জসীমউদ্দিন ইতিঃ
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবিশ্বাস্য এক চিত্র দেখা গেছে। ৫ জন পদের বিপরীতে কর্মরত সকল শিক্ষক উপস্থিত থাকলেও পুরো বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর দেখা মিলেছে মাত্র ২ জন। ৫ জন শিক্ষক মিলে সেই ২ জন শিশু শিক্ষার্থীকেই পাঠদান করছেন। উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের পি.এ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।
মঙ্গলবার সকালে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, পরিপাটি ক্লাসরুম আর সারি সারি চেয়ার-টেবিল সাজানো থাকলেও সেখানে শিক্ষার্থীদের কোনো কোলাহল নেই। প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি কক্ষই প্রায় শূন্য। একটি কক্ষে প্রাক-প্রাথমিকের এক শিশুকে পড়াচ্ছেন এক নারী শিক্ষক, অন্য কক্ষে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর ক্লাস নিচ্ছেন আরেকজন শিক্ষক। বাকি শিক্ষকরা অফিস কক্ষে বসে অলস সময় পার করছেন।
বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতা অনুযায়ী মোট শিক্ষার্থী ৫৪ জন থাকলেও সরেজমিনে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, চাকরি বাঁচানোর তাগিদে প্রধান শিক্ষক ভুয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি দেখিয়ে রেখেছেন। বাস্তবে এই সংখ্যা ২৫ থেকে ৩০ জনের বেশি নয়।
অভিযোগের আঙুল শিক্ষকদের অবহেলায় স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শিক্ষকদের চরম অবহেলা ও অনিয়মের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, শিক্ষকরা নিয়মিত স্কুলে আসেন না, আর আসলেও ঠিকমতো পড়াশোনা করান না। অথচ স্কুলের পাশেই প্রধান শিক্ষকের বাড়ি হওয়ায় এবং তিনি প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না।
নিয়ম অনুযায়ী অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের খোঁজ নিতে শিক্ষকদের ‘হোম ভিজিট’ করার কথা থাকলেও বিদ্যালয়ে এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। দুপুরের পর অনেক সময় স্কুল বন্ধ করে শিক্ষকরা চলে যান বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোপাল চন্দ্র রায় স্বীকার করেন যে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আগের চেয়ে কমেছে। তিনি বলেন, আশপাশে কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি স্কুল গড়ে ওঠায় অভিভাবকরা সেখানে ঝুঁকছেন। তবে আমরা শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনতে কাজ করছি এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের সাথে কথা বলছি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রাহিম উদ্দিন জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, গত ২৬ এপ্রিল সহকারী শিক্ষা অফিসার শাহিনুর ইসলাম ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শোকজ করেছেন। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির বিষয়ে তাদের আবারও শোকজ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও তদারকির অভাব এবং শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতায় এভাবে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধের উপক্রম হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।
প্রিন্ট

ফরিদপুরে ট্রিপল মার্ডারঃ ১০ ঘণ্টায় গ্রেফতার প্রধান আসামি, উদ্ধার কোদাল 
জসীমউদ্দীন ইতি, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি 

















