ঢাকা , শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

বাঘার জননী ক্লিনিকে সিজারিয়ানের পর নবজাতকের মৃত্যুঃ মৃতপ্রায় নবজাতককে রেফার্ডের অভিযোগ

আব্দুল হামিদ মিঞাঃ

বাঘা উপজেলার বেসরকারি জননী ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের পর এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শিশুটিকে মূমূর্ষ অবস্থায় রাজশাহী শহরে রেফার্ডের পথেই তার মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পেশাগত দায়িত্ব পালন কালে ঘটনাস্থলের ভিডিও ধারণ করেছেন এক সংবাদকর্মী।

 

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুর ৩টায় বাঘা পৌর সদরে জননী ক্লিনিকে এক প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পরপরই নবজাতককে অসুস্থ অবস্থায় দ্রুত রাজশাহী শহরের একটি হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। কিন্তু পথেই শিশুটি মারা যায়।

 

রেফার্ড এর সময় এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করায় ক্লিনিকের এক নার্স বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান। এরপর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ডা. আকতারুজ্জামান সংবাদকর্মী আব্দুল হামিদকে ডেকে ভিডিও ডিলিট করতে বলেন। এনিয়ে বাক বিতণ্ডার এক পর্যায়ে সংবাদকর্মী মোবাইল না দেওয়ায় তিনি ব্যর্থ হন।

 

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ওইদিন জননী ক্লিনিকের সামনে একটি সাদা মাইক্রোবাস দাঁড়িয়ে আছে। ক্লিনিক থেকে একে একে নারী ও শিশুরা বের হয়ে গাড়িতে উঠছেন।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা বলেন, “এই ক্লিনিকে এর আগেও অপারেশনের পর জটিলতার অভিযোগ আছে। এখন ভিডিও করতেও বাধা দিচ্ছে। কি আড়াল করতে চায় তারা?” তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ডা. আকতারুজ্জামান বলেন, “আমি ও অ্যানাসথেসিয়ার চিকিৎসক ডা. তুহিন মিলে অপারেশন করেছি। অপারেশন সফল ছিল। তবে নবজাতকের গলায় নাড়ির প্যাঁচ ছিল। প্রাথমিক পরিচর্যার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য শহরে রেফার্ড করা হয়।” উপজেলার খায়ের হাট শিমুল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাকে জানানো হয়, নবজাতকের যে সমস্যা হয়েছে তা শহরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু নবজাতক যে মারা গেছে তা কর্তৃপক্ষ জানায়নি।

 

সংবাদকর্মী আব্দুল হামিদ বলেন, “মৃতপ্রায় অবস্থায় শিশুটিকে পাঠানো হচ্ছিল। জনস্বার্থে পেশাগত দায়িত্ব পালনে ভিডিও করি। পরে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ডাঃ আকতারুজ্জামান আমাকে ডেকে ভিডিও ভিলিট করার জন্য মোবাইল নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তার চেষ্টা সফল হয়নি। ”

 

বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

বাঘা প্রেসক্লাবের নেতারা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ক্লিনিক এর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা দাবি করেছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার অসুস্থ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বোয়ালমারীর মহিশালা রূপ সাগর ফুডপার্কে সঞ্চয় ও আর্থিক নিরাপত্তা সচেতনতা সেমিনার অনুষ্ঠিত

error: Content is protected !!

বাঘার জননী ক্লিনিকে সিজারিয়ানের পর নবজাতকের মৃত্যুঃ মৃতপ্রায় নবজাতককে রেফার্ডের অভিযোগ

আপডেট টাইম : ১৩ ঘন্টা আগে
আব্দুল হামিদ মিঞা, বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি :

আব্দুল হামিদ মিঞাঃ

বাঘা উপজেলার বেসরকারি জননী ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের পর এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শিশুটিকে মূমূর্ষ অবস্থায় রাজশাহী শহরে রেফার্ডের পথেই তার মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পেশাগত দায়িত্ব পালন কালে ঘটনাস্থলের ভিডিও ধারণ করেছেন এক সংবাদকর্মী।

 

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুর ৩টায় বাঘা পৌর সদরে জননী ক্লিনিকে এক প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পরপরই নবজাতককে অসুস্থ অবস্থায় দ্রুত রাজশাহী শহরের একটি হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। কিন্তু পথেই শিশুটি মারা যায়।

 

রেফার্ড এর সময় এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করায় ক্লিনিকের এক নার্স বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান। এরপর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ডা. আকতারুজ্জামান সংবাদকর্মী আব্দুল হামিদকে ডেকে ভিডিও ডিলিট করতে বলেন। এনিয়ে বাক বিতণ্ডার এক পর্যায়ে সংবাদকর্মী মোবাইল না দেওয়ায় তিনি ব্যর্থ হন।

 

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ওইদিন জননী ক্লিনিকের সামনে একটি সাদা মাইক্রোবাস দাঁড়িয়ে আছে। ক্লিনিক থেকে একে একে নারী ও শিশুরা বের হয়ে গাড়িতে উঠছেন।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা বলেন, “এই ক্লিনিকে এর আগেও অপারেশনের পর জটিলতার অভিযোগ আছে। এখন ভিডিও করতেও বাধা দিচ্ছে। কি আড়াল করতে চায় তারা?” তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ডা. আকতারুজ্জামান বলেন, “আমি ও অ্যানাসথেসিয়ার চিকিৎসক ডা. তুহিন মিলে অপারেশন করেছি। অপারেশন সফল ছিল। তবে নবজাতকের গলায় নাড়ির প্যাঁচ ছিল। প্রাথমিক পরিচর্যার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য শহরে রেফার্ড করা হয়।” উপজেলার খায়ের হাট শিমুল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাকে জানানো হয়, নবজাতকের যে সমস্যা হয়েছে তা শহরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু নবজাতক যে মারা গেছে তা কর্তৃপক্ষ জানায়নি।

 

সংবাদকর্মী আব্দুল হামিদ বলেন, “মৃতপ্রায় অবস্থায় শিশুটিকে পাঠানো হচ্ছিল। জনস্বার্থে পেশাগত দায়িত্ব পালনে ভিডিও করি। পরে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ডাঃ আকতারুজ্জামান আমাকে ডেকে ভিডিও ভিলিট করার জন্য মোবাইল নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তার চেষ্টা সফল হয়নি। ”

 

বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

বাঘা প্রেসক্লাবের নেতারা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ক্লিনিক এর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা দাবি করেছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার অসুস্থ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।