ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

মাগুরায় হিজড়া কেয়াকে বিয়ে করে জগদল ইউনিয়নে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে বিল আকছির রাজু

মাগুরা সদর উপজেলার জগদল ইউনিয়নে হিজড়া (তৃতীয় লিঙ্গ) প্রেমের ছলনার জালে জড়িয়ে বিল আকছি গ্রামের রাজু মোল্লার সাথে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে। শুক্রবার ৭ জুলাই সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় রাজু ও হিজড়া কেয়ার বিয়ের  ঘটনা, আর এই বিয়ে নিয়ে জগদল ইউনিয়নের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়েছে।
জগদল ইউনিয়নের বিল আকছি (উত্তরপাড়া) গ্রামের মৎস্য শিকারী রব্বানী মোল্লার পুত্র রাজু মোল্লা (২৫) ও একই ইউনিয়নের আজমপুর গ্রামের (ফকির পাড়া) এলাকার পিকুল ফকিরের পুত্র তুষার এই হিজড়া (তৃতীয় লিঙ্গ) কেয়া।
রাজু মোল্লা জানান, ১০-১৫ দিন পূর্বে ২ লাখ টাকা দেন মোহর দিয়ে কেয়া হিজড়ার (তৃতীয় লিঙ্গ) সাথে আমার বিয়ে হয়।
এই রাজু মোল্লার সংসারে স্ত্রী মেহেরীন ও হুজাইফা নামের ১ ছেলে আছে, পেশায় সে ছিলো রড-গ্রীলের মিস্ত্রি।
হিজড়া কেয়া (২৪) জানান, কাজীর মাধ্যমে ১৫-২০ দিন পূর্বে রাজুকে বিয়ে করেছি। সে আরও জানায় সপ্তাহ খানেক আগে রাজু’র শশুর সাহেব আলী ও শাশুড়ী শারজিনা বেগম আমার জগদল বাড়িতে রাত ৯ টার সময় ৫ জন লোক নিয়ে প্রবেশ করে ২-৩ হাজার টাকা ও রাজু’র কাপড়চোপড় নিয়ে যায়। এরপর রাত ৩ টার সময় ১৫-১৬ জন লোক ঘরে জোর করে প্রবেশ করলে গ্রাম পুলিশ চৌকিদার লুৎফার ও সাথে স্থানীয় এক বড় ভাই আমাদের ২ জনকে উদ্ধার করে।
তিনি আরও বলেন, এখন আমি যশোর আছি আর রাজু আমার থেকে বহুদূরে আছে।
রাজু’র পিতা রব্বানী মোল্লা ও বোন সুইটি খাতুন সহ এলাকার লোকজন বলে, আমরা হতবাক হয়ে গেছি রাজু’র এই কান্ড দেখে। তারা এদের ২ জনের আইনের আওতায় বিচার করে কঠিন শাস্তি চান।
রাজু’র শশুর পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের রায়গ্রামের সাহেব আলী জানায়, শুনেছি কোটের মাধ্যমে আমার জামাই রাজু ও হিজড়া কেয়ার বিয়ে হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নরসিংহাটি গ্রামের সাবেক খরমুজ মেম্বারের পুত্র আবির হলো এই হিজড়া তুষার (কেয়া) এর সাথে যোগাযোগ ও বিয়ের বিষয়ে উৎসাহ ও সহযোগিতার মুলহোতা ব্যক্তি।
রাজু’র স্ত্রী মেহেরীন খাতুন ও শাশুড়ী শারজীনা বেগম বলেন, ইতিমধ্যে মাগুরা সদর থানায় রাজুসহ তার পরিবারের বিরুদ্ধে একটা অভিযোগ দায়ের করেছি। তারা ২ জনই ক্রন্দনরত অবস্থায় বলেন, রাজু মোল্লা ঐ হিজড়া কেয়া নামের লোকটার কাছে থেকে ফিরে না আসলে, তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন মামলা দায়ের করে জেলের ঘানি টানাবো।
এ বিষয়ে ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর লিয়াকত আলী জানান, হিজড়াকে বিয়ে করা এটা সামাজিক ভাবে বেমানান ও আইনসিদ্ধ নয়, বিষয়টি খুবই দুঃখ জনক ও হাস্যকর। তবে তিনি বলেন এই রাজুর বিয়ে করা স্ত্রী ও ২ বছর বয়সী ১ পুত্র সন্তান রয়েছে।
এদিকে গোপন সূত্রে জানা যায়, কুচিয়ামোড়া ইউনিয়নের বাটকেবাড়িয়া গ্রামের সেলিম মৌরী খুবই গোপনে এই হিজড়া কেয়ার (তুষার) সাথে রাজু’র বিয়ে যাবতীয় কাজের সহযোগিতা করেছে।
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগাতিপাড়ায় উপজেলা সমবায় কর্মকর্তার বিদায় সংবর্ধনা

error: Content is protected !!

মাগুরায় হিজড়া কেয়াকে বিয়ে করে জগদল ইউনিয়নে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে বিল আকছির রাজু

আপডেট টাইম : ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ জুলাই ২০২৩
রনি আহমেদ রাজু, মাগুরা জেলা প্রতিনিধি :
মাগুরা সদর উপজেলার জগদল ইউনিয়নে হিজড়া (তৃতীয় লিঙ্গ) প্রেমের ছলনার জালে জড়িয়ে বিল আকছি গ্রামের রাজু মোল্লার সাথে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে। শুক্রবার ৭ জুলাই সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় রাজু ও হিজড়া কেয়ার বিয়ের  ঘটনা, আর এই বিয়ে নিয়ে জগদল ইউনিয়নের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়েছে।
জগদল ইউনিয়নের বিল আকছি (উত্তরপাড়া) গ্রামের মৎস্য শিকারী রব্বানী মোল্লার পুত্র রাজু মোল্লা (২৫) ও একই ইউনিয়নের আজমপুর গ্রামের (ফকির পাড়া) এলাকার পিকুল ফকিরের পুত্র তুষার এই হিজড়া (তৃতীয় লিঙ্গ) কেয়া।
রাজু মোল্লা জানান, ১০-১৫ দিন পূর্বে ২ লাখ টাকা দেন মোহর দিয়ে কেয়া হিজড়ার (তৃতীয় লিঙ্গ) সাথে আমার বিয়ে হয়।
এই রাজু মোল্লার সংসারে স্ত্রী মেহেরীন ও হুজাইফা নামের ১ ছেলে আছে, পেশায় সে ছিলো রড-গ্রীলের মিস্ত্রি।
হিজড়া কেয়া (২৪) জানান, কাজীর মাধ্যমে ১৫-২০ দিন পূর্বে রাজুকে বিয়ে করেছি। সে আরও জানায় সপ্তাহ খানেক আগে রাজু’র শশুর সাহেব আলী ও শাশুড়ী শারজিনা বেগম আমার জগদল বাড়িতে রাত ৯ টার সময় ৫ জন লোক নিয়ে প্রবেশ করে ২-৩ হাজার টাকা ও রাজু’র কাপড়চোপড় নিয়ে যায়। এরপর রাত ৩ টার সময় ১৫-১৬ জন লোক ঘরে জোর করে প্রবেশ করলে গ্রাম পুলিশ চৌকিদার লুৎফার ও সাথে স্থানীয় এক বড় ভাই আমাদের ২ জনকে উদ্ধার করে।
তিনি আরও বলেন, এখন আমি যশোর আছি আর রাজু আমার থেকে বহুদূরে আছে।
রাজু’র পিতা রব্বানী মোল্লা ও বোন সুইটি খাতুন সহ এলাকার লোকজন বলে, আমরা হতবাক হয়ে গেছি রাজু’র এই কান্ড দেখে। তারা এদের ২ জনের আইনের আওতায় বিচার করে কঠিন শাস্তি চান।
রাজু’র শশুর পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের রায়গ্রামের সাহেব আলী জানায়, শুনেছি কোটের মাধ্যমে আমার জামাই রাজু ও হিজড়া কেয়ার বিয়ে হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নরসিংহাটি গ্রামের সাবেক খরমুজ মেম্বারের পুত্র আবির হলো এই হিজড়া তুষার (কেয়া) এর সাথে যোগাযোগ ও বিয়ের বিষয়ে উৎসাহ ও সহযোগিতার মুলহোতা ব্যক্তি।
রাজু’র স্ত্রী মেহেরীন খাতুন ও শাশুড়ী শারজীনা বেগম বলেন, ইতিমধ্যে মাগুরা সদর থানায় রাজুসহ তার পরিবারের বিরুদ্ধে একটা অভিযোগ দায়ের করেছি। তারা ২ জনই ক্রন্দনরত অবস্থায় বলেন, রাজু মোল্লা ঐ হিজড়া কেয়া নামের লোকটার কাছে থেকে ফিরে না আসলে, তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন মামলা দায়ের করে জেলের ঘানি টানাবো।
এ বিষয়ে ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর লিয়াকত আলী জানান, হিজড়াকে বিয়ে করা এটা সামাজিক ভাবে বেমানান ও আইনসিদ্ধ নয়, বিষয়টি খুবই দুঃখ জনক ও হাস্যকর। তবে তিনি বলেন এই রাজুর বিয়ে করা স্ত্রী ও ২ বছর বয়সী ১ পুত্র সন্তান রয়েছে।
এদিকে গোপন সূত্রে জানা যায়, কুচিয়ামোড়া ইউনিয়নের বাটকেবাড়িয়া গ্রামের সেলিম মৌরী খুবই গোপনে এই হিজড়া কেয়ার (তুষার) সাথে রাজু’র বিয়ে যাবতীয় কাজের সহযোগিতা করেছে।