ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বিএনপি প্রার্থী স্বামীর জন্য ধানের শীষে ভোট চাইলেন চীনা স্ত্রী Logo আপনারা যাকে খুশি তাকে ভোট দেন, কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধীদের ভোট দেবেন না —ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল Logo সীমানা নির্ধারণ নিয়ে আদমদীঘিতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা Logo গোমস্তাপুরে ভারতীয় নাগরিক রণজিৎ মন্ডলকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত দিল বিজিবি Logo রাজবাড়ী-২ আসনের ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী সাইয়েদ জামিল Logo ভোলাহাটে রেশম চাষের ব্যাপক চাহিদা Logo মাদারীপুরে পরকীয়ার অভিযোগঃ ঘুমন্ত স্বামীর পুরুষাঙ্গ কাটলেন স্ত্রী, অভিযুক্ত আটক Logo ফরিদপুরের ভাটি কানাইপুরে ডাকাতি সংঘটিত Logo সদরপুরে নিম্ম আয়ের মানুষের ভীড় বাড়ছে ফুটপাতের পুরানো শীতবস্ত্রের দোকানে Logo মধুখালীর রায়পুর ইউনিয়নে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

‘হ্যাঁ’ মানে জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া: সাদিক কায়েম

নাঈম ইসলামঃ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেছেন, এই ভোট হবে গণভোটের পক্ষে, যেখানে আমরা ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করব। এই ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, এই ‘হ্যাঁ’ মানে ইনসাফ এবং শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার। ‘হ্যাঁ’ মানে জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া। ইনশাআল্লাহ, আমরা আমাদের প্রথম ভোটটি ‘হ্যাঁ’-তে দেব এবং দ্বিতীয় ভোটটি দেব ইনসাফের পক্ষে। আগামী দিনের বাংলাদেশ কেমন হবে, তা নির্ধারণে আমাদের সঠিক প্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে।

গতকাল সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে রংপুর নগরীর আবু সাঈদ চত্বর (বেরোবি গেট) এলাকায় ‘ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসংসদ’ আয়োজিত ‘হ্যাঁ’ ভোটের গণজমায়েতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে নির্বাচনের শুরু থেকেই জামায়াত ও এনসিপিসহ ১১টি দল ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছে। অথচ একটি দল গত ১৭ বছর জুলুমের শিকার হওয়া এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন করা সত্ত্বেও ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরব হতে ভয় পাচ্ছে। অনেক তাকিদ দেওয়ার পর সেই দলের মহান নেতা, যিনি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই, এই রংপুরে এসে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে কথা বলেছেন। তারা বড় বড় সমাবেশ করছে, লক্ষ-কোটি লিফলেট ও হাজার হাজার ব্যানার-ফেস্টুন তৈরি করছে, কিন্তু সেখানে ‘হ্যাঁ’ কথাটি লিখছে না। তাদের তৃণমূল কর্মীরা এখনো ‘হ্যাঁ’-এর বিপক্ষে অবস্থান করছে। এই ধরনের দ্বিমুখী নীতি (ডাবল স্ট্যান্ডার্ড) চলবে না।

ডাকসু ভিপি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে আর পরিবারতন্ত্র চলবে না। দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হয়ে পুনরায় ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠার পথ আমরা বন্ধ করে দেব। গত ৫৪ বছরের শাসন আমরা দেখেছি; রাজার ছেলে রাজা হবে—এমন সংস্কৃতি আর চলবে না। যোগ্যতার ভিত্তিতে এবং মেধার ভিত্তিতেই নেতা তৈরি হবে, যার কথা ও কাজে মিল থাকবে। আর এই লক্ষ্য অর্জনে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে জয়যুক্ত করতে হবে।

তিনি আরও যোগ করেন, যদি জুলাই বিপ্লব, শহীদ আবু সাঈদ এবং নতুন ৪ কোটি তরুণ ভোটারের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করতে হয়, তবে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। আপনারা ভুল পথে চলছেন, এখনো সময় আছে—তৃণমূল পর্যায়ে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা শুরু করুন।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে এই নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে এবং প্রধান কমিশনার নিয়োগ পেয়েছেন। অথচ তারা এখন বলছেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণা চালাতে পারবেন না। আমরা বলতে চাই, এই ধরনের ‘সুশীলগিরি’ স্বাধীন বাংলাদেশে চলবে না। আপনারা কার নির্দেশে এই নির্দেশনা দিচ্ছেন, তা স্পষ্ট করতে হবে। দিল্লির দালালরা এখনো দেশে বসে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে, কিন্তু আমরা তা সফল হতে দেব না। নির্বাচন কমিশনকে বলব—আপনাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করুন। দেশের সকল নাগরিক ও সংশ্লিষ্টদের এই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে একে বিপুল ভোটে জয়ী করতে হবে।

উল্লেখ্য, উক্ত গণজমায়েতে ডাকসু, জাকসু, চাকসু, রাকসু ও জকসু’র নির্বাচিত ছাত্রপ্রতিনিধিবৃন্দ বক্তব্য প্রদান করেন।


প্রিন্ট
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সদরপুর সীমান্তবর্তী এলাকায় দুই খ্রিস্টান ইমাম আটক

error: Content is protected !!

‘হ্যাঁ’ মানে জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া: সাদিক কায়েম

আপডেট টাইম : ০৬:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
নাঈম ইসলাম, রংপুর সদর উপজেলা (রংপুর) প্রতিনিধি :

নাঈম ইসলামঃ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেছেন, এই ভোট হবে গণভোটের পক্ষে, যেখানে আমরা ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করব। এই ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, এই ‘হ্যাঁ’ মানে ইনসাফ এবং শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার। ‘হ্যাঁ’ মানে জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া। ইনশাআল্লাহ, আমরা আমাদের প্রথম ভোটটি ‘হ্যাঁ’-তে দেব এবং দ্বিতীয় ভোটটি দেব ইনসাফের পক্ষে। আগামী দিনের বাংলাদেশ কেমন হবে, তা নির্ধারণে আমাদের সঠিক প্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে।

গতকাল সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে রংপুর নগরীর আবু সাঈদ চত্বর (বেরোবি গেট) এলাকায় ‘ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসংসদ’ আয়োজিত ‘হ্যাঁ’ ভোটের গণজমায়েতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে নির্বাচনের শুরু থেকেই জামায়াত ও এনসিপিসহ ১১টি দল ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছে। অথচ একটি দল গত ১৭ বছর জুলুমের শিকার হওয়া এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন করা সত্ত্বেও ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরব হতে ভয় পাচ্ছে। অনেক তাকিদ দেওয়ার পর সেই দলের মহান নেতা, যিনি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই, এই রংপুরে এসে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে কথা বলেছেন। তারা বড় বড় সমাবেশ করছে, লক্ষ-কোটি লিফলেট ও হাজার হাজার ব্যানার-ফেস্টুন তৈরি করছে, কিন্তু সেখানে ‘হ্যাঁ’ কথাটি লিখছে না। তাদের তৃণমূল কর্মীরা এখনো ‘হ্যাঁ’-এর বিপক্ষে অবস্থান করছে। এই ধরনের দ্বিমুখী নীতি (ডাবল স্ট্যান্ডার্ড) চলবে না।

ডাকসু ভিপি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে আর পরিবারতন্ত্র চলবে না। দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হয়ে পুনরায় ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠার পথ আমরা বন্ধ করে দেব। গত ৫৪ বছরের শাসন আমরা দেখেছি; রাজার ছেলে রাজা হবে—এমন সংস্কৃতি আর চলবে না। যোগ্যতার ভিত্তিতে এবং মেধার ভিত্তিতেই নেতা তৈরি হবে, যার কথা ও কাজে মিল থাকবে। আর এই লক্ষ্য অর্জনে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে জয়যুক্ত করতে হবে।

তিনি আরও যোগ করেন, যদি জুলাই বিপ্লব, শহীদ আবু সাঈদ এবং নতুন ৪ কোটি তরুণ ভোটারের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করতে হয়, তবে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। আপনারা ভুল পথে চলছেন, এখনো সময় আছে—তৃণমূল পর্যায়ে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা শুরু করুন।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে এই নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে এবং প্রধান কমিশনার নিয়োগ পেয়েছেন। অথচ তারা এখন বলছেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণা চালাতে পারবেন না। আমরা বলতে চাই, এই ধরনের ‘সুশীলগিরি’ স্বাধীন বাংলাদেশে চলবে না। আপনারা কার নির্দেশে এই নির্দেশনা দিচ্ছেন, তা স্পষ্ট করতে হবে। দিল্লির দালালরা এখনো দেশে বসে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে, কিন্তু আমরা তা সফল হতে দেব না। নির্বাচন কমিশনকে বলব—আপনাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করুন। দেশের সকল নাগরিক ও সংশ্লিষ্টদের এই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে একে বিপুল ভোটে জয়ী করতে হবে।

উল্লেখ্য, উক্ত গণজমায়েতে ডাকসু, জাকসু, চাকসু, রাকসু ও জকসু’র নির্বাচিত ছাত্রপ্রতিনিধিবৃন্দ বক্তব্য প্রদান করেন।


প্রিন্ট