ইস্রাফিল হােসেন ইমনঃ
চারিদিক সবুজে সবুজ। যে দিকে তাকানো যাবে দেখা যাবে ধানক্ষেত, সব্জির মাঠ। কিন্তু যদি উপর থেকে এই ধানক্ষেতের দিকে লক্ষ্য করা যায় তাহলে দেখা যাবে বাংলাদেশের মানচিত্র এবং স্মৃতিসৌধ। স্বাধীনতা দিবসে বাংলাদেশকে শ্রদ্ধা জানাতে এই কাজ করা হয়েছে।
কৃষকের দক্ষতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির প্রসার এবং তরুণ ও নারীদের কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারাতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি মেলা। আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারী ) সকাল সাড়ে ১১টার সময় ভেড়ামারা উপজেলা চত্বরে এই মেলার আয়োজন করে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শেষে লাল ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ আলমগীর বিশ্বাস।
কৃষিমেলা অনুষ্ঠিত সভায় সভাপত্বিত করেন কুষ্টিয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. শওকত হোসেন ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, যশোর অঞ্চল টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ রবিউল ইসলাম, ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাে: রফিকুল ইসলাম। স্বাগত বক্তা রাখেন ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মাহমুদা সুলতানা,বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সভাপিত ডাক্তার আমিরুল ইসলাম।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের মেলায় মোট ২১টি স্টলে উপজেলার শতাধিক কৃষক, নার্সারি মালিক ও উদ্যোক্তা তাদের উৎপাদিত বৈচিত্র্যময় কৃষি পণ্য প্রদর্শন করছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর আমন্ত্রিত অতিথিরা স্টলগুলো পরিদর্শন করেন। তবে এবারের মেলার প্রধান আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ধান, সরিষা, পেঁয়াজ বীজ, সূর্যমুখী ও ডালসহ প্রায় ১২টি ফসলের দানা দিয়ে তৈরি একটি দৃষ্টিনন্দন ‘শস্য মানচিত্র’। মেলায় আসা দর্শনার্থী থেকে শুরু করে অতিথিরা- সবার নজর কেড়েছে এই ব্যতিক্রমী শিল্পকর্মটি।
সরেজমিনে মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, সাজানো স্টলগুলোতে প্রদর্শিত হচ্ছে উচ্চফলনশীল লাউ, বিটরুট, বেগুন, মাশরুম, ক্যাপ্সিকাম ও বিভিন্ন জাতের কুলসহ হরেকরকম কৃষি পণ্য।
মেলায় আসা ভেড়ামারা সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ রাশেদ হাসান বলেন, মেলার প্রদর্শনী দেখে কৃষিতে সকলে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। চমৎকার আয়োজনের মধ্যে সকলের নজর কেড়েছে শস্য মানচিত্রটি।
ভেড়ামারা সরকারী ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী নাজমা খাতুন বলেন, কলেজে পাশে হওয়ায় মেলায় আসার সুযোগ পেয়েছি। এখানে বড় বড় লাউ, পেঁয়াজ, মাশরুম, ক্যাপসিকাম, কুলসহ অসংখ্য পণ্য দেখে খুবই ভালো লেগেছে। আর ধান, গম, সরিষাসহ বিভিন্ন ফসলের তৈরি শস্য মানচিত্রটি অসাধারণ হয়েছে। অনেকেই ছবি তুলেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম জানান, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে কৃষকের ভাগ্য বদলে যাবে। আগামী বুধবার পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটবে।
প্রধান অতিথি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ আলমগীর বিশ্বাস বলেন, কৃষিকে বাণিজ্যিক ও লাভজনক পেশায় রূপান্তর এবং উৎপাদন খরচ কমিয়ে ফসলের ক্ষতি রোধ করাই এই মেলার মূল উদ্দেশ্য।
প্রিন্ট

বিএনপি প্রার্থী স্বামীর জন্য ধানের শীষে ভোট চাইলেন চীনা স্ত্রী 
ইস্রাফিল হােসেন ইমন, ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি 





















