ঢাকা , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ফরিদপুরে ট্রিপল মার্ডারঃ ১০ ঘণ্টায় গ্রেফতার প্রধান আসামি, উদ্ধার কোদাল Logo ফরিদপুরে ‘শ্মশান বন্ধু’ কানু সেন অনেকটাই সুস্থ Logo বাঘায় সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিতঃ উপস্থিতির হারে বালিকা এগিয়ে Logo নরসিংদীর শিবপুরে ২৬ মামলার আসামিসহ দুই ডাকাত গ্রেপ্তার Logo খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে পালিত হবে আগামীকাল Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক উদ্ধার Logo সকল রাজনৈক দল, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণী পেশার মানুষের সেবা করতে বিএনপি সরকার ওয়াদাবদ্ধ Logo সেনবাগে কাওমী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ঈদ উপহার বিতরণ করলেন লায়ন শাহাদাত হোসেন Logo সিংড়ায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১০ Logo কুষ্টিয়ায় মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে বসতঘরে আগুন
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

বাবার প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে নিভে গেল সন্তানের জীবন

রাশিদুল ইসলাম রাশেদঃ

 

অটোরিকশাচালক মো. আল আমিন প্রতিদিনের মতোই নিজের বাড়িতে অটোরিকশা চার্জে দিয়ে পাশের ঘরে খাবার খেতে যান। কিছুক্ষণ পর বাইরে এসে দেখেন অটোর লাইট জ্বলছে। সেটি বন্ধ করতে গিয়ে বৈদ্যুতিক গোলযোগে তিনি বিদ্যুতায়িত হয়ে অসহায়ভাবে গোঙাতে থাকেন।

বাবার সেই আর্তনাদ শুনে ছোট্ট আব্দুল্লাহ আল আরাফাত ছুটে আসে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা না বুঝেই বাবাকে বাঁচানোর তাগিদে তাকে স্পর্শ করে সে। মুহূর্তেই নিজেও তীব্র বৈদ্যুতিক শকে আক্রান্ত হয় আব্দুল্লাহ। সঙ্গে সঙ্গে আনন্দমুখর একটি পরিবারে নেমে আসে অন্ধকার। বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে এভাবেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিভে যায় আট বছরের শিশু আব্দুল্লাহর জীবন। সোমবার (২৭ এপ্রিল ২০২৬) সন্ধ্যায় নাটোরের লালপুর উপজেলার মোহরকয়া গ্রামে ঘটে এই মর্মান্তিক হৃদয়বিদারক ঘটনা। এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়।

 

আব্দুল্লাহর মা আছমা বেগম জানান, বাবা ও ছেলের চিৎকার শুনে বাইরে ছুটে এসে দেখেন তারা অটোরিকশার সাথে আটকে আছেন। এ সময় বাবা ও ছেলের বিদ্যুতায়িত হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি দ্রুত বৈদ্যুতিক মেইন সুইচ বন্ধ করে দেন। এতে আল আমিন ছিটকে পড়ে প্রাণে বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকে শিশু আব্দুল্লাহ। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে দ্রুত লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

পরিবারের একমাত্র সন্তান আব্দুল্লাহ স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের নার্সারি শ্রেণির ছাত্র ছিল। তার হঠাৎ চলে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বাবা-মা। বাড়ির উঠোনজুড়ে এখন শুধু কান্না আর শোকের মাতম।

 

লালপুর থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি অপমৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

অসচেতন বৈদ্যুতিক সংযোগ কতটা ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনতে পারে একটি ছোট্ট শিশুর সাহসী কিন্তু মর্মান্তিক পরিণতি আবারও আমাদের মনে করিয়ে দিল।


প্রিন্ট
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

মাগুরা বালিদিয়া গ্রামে অবসরপ্রাপ্ত নৌবাহিনী সদস্যর জমি দখলের অভিযোগ

error: Content is protected !!

বাবার প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে নিভে গেল সন্তানের জীবন

আপডেট টাইম : ১৯ ঘন্টা আগে
রাশিদুল ইসলাম রাশেদ, লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি :

রাশিদুল ইসলাম রাশেদঃ

 

অটোরিকশাচালক মো. আল আমিন প্রতিদিনের মতোই নিজের বাড়িতে অটোরিকশা চার্জে দিয়ে পাশের ঘরে খাবার খেতে যান। কিছুক্ষণ পর বাইরে এসে দেখেন অটোর লাইট জ্বলছে। সেটি বন্ধ করতে গিয়ে বৈদ্যুতিক গোলযোগে তিনি বিদ্যুতায়িত হয়ে অসহায়ভাবে গোঙাতে থাকেন।

বাবার সেই আর্তনাদ শুনে ছোট্ট আব্দুল্লাহ আল আরাফাত ছুটে আসে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা না বুঝেই বাবাকে বাঁচানোর তাগিদে তাকে স্পর্শ করে সে। মুহূর্তেই নিজেও তীব্র বৈদ্যুতিক শকে আক্রান্ত হয় আব্দুল্লাহ। সঙ্গে সঙ্গে আনন্দমুখর একটি পরিবারে নেমে আসে অন্ধকার। বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে এভাবেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিভে যায় আট বছরের শিশু আব্দুল্লাহর জীবন। সোমবার (২৭ এপ্রিল ২০২৬) সন্ধ্যায় নাটোরের লালপুর উপজেলার মোহরকয়া গ্রামে ঘটে এই মর্মান্তিক হৃদয়বিদারক ঘটনা। এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়।

 

আব্দুল্লাহর মা আছমা বেগম জানান, বাবা ও ছেলের চিৎকার শুনে বাইরে ছুটে এসে দেখেন তারা অটোরিকশার সাথে আটকে আছেন। এ সময় বাবা ও ছেলের বিদ্যুতায়িত হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি দ্রুত বৈদ্যুতিক মেইন সুইচ বন্ধ করে দেন। এতে আল আমিন ছিটকে পড়ে প্রাণে বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকে শিশু আব্দুল্লাহ। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে দ্রুত লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

পরিবারের একমাত্র সন্তান আব্দুল্লাহ স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের নার্সারি শ্রেণির ছাত্র ছিল। তার হঠাৎ চলে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বাবা-মা। বাড়ির উঠোনজুড়ে এখন শুধু কান্না আর শোকের মাতম।

 

লালপুর থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি অপমৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

অসচেতন বৈদ্যুতিক সংযোগ কতটা ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনতে পারে একটি ছোট্ট শিশুর সাহসী কিন্তু মর্মান্তিক পরিণতি আবারও আমাদের মনে করিয়ে দিল।


প্রিন্ট