জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি ধোবাউড়া থানার শফিকুল ইসলাম

error: Content is protected !!

কুষ্টিয়ায় এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে জমজ তিন ভাই

আপডেট টাইম : ২২ ঘন্টা আগে
ইসমাইল হোসেন বাবু, সিনিয়র ষ্টাফ রিপোর্টার :

ইসমাইল হোসেন বাবুঃ 

‘যেদিন ওদের (তিন ছেলে) জন্ম হলো, তার আগে টানা ২৭ দিন ওদের মা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিল। প্রসূতি-সংক্রান্ত নানা জটিলতা দেখা দিয়েছিল তার। অনেক কষ্ট আর ত্যাগের পর ওরা ঘর আলো করে এসেছিল। সেই তিন ছেলে এবার আমাদের আরও আলোকিত করেছে। তারা এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। সব কটি বিষয়ে এ প্লাস পেয়েছে তারা।

 

কথাগুলো বলতে গিয়ে বারবার আবেগতাড়িত হয়ে পড়ছিলেন কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের ফুলবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা মামুনুর রহমান। তাঁর ছেলে ফাহিম হোসাইন, ফরহাদ হোসাইন ও ফয়সাল হোসাইনের জন্ম ২০০৯ সালের ১০ সেপ্টেম্বর। তিন ভাই এবারের এসএসসি পরীক্ষায় কেএসএম ঢাকা মিনাপাড়া উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে।

 

গত মঙ্গলবার তাদের বাড়িতে গিয়ে কথা হয় তিন ভাইয়ের সঙ্গে। পাশে বসে ছিলেন তাদের গৃহশিক্ষক রবিউল ইসলাম ও বাবা মামুনুর রহমান। একসঙ্গে জন্ম, একসঙ্গে চলাফেলা, একসঙ্গে ঘুমানো আর একসঙ্গে পড়াশোনা।Ñসব মিলিয়ে তিনজনের একসঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়ার সাফল্যে পরিবারে আনন্দের বন্যা বইছে। বাবা মামুনুর কুষ্টিয়া শহরে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। মা গৃহিণী।

 

বাড়ির পাশে একটি কিন্ডারগার্টেনে তাদের পড়াশোনায় হাতেখড়ি। এরপর কুষ্টিয়া শহরে তৃতীয় শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে। ঝিনাইদহে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার পর এলাকায় ফিরে কেএসএম ঢাকা মিনাপাড়া উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি হয়। শুরু থেকেই মেধাবী ছিল তারা। নবম ও দশম শ্রেণিতে বাড়িতেই এক শিক্ষকের কাছে টানা দুই বছর প্রাইভেট পড়ে।

 

মামুনুর রহমান বলেন, ফলাফলের দিন তিনি তিন সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে শহরে অফিসে গিয়েছিলেন। সঙ্গে রেখেই ফলাফল দেখেছেন কম্পিউটারে। আশা ছিল তারা জিপিএ-৫ পাবে। কিন্তু যদি কোনোভাবে একজন না পেত, তাহলে সে মুষড়ে পড়ত। এ জন্য সাহস দিতেই কাছে রেখেছিলেন। তিনজনের ফল যখন দেখা হলো এবং সব বিষয়ে এ প্লাস দেখা গেল, তখন আনন্দে মন ভরে উঠেছিল।

 

ফাহিম হোসাইন বলে, ‘আমাদের এই ফলাফলের পেছনে বাবা-মা অনেক কষ্ট করেছেন।’ ফরহাদ বলে, ‘আমরা তিন ভাই একসঙ্গে স্কুলে যেতাম, এক টেবিলে বসে পড়তাম। খেলাধুলা করতাম। তবে কম। দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তাম। খুব সকালে উঠে পড়তে বসতাম।’

 

তিন ভাইয়েরই প্রিয় বিষয় গণিত। ফাহিম বলে, ‘গণিত দিয়ে সৌরজগৎ ব্যাখ্যা করা যায়। গণিত খুব মজা লাগে।’ তিনজনের মধ্যে দুজন চিকিৎসক ও একজন প্রকৌশলী হতে চায়। মানুষের পাশে থেকে সেবা করতে চায়। তিনজনেরই ফুটবল, ক্রিকেট ও ব্যাডমিন্টন খেলা পছন্দ।

 

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হওয়ার ইচ্ছে আছে তাদের। আবেদনও করেছে। ফয়সাল হোসাইন জানায়, এই ফলাফলের জন্য তিন ভাইকে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। পড়াশোনায় একজন কোনো বিষয় বুঝতে না পারলে অন্য দুজন সহযোগিতা করত।