ঢাকা , সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সিংড়ায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১০ Logo কুষ্টিয়ায় মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে বসতঘরে আগুন Logo চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত Logo ফরিদপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার Logo বিএনপি প্রার্থী স্বামীর জন্য ধানের শীষে ভোট চাইলেন চীনা স্ত্রী Logo আপনারা যাকে খুশি তাকে ভোট দেন, কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধীদের ভোট দেবেন না —ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল Logo সীমানা নির্ধারণ নিয়ে আদমদীঘিতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা Logo গোমস্তাপুরে ভারতীয় নাগরিক রণজিৎ মন্ডলকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত দিল বিজিবি Logo রাজবাড়ী-২ আসনের ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী সাইয়েদ জামিল Logo ভোলাহাটে রেশম চাষের ব্যাপক চাহিদা
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

সীমানা নির্ধারণ নিয়ে আদমদীঘিতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা

আব্দুস সালাম তালুকদারঃ

 

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার দমদমা গ্রামে জমি মাপজোখকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে আতাউল রহমানের সঙ্গে মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেমের ছেলে রানাউল ও রবিউলের মধ্যে এ বিরোধের ঘটনা ঘটে।

 

গত বুধবার (২১ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ১১টায় আতাউল রহমানের পক্ষে একজন আমিন এবং রানাউল ও রবিউলের পক্ষে দুইজন আমিন জমি মাপজোখের কাজ শুরু করেন। এ সময় ঘটনাস্থলে স্থানীয় গ্রামবাসী ও পাড়াপ্রতিবেশীদের পাশাপাশি জাতীয় দৈনিক ভোরের চেতনা-এর সহকারী বার্তা সম্পাদক মোছা. শারমিন খাতুন, বাংলাদেশ প্রেসক্লাব দুপচাঁচিয়া বগুড়ার সভাপতি তালাস উদ্দিন, সহ-সভাপতি মাসুদ রানা ও সুশান্ত দাস উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আদমদীঘি থানার এসআই বাবুল রহমান ও একজন কনস্টেবল দায়িত্ব পালন করেন।

 

প্রথমদিকে শান্তিপূর্ণভাবে মাপজোখ চললেও দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে এসআই বাবুল রহমান সবাইকে মাপজোখ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বিশেষ কাজে থানায় যান। যাওয়ার সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি ফিরে আসবেন এবং কোনো সমস্যার আশঙ্কা নেই। তবে পুলিশের উপস্থিতি না থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক চেম্বার আতাউর রহমান একতরফাভাবে মাপজোখ বন্ধ ঘোষণা করে আতাউল রহমানের পক্ষের আমিনকে ঘটনাস্থল ছাড়তে বাধ্য করেন। রানাউল ও রবিউলের পক্ষে থাকা আমিন এবং উপস্থিত লোকজন মাপজোখ অব্যাহত রাখতে চাইলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। এমনকি জমিতে খুঁটি মারতেও দেওয়া হয়নি।

 

এ সময় আতাউর রহমানের পরিবারের ৪–৫ জন নারী সদস্য উপস্থিত লোকজনকে বিভিন্ন ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আদমদীঘি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান নজিরকেও ঢুকতে গেলে গালিগালাজ করা হয় বলে জানা গেছে। ঘটনার পর রানাউল ও রবিউল দুই ভাই আদমদীঘি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। থানায় এসআই বাবুল রহমান উভয় পক্ষকে নিয়ে সালিশের মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা করেন। এ সময় আতাউল রহমান থানায় বসে মুচলেকা দেন যে, ভবিষ্যতে রানাউল ও রবিউলের সঙ্গে কোনো ঝামেলা করবেন না। একইভাবে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দেওয়া হলেও ভুক্তভোগীদের দাবি, বাস্তবে সেই মুচলেকার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি।

 

 

রানাউল ও রবিউল অভিযোগ করে বলেন, এখনো তারা সঠিক বিচার পাননি। তারা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান। এদিকে আতাউল রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি একটি মাদ্রাসার সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে এক লক্ষ টাকা উত্তোলন করেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থানায় অভিযোগ ও পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে পরে মাদ্রাসা কমিটির মাধ্যমে ওই টাকা ফেরত দেওয়া হয়। এছাড়াও রানাউল ও রবিউলের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি, প্রাণনাশের হুমকি এবং পূর্বে রানাউলকে মারধরের অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে আদমদীঘি থানার এসআই বাবুল রহমান বলেন, আতাউল রহমানের বিরুদ্ধে বগুড়া আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। আদালতের রায় হলে বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে। এ ক্ষেত্রে পুলিশের আর কিছু বলার নেই। স্থানীয়দের দাবি, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।


প্রিন্ট
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

শালিখায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণা, মাদ্রাসা সুপারের ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা হাতিয়ে নিল চক্র

error: Content is protected !!

সীমানা নির্ধারণ নিয়ে আদমদীঘিতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা

আপডেট টাইম : ০৬:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
আব্দুস সালাম তালুকদার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :

আব্দুস সালাম তালুকদারঃ

 

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার দমদমা গ্রামে জমি মাপজোখকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে আতাউল রহমানের সঙ্গে মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেমের ছেলে রানাউল ও রবিউলের মধ্যে এ বিরোধের ঘটনা ঘটে।

 

গত বুধবার (২১ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ১১টায় আতাউল রহমানের পক্ষে একজন আমিন এবং রানাউল ও রবিউলের পক্ষে দুইজন আমিন জমি মাপজোখের কাজ শুরু করেন। এ সময় ঘটনাস্থলে স্থানীয় গ্রামবাসী ও পাড়াপ্রতিবেশীদের পাশাপাশি জাতীয় দৈনিক ভোরের চেতনা-এর সহকারী বার্তা সম্পাদক মোছা. শারমিন খাতুন, বাংলাদেশ প্রেসক্লাব দুপচাঁচিয়া বগুড়ার সভাপতি তালাস উদ্দিন, সহ-সভাপতি মাসুদ রানা ও সুশান্ত দাস উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আদমদীঘি থানার এসআই বাবুল রহমান ও একজন কনস্টেবল দায়িত্ব পালন করেন।

 

প্রথমদিকে শান্তিপূর্ণভাবে মাপজোখ চললেও দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে এসআই বাবুল রহমান সবাইকে মাপজোখ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বিশেষ কাজে থানায় যান। যাওয়ার সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি ফিরে আসবেন এবং কোনো সমস্যার আশঙ্কা নেই। তবে পুলিশের উপস্থিতি না থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক চেম্বার আতাউর রহমান একতরফাভাবে মাপজোখ বন্ধ ঘোষণা করে আতাউল রহমানের পক্ষের আমিনকে ঘটনাস্থল ছাড়তে বাধ্য করেন। রানাউল ও রবিউলের পক্ষে থাকা আমিন এবং উপস্থিত লোকজন মাপজোখ অব্যাহত রাখতে চাইলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। এমনকি জমিতে খুঁটি মারতেও দেওয়া হয়নি।

 

এ সময় আতাউর রহমানের পরিবারের ৪–৫ জন নারী সদস্য উপস্থিত লোকজনকে বিভিন্ন ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আদমদীঘি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান নজিরকেও ঢুকতে গেলে গালিগালাজ করা হয় বলে জানা গেছে। ঘটনার পর রানাউল ও রবিউল দুই ভাই আদমদীঘি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। থানায় এসআই বাবুল রহমান উভয় পক্ষকে নিয়ে সালিশের মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা করেন। এ সময় আতাউল রহমান থানায় বসে মুচলেকা দেন যে, ভবিষ্যতে রানাউল ও রবিউলের সঙ্গে কোনো ঝামেলা করবেন না। একইভাবে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দেওয়া হলেও ভুক্তভোগীদের দাবি, বাস্তবে সেই মুচলেকার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি।

 

 

রানাউল ও রবিউল অভিযোগ করে বলেন, এখনো তারা সঠিক বিচার পাননি। তারা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান। এদিকে আতাউল রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি একটি মাদ্রাসার সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে এক লক্ষ টাকা উত্তোলন করেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থানায় অভিযোগ ও পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে পরে মাদ্রাসা কমিটির মাধ্যমে ওই টাকা ফেরত দেওয়া হয়। এছাড়াও রানাউল ও রবিউলের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি, প্রাণনাশের হুমকি এবং পূর্বে রানাউলকে মারধরের অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে আদমদীঘি থানার এসআই বাবুল রহমান বলেন, আতাউল রহমানের বিরুদ্ধে বগুড়া আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। আদালতের রায় হলে বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে। এ ক্ষেত্রে পুলিশের আর কিছু বলার নেই। স্থানীয়দের দাবি, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।


প্রিন্ট