সোহাগ কাজী:
মাদারীপুরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের চেতনায় গঠিত জাতীয় ছাত্র শক্তি (এনসিপি-র অঙ্গসংগঠন) বড় ধরনের ভাঙনের মুখে পড়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটির ঘোষিত জেলা কমিটিতে ‘বৈষম্য’ ও ‘অসাংগঠনিক’ প্রক্রিয়ার অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেছেন জেলা মুখ্য সংগঠকসহ ১৬ জন নেতাকর্মী।
গত ৩০ জানুয়ারি জাতীয় ছাত্র শক্তির মাদারীপুর জেলা কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্র শক্তি। অভিযোগ উঠেছে, এই কমিটিতে জেলার ৫টি থানার প্রতিফলন ঘটেনি। শুধুমাত্র মাদারীপুর সদর থানার গুটিকয়েক ছাত্রকে নিয়ে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা কমিটির নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি থানা থেকে প্রতিনিধিত্ব থাকার কথা থাকলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে বলে দাবি।
জেলা কমিটির মুখ্য সংগঠক ও জুলাই আন্দোলনের অগ্রভাগের যোদ্ধা রায়ান হাওলাদার গণমাধ্যমকে জানান—
“সংগঠনের ভেতরেই যখন সত্যের অভাব থাকে, তখন সেখানে থেকে রাজনীতি করা মানে ছাত্র সমাজ ও দেশের মানুষের সাথে বেইমানি করা। ৫টি থানা থেকে ন্যূনতম ৫ জন নেতার নামও এই কমিটিতে রাখা হয়নি। এমনকি যাকে আহ্বায়ক করা হয়েছে, তিনি ছাত্রও নন।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, এনসিপি মাদারীপুর জেলায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে কোনো প্রকার আলোচনা ছাড়াই একের পর এক কমিটি ঘোষণা করছে, যার ফলে দলের ভেতর চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে।
পদত্যাগকারী নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মাদারীপুর দেশের দ্বিতীয় ক্ষতিগ্রস্ত জেলা। এখানে ১৭ জন শহীদ ও দুই শতাধিক আহত যোদ্ধা রয়েছেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় ছাত্র শক্তি কমিটি দেওয়ার ক্ষেত্রে এই ত্যাগী যোদ্ধাদের মূল্যায়ন না করে মাদারীপুরের সাথে বিমাতাসুলভ আচরণ ও বৈষম্য করছে।
এই কমিটি প্রত্যাখ্যান করে মুখ্য সংগঠক রায়হান হাওলাদারসহ জেলার মোট ১৬ জন নেতাকর্মী একযোগে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। এই গণপদত্যাগের ফলে জেলায় জাতীয় ছাত্র শক্তির সাংগঠনিক কার্যক্রম বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
প্রিন্ট

বিএনপি প্রার্থী স্বামীর জন্য ধানের শীষে ভোট চাইলেন চীনা স্ত্রী 
সোহাগ কাজী, সদর উপজেলা (মাদারীপুর) প্রতিনিধি 
















