মোঃ নূর ই আলম (কাজী নূর):
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশকে গড়তে হলে নারী-পুরুষ সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। বিএনপি বিশ্বাস করে দেশের উন্নয়ন করতে হলে নারী-পুরুষ সবার সমান অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বিএনপি রাজনীতি করে এদেশের মানুষের জন্য। এজন্য বিএনপি যতবার সরকার গঠন করেছে ততবারই পদক্ষেপ নিয়েছে দেশের উন্নয়ন করার।
সোমবার বেলা ২টায় যশোর উপশহর ডিগ্রি কলেজ মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি দেশের বাস্তব সমস্যা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে চায়। বিএনপি বিশ্বাস করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে তবেই দেশ ও মানুষের প্রকৃত সমস্যার সমাধান সম্ভব। গত ১৬-১৭ বছর ধরে রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনে অসংখ্য মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এমনকি শেষ পর্যন্ত জীবনও দিয়েছেন। এই আত্মত্যাগের প্রতিদান দিতে হলে শুধু সভা-সমাবেশ যথেষ্ট নয়। জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হলে আগামী ১২ তারিখ সবাইকে সোচ্চার থাকতে হবে, ভোট গণনা নিয়ে যেন কোনো কারচুপি না হয়।
তিনি যশোরে কৃষি ও ফুল চাষের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে এ অঞ্চলের ফুল দেশের প্রয়োজন মিটিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করার ব্যবস্থা করা হবে। কৃষি ক্ষেত্রে নেওয়া হবে বিভিন্ন পদক্ষেপ। যার অংশ হিসেবে শার্শার উলাসী খাল খননসহ সব বিল ও খাল উন্মুক্ত করা হবে।
নারী উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় মেয়েদের দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনা খরচে শিক্ষার সুযোগ চালু করা হয়েছিল, যার সুফল আজও পাওয়া যাচ্ছে। ভবিষ্যতে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী করতে প্রতিটি মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় বীজ ও সার ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে কৃষক কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
তারেক রহমান আরও বলেন, তরুণ সমাজকে আইটি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং বিদেশ যেতে আগ্রহীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মসজিদ-মাদ্রাসার ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য মাসিক সম্মানির ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়ে বিএনপির এই প্রধান নেতা বলেন, ১২ তারিখে ধানের শীষ বিজয়ী হলে ১৩ তারিখ থেকেই এসব কার্যক্রম শুরু করা হবে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবরুল হক সাবু। আরও বক্তব্য দেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি, বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. নিতাই রায় চৌধুরী, অধ্যাপক নার্গিস বেগম, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু, কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল, নড়াইল জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মজিদ, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ, যশোর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন প্রমুখ।
সমাবেশ পরিচালনা করেন যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন। পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মুফতি আমানুল্লাহ কাসেমী এবং গীতা পাঠ করেন বাবু নির্মল কুমার বিট।
সমাবেশ শেষে প্রধান অতিথি তারেক রহমান জুলাই যুদ্ধাহত এবং শহীদদের পিতা-মাতার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
প্রিন্ট

বিএনপি প্রার্থী স্বামীর জন্য ধানের শীষে ভোট চাইলেন চীনা স্ত্রী 
মোঃ নূর ই আলম (কাজী নূর), যশোর জেলা প্রতিনিধি 





















