ঢাকা , শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বিএনপি প্রার্থী স্বামীর জন্য ধানের শীষে ভোট চাইলেন চীনা স্ত্রী Logo আপনারা যাকে খুশি তাকে ভোট দেন, কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধীদের ভোট দেবেন না —ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল Logo সীমানা নির্ধারণ নিয়ে আদমদীঘিতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা Logo গোমস্তাপুরে ভারতীয় নাগরিক রণজিৎ মন্ডলকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত দিল বিজিবি Logo রাজবাড়ী-২ আসনের ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী সাইয়েদ জামিল Logo ভোলাহাটে রেশম চাষের ব্যাপক চাহিদা Logo মাদারীপুরে পরকীয়ার অভিযোগঃ ঘুমন্ত স্বামীর পুরুষাঙ্গ কাটলেন স্ত্রী, অভিযুক্ত আটক Logo ফরিদপুরের ভাটি কানাইপুরে ডাকাতি সংঘটিত Logo সদরপুরে নিম্ম আয়ের মানুষের ভীড় বাড়ছে ফুটপাতের পুরানো শীতবস্ত্রের দোকানে Logo মধুখালীর রায়পুর ইউনিয়নে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

প্রার্থী মাঠে অনুপস্থিত, নাটোর-১ আসনে জাপার নির্বাচন বয়কট স্থানীয় নেতাদের

রাশিদুল ইসলাম রাশেদঃ

 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-১ (লালপুর–বাগাতিপাড়া) আসনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট মো. সাহেদ আলী জিন্নাহ দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনী এলাকায় অনুপস্থিত থাকায় তাঁর পক্ষে সব ধরনের নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

 

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে লালপুর উপজেলার দক্ষিণ লালপুর কলোনিতে অবস্থিত জাতীয় পার্টির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তারা।

 

সংবাদ সম্মেলনে বাগাতিপাড়া উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আব্দুল গনি বলেন, প্রার্থী মো. সাহেদ আলী জিন্নাহ লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলার দলীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা যোগাযোগ ছাড়াই মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়ন ফরম জমা না দেওয়ায় নির্বাচন কমিশন প্রথমে তাঁর মনোনয়ন বাতিল করে। পরে কীভাবে তিনি প্রার্থিতা ফিরে পান—সে বিষয়টি স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছে স্পষ্ট নয়।

 

তিনি আরও বলেন, দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর প্রার্থী নির্বাচনী এলাকায় আসবেন—এই আশায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা নিজ উদ্যোগে কয়েক দিন ধরে মাইকিং করে লাঙ্গল প্রতীকের প্রচারণা চালান। তবে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়।

 

স্থানীয় নেতারা অভিযোগ করেন, মনোনয়ন ও প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় পার্টির ওই প্রার্থী একবারও নির্বাচনী এলাকায় প্রবেশ করেননি। এমনকি উপজেলা বা জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও তাঁর কোনো যোগাযোগ নেই। বিষয়টি জেলা নেতাদের অবহিত করা হলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রার্থীর এমন নিষ্ক্রিয়তায় দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ জানান, দলীয় স্বার্থ ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলার সব নেতাকর্মীর সর্বসম্মতিক্রমে তারা নাটোর-১ আসনে লাঙ্গল প্রতীকের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নাটোর জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও লালপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির সিনিয়র সহসভাপতি ফরহাদ হোসেন, লালপুর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন, বাগাতিপাড়া উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক, গোপালপুর পৌর জাতীয় পার্টির সভাপতি নজরুল ইসলাম, বাগাতিপাড়া পৌর জাতীয় পার্টির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, লালপুর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন কবিরসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন নেতাকর্মী।

 

এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মো. সাহেদ আলী জিন্নাহ হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো এক বার্তায় জানান, খুব শিগগিরই তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন এবং তাঁদের নিয়েই নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। তিনি উচ্চ আদালতের মাধ্যমে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও মনোনয়ন ফরম উত্তোলন ও জমা সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

 

উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-১ আসনে মোট ১৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে তিনজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। পরে আপিলের মাধ্যমে দুইজন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পান। গত ২০ জানুয়ারি তিনজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন এবং ২১ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে নয়জন প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেয়। সাহেদ আলী জিন্নাহর প্রার্থিতা ও প্রতীক বরাদ্দের বিষয়টি গত ২৪ জানুয়ারি উচ্চ আদালতের নির্দেশে গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। এর আগে নির্বাচন কমিশন থেকেও তাঁর বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।


প্রিন্ট
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

কালুখালীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের মিছিল ও পথসভা

error: Content is protected !!

প্রার্থী মাঠে অনুপস্থিত, নাটোর-১ আসনে জাপার নির্বাচন বয়কট স্থানীয় নেতাদের

আপডেট টাইম : ১১ ঘন্টা আগে
রাশিদুল ইসলাম রাশেদ, লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি :

রাশিদুল ইসলাম রাশেদঃ

 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-১ (লালপুর–বাগাতিপাড়া) আসনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট মো. সাহেদ আলী জিন্নাহ দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনী এলাকায় অনুপস্থিত থাকায় তাঁর পক্ষে সব ধরনের নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

 

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে লালপুর উপজেলার দক্ষিণ লালপুর কলোনিতে অবস্থিত জাতীয় পার্টির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তারা।

 

সংবাদ সম্মেলনে বাগাতিপাড়া উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আব্দুল গনি বলেন, প্রার্থী মো. সাহেদ আলী জিন্নাহ লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলার দলীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা যোগাযোগ ছাড়াই মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়ন ফরম জমা না দেওয়ায় নির্বাচন কমিশন প্রথমে তাঁর মনোনয়ন বাতিল করে। পরে কীভাবে তিনি প্রার্থিতা ফিরে পান—সে বিষয়টি স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছে স্পষ্ট নয়।

 

তিনি আরও বলেন, দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর প্রার্থী নির্বাচনী এলাকায় আসবেন—এই আশায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা নিজ উদ্যোগে কয়েক দিন ধরে মাইকিং করে লাঙ্গল প্রতীকের প্রচারণা চালান। তবে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়।

 

স্থানীয় নেতারা অভিযোগ করেন, মনোনয়ন ও প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় পার্টির ওই প্রার্থী একবারও নির্বাচনী এলাকায় প্রবেশ করেননি। এমনকি উপজেলা বা জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও তাঁর কোনো যোগাযোগ নেই। বিষয়টি জেলা নেতাদের অবহিত করা হলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রার্থীর এমন নিষ্ক্রিয়তায় দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ জানান, দলীয় স্বার্থ ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলার সব নেতাকর্মীর সর্বসম্মতিক্রমে তারা নাটোর-১ আসনে লাঙ্গল প্রতীকের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নাটোর জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও লালপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির সিনিয়র সহসভাপতি ফরহাদ হোসেন, লালপুর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন, বাগাতিপাড়া উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক, গোপালপুর পৌর জাতীয় পার্টির সভাপতি নজরুল ইসলাম, বাগাতিপাড়া পৌর জাতীয় পার্টির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, লালপুর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন কবিরসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন নেতাকর্মী।

 

এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মো. সাহেদ আলী জিন্নাহ হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো এক বার্তায় জানান, খুব শিগগিরই তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন এবং তাঁদের নিয়েই নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। তিনি উচ্চ আদালতের মাধ্যমে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও মনোনয়ন ফরম উত্তোলন ও জমা সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

 

উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-১ আসনে মোট ১৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে তিনজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। পরে আপিলের মাধ্যমে দুইজন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পান। গত ২০ জানুয়ারি তিনজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন এবং ২১ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে নয়জন প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেয়। সাহেদ আলী জিন্নাহর প্রার্থিতা ও প্রতীক বরাদ্দের বিষয়টি গত ২৪ জানুয়ারি উচ্চ আদালতের নির্দেশে গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। এর আগে নির্বাচন কমিশন থেকেও তাঁর বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।


প্রিন্ট