ঢাকা , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

ফরিদপুরে পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের ১২৩তম জন্মবার্ষিকী পালিত

মানিক কুমার দাসঃ

 

তুমি যাবে ভাই, যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়, / গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়; (নিমন্ত্রণ) এইখানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে, / তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে। (কবর) ও বাবু সেলাম বারে বার,/ আমার নাম গয়া বাইদ্যা বাবু/ বাড়ি পদ্মা পার। (ও বাবু সেলাম বারে বার)।

 

এরকম অনেক জনপ্রিয় কবিতা, গল্প, নাটক আর গানের মাধ্যমে গ্রাম-বাংলার মানুষের সুখ-দুঃখের কথা তুলে ধরে যে কবি পেয়েছিলেন ‘পল্লী কবি’ উপাধি, সেই কবি জসীম উদ্দীনের ১২৩তম জন্ম বার্ষিকী ১ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার তার জন্ম স্থান ফরিপুর শহরতলীর কুমার নদের পাড়ে অম্বিকাপুর পালিত হয়েছে।

দিনটি উপলক্ষে ফরিদপুর শহরতলীর অম্বিকাপুর কবির সমাধিস্থলে সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসন ও জসীম ফাউন্ডেশন, প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হবে। পরে সেখানে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মোল্লা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ‌ সুস্মিতা সাহা, পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার‌ মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া,‌ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ‌ প্রফেসর ‌এম এ সামাদ, প্রেসক্লাব সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দীকি,‌ সাধারণ সম্পাদক ‌ মাহবুব হোসেন পিয়াল, জেলা কালচারাল অফিসার সাইফুল হাসান মিলন সহ ‌ ফরিদপুরের বিশিষ্ট ‌ সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের ‌ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
১৯০৩ সালের এই দিনে ফরিদপুর শহরতলীর কৈজুরী ইউনিয়নের তাম্বুলখানা গ্রামে নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

কবির বাবার নাম আনসার উদ্দিন মোল্লা। তিনি পেশায় একজন স্কুল শিক্ষক ছিলেন। মা আমিনা খাতুন ওরফে রাঙাছুট।

জসীম উদ্দীন ফরিদপুর ওয়েলফেয়ার স্কুল ও পরবর্তীতে ফরিদপুর জেলা স্কুলে (বর্তমানে ফরিদপুর জিলা স্কুল) পড়ালেখা করেন। এখান থেকে তিনি তার প্রবেশিকা পরীক্ষায় ১৯২১ সনে উত্তীর্ণ হন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিষয় থেকে বি এ এবং এম এ শেষ করেন যথাক্রমে ১৯২৯ এবং ১৯৩১ সালে।

কবি জসীম উদ্দীন ১৯৩৯ সালে মমতাজ বেগমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের ৩ ছেলে ড. জামাল আনোয়ার, খুরশিদ আনোয়ার ও আনোয়ার হাসু। পল্লীকবির অমর সৃষ্টির মধ্যে রয়েছে, নকশী কাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট, এক পয়সার বাঁশি, রাখালী, বালুচর প্রভৃতি। তিনি ১৯৭৬ সালের ১৪ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সেনবাগ বাজারে ফুটপাত দখলের মহোৎসব, নিরাপদ চলাচল এখন স্বপ্ন

error: Content is protected !!

ফরিদপুরে পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের ১২৩তম জন্মবার্ষিকী পালিত

আপডেট টাইম : ১২:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
মানিক কুমার দাস, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি :

মানিক কুমার দাসঃ

 

তুমি যাবে ভাই, যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়, / গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়; (নিমন্ত্রণ) এইখানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে, / তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে। (কবর) ও বাবু সেলাম বারে বার,/ আমার নাম গয়া বাইদ্যা বাবু/ বাড়ি পদ্মা পার। (ও বাবু সেলাম বারে বার)।

 

এরকম অনেক জনপ্রিয় কবিতা, গল্প, নাটক আর গানের মাধ্যমে গ্রাম-বাংলার মানুষের সুখ-দুঃখের কথা তুলে ধরে যে কবি পেয়েছিলেন ‘পল্লী কবি’ উপাধি, সেই কবি জসীম উদ্দীনের ১২৩তম জন্ম বার্ষিকী ১ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার তার জন্ম স্থান ফরিপুর শহরতলীর কুমার নদের পাড়ে অম্বিকাপুর পালিত হয়েছে।

দিনটি উপলক্ষে ফরিদপুর শহরতলীর অম্বিকাপুর কবির সমাধিস্থলে সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসন ও জসীম ফাউন্ডেশন, প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হবে। পরে সেখানে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মোল্লা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ‌ সুস্মিতা সাহা, পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার‌ মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া,‌ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ‌ প্রফেসর ‌এম এ সামাদ, প্রেসক্লাব সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দীকি,‌ সাধারণ সম্পাদক ‌ মাহবুব হোসেন পিয়াল, জেলা কালচারাল অফিসার সাইফুল হাসান মিলন সহ ‌ ফরিদপুরের বিশিষ্ট ‌ সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের ‌ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
১৯০৩ সালের এই দিনে ফরিদপুর শহরতলীর কৈজুরী ইউনিয়নের তাম্বুলখানা গ্রামে নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

কবির বাবার নাম আনসার উদ্দিন মোল্লা। তিনি পেশায় একজন স্কুল শিক্ষক ছিলেন। মা আমিনা খাতুন ওরফে রাঙাছুট।

জসীম উদ্দীন ফরিদপুর ওয়েলফেয়ার স্কুল ও পরবর্তীতে ফরিদপুর জেলা স্কুলে (বর্তমানে ফরিদপুর জিলা স্কুল) পড়ালেখা করেন। এখান থেকে তিনি তার প্রবেশিকা পরীক্ষায় ১৯২১ সনে উত্তীর্ণ হন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিষয় থেকে বি এ এবং এম এ শেষ করেন যথাক্রমে ১৯২৯ এবং ১৯৩১ সালে।

কবি জসীম উদ্দীন ১৯৩৯ সালে মমতাজ বেগমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের ৩ ছেলে ড. জামাল আনোয়ার, খুরশিদ আনোয়ার ও আনোয়ার হাসু। পল্লীকবির অমর সৃষ্টির মধ্যে রয়েছে, নকশী কাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট, এক পয়সার বাঁশি, রাখালী, বালুচর প্রভৃতি। তিনি ১৯৭৬ সালের ১৪ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন।