ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

আলমডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া

হুমায়ন আহমেদঃ

 

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার এরশাদপুর গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হৃদয় হোসেন (২৮) নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২২ মে) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত হৃদয় মৃত খন্দকার এনামুল হকের ছেলে। তিনি আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের এরশাদপুর গ্রামের মক্তবপাড়া মসজিদের পাশে বসবাস করতেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে হৃদয় হোসেন ও তার পার্টনার ইমরান হোসেন রতন দুই বছরের জন্য ৩০ হাজার টাকা দিয়ে একটি পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষ করছিলেন। সম্প্রতি লিজের মেয়াদ শেষ হওয়ায় গত দুইদিন ধরে তারা পুকুরের পানি সেচ দিয়ে মাছ ধরার কাজ করছিলেন। শুক্রবার সকালে পুকুরে অল্প কিছু পানি অবশিষ্ট থাকায় মোটরের সাহায্যে পানি সেচের শেষ কাজ চলছিল।

 

নিহতের পার্টনার ইমরান হোসেন রতন জানান, “আমরা দুইদিন ধরে পুকুরের পানি সেচ দিচ্ছিলাম। শেষ মুহূর্তে হৃদয় আমাকে বলে, ‘তোরা মাছ বিক্রি কর, আমি বাকি পানি সরিয়ে দিচ্ছি।’ পরে মোটরে পানি না আসায় সে মোটরটি উঁচু করে ধরার চেষ্টা করে। হঠাৎ বিদ্যুৎ বোর্ডে আগুনের ফুলকি দেখা যায়। সঙ্গে সঙ্গে হৃদয় জোরে চিৎকার দেয়, এরপরই নিস্তব্ধ হয়ে যায়।”

 

তিনি আরও জানান, পরে দ্রুত হৃদয়কে উদ্ধার করে আলমডাঙ্গার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

ঘটনার সময় পুকুরের আশপাশে মাছ দেখতে ও কিনতে অনেক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। হৃদয়ের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

 

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, হৃদয় ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র, পরিশ্রমী ও মানবিক একজন যুবক। সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তিনি সক্রিয় ছিলেন এবং এলাকার তরুণদের সঙ্গে তার ছিল গভীর সখ্যতা। মানুষের বিপদে-আপদে সবসময় পাশে দাঁড়াতেন তিনি। তার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

জানা গেছে, মাত্র দুই মাস আগেই হৃদয়ের বাবা খন্দকার এনামুল হক মৃত্যুবরণ করেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন হৃদয়। বাবার মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই পরিবারের ওপর নেমে এলো আরেকটি ভয়াবহ বিপর্যয়।

 

হৃদয়ের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও পরিচিতজনদের মাঝে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরাও তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মাগুরা রিপোর্টার্স ইউনিটির নিন্দা ও প্রতিবাদ

error: Content is protected !!

আলমডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া

আপডেট টাইম : ১২:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
হুমায়ুন আহমেদ, আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি :

হুমায়ন আহমেদঃ

 

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার এরশাদপুর গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হৃদয় হোসেন (২৮) নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২২ মে) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত হৃদয় মৃত খন্দকার এনামুল হকের ছেলে। তিনি আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের এরশাদপুর গ্রামের মক্তবপাড়া মসজিদের পাশে বসবাস করতেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে হৃদয় হোসেন ও তার পার্টনার ইমরান হোসেন রতন দুই বছরের জন্য ৩০ হাজার টাকা দিয়ে একটি পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষ করছিলেন। সম্প্রতি লিজের মেয়াদ শেষ হওয়ায় গত দুইদিন ধরে তারা পুকুরের পানি সেচ দিয়ে মাছ ধরার কাজ করছিলেন। শুক্রবার সকালে পুকুরে অল্প কিছু পানি অবশিষ্ট থাকায় মোটরের সাহায্যে পানি সেচের শেষ কাজ চলছিল।

 

নিহতের পার্টনার ইমরান হোসেন রতন জানান, “আমরা দুইদিন ধরে পুকুরের পানি সেচ দিচ্ছিলাম। শেষ মুহূর্তে হৃদয় আমাকে বলে, ‘তোরা মাছ বিক্রি কর, আমি বাকি পানি সরিয়ে দিচ্ছি।’ পরে মোটরে পানি না আসায় সে মোটরটি উঁচু করে ধরার চেষ্টা করে। হঠাৎ বিদ্যুৎ বোর্ডে আগুনের ফুলকি দেখা যায়। সঙ্গে সঙ্গে হৃদয় জোরে চিৎকার দেয়, এরপরই নিস্তব্ধ হয়ে যায়।”

 

তিনি আরও জানান, পরে দ্রুত হৃদয়কে উদ্ধার করে আলমডাঙ্গার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

ঘটনার সময় পুকুরের আশপাশে মাছ দেখতে ও কিনতে অনেক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। হৃদয়ের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

 

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, হৃদয় ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র, পরিশ্রমী ও মানবিক একজন যুবক। সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তিনি সক্রিয় ছিলেন এবং এলাকার তরুণদের সঙ্গে তার ছিল গভীর সখ্যতা। মানুষের বিপদে-আপদে সবসময় পাশে দাঁড়াতেন তিনি। তার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

জানা গেছে, মাত্র দুই মাস আগেই হৃদয়ের বাবা খন্দকার এনামুল হক মৃত্যুবরণ করেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন হৃদয়। বাবার মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই পরিবারের ওপর নেমে এলো আরেকটি ভয়াবহ বিপর্যয়।

 

হৃদয়ের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও পরিচিতজনদের মাঝে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরাও তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।