নুরুল ইসলামঃ
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনের প্রাণকেন্দ্র সদরপুর স্টেডিয়াম এখন অযত্ন, অবহেলা ও নোংরা পরিবেশের কারণে চরম দুরবস্থায় পড়েছে। গ্যালারিতে বাঁশের স্তূপ, বড় বড় ঘাস ও আগাছা, যত্রতত্র ময়লার স্তূপ এবং দুর্গন্ধে স্টেডিয়াম এলাকা এখন প্রায় ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে উঠেছে।
শনিবার (৯ মে) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্টেডিয়ামের একাংশ খোলা শৌচাগার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তীব্র দুর্গন্ধে সেখানে দাঁড়ানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। এছাড়া মাঠের ভেতরে অবৈধ ঝুপড়ি দোকান ও অপরিকল্পিত পানির কল স্থাপনের কারণে বড় একটি অংশ কর্দমাক্ত হয়ে খেলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বাজারসংলগ্ন এলাকায় সীমানা প্রাচীর না থাকায় পথচারী ও ব্যবসায়ীরা অবাধে মাঠে প্রবেশ করে পরিবেশ নষ্ট করছেন।
এদিকে, ২০২৪ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে স্থাপিত স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর বর্তমানে ময়লার স্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে, যা স্থানীয়দের মাঝে হতাশা সৃষ্টি করেছে।
গত শুক্রবার স্টেডিয়ামে একটি ফুটবল ম্যাচ আয়োজনের কথা থাকলেও মাঠের করুণ অবস্থার কারণে খেলোয়াড়দের নিজ উদ্যোগেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করতে হয়। সদরপুর খেলোয়াড় কল্যাণ কমিটির সদস্য মাহফুজুল হক ও তার সঙ্গীরা কাঁচি ও পরিষ্কার সরঞ্জাম নিয়ে মাঠ পরিষ্কারে নামেন। তিনি বলেন, “খেলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আমরা নিজেরাই কাজ করছি, তবে প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া এটি টেকসই হবে না।”
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা ইমারত হোসেন বলেন, “একসময় এই মাঠ ছিল আমাদের বিনোদনের কেন্দ্র। কিন্তু এখনকার অবস্থা দেখে মনে হয় মাঠটির অস্তিত্বই হুমকির মুখে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ঐতিহ্য হারিয়ে যাবে।”
ফুটবল খেলোয়াড় ফাইজুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বাজারের লোকজনের অবাধ যাতায়াত এবং কাদা-পানির কারণে নিয়মিত অনুশীলন করা যাচ্ছে না।”
এ বিষয়ে সদরপুর খেলোয়াড় কল্যাণ কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক একেএম আবু সাঈদ বলেন, “স্টেডিয়ামের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আমরা অবগত। বাজারসংলগ্ন এলাকায় সীমানা প্রাচীর ও প্রবেশ গেট নির্মাণের পরিকল্পনা ইতোমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে। স্টেডিয়ামের আধুনিকায়ন ও হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে আমরা কাজ করছি।”
স্থানীয় ক্রীড়ামোদীদের দাবি, দ্রুত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করে সদরপুর স্টেডিয়ামকে আবারও খেলার উপযোগী করে তোলা হোক।

দেড় লাখ টাকার গাছ ৫০ হাজারে নিলাম 
নুরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার 




















