ঢাকা , বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

বাঘায় ৩ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী ফেল

আব্দুল হামিদ মিঞা:

 

এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। তিন বোর্ডের অধীনে থাকা এসব প্রতিষ্ঠানের শতভাগ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

সোমবার (১০ আগস্ট) ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, জেনারেল, কারিগরি ও মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে থাকা বানিয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, বাউসা ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট ও সরেরহাট দাখিল মাদ্রাসার কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।

 

শতভাগ ফেল করা তিন প্রতিষ্ঠান হলো—

বানিয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় (জেনারেল): এ বিদ্যালয় থেকে ৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। প্রধান শিক্ষক আকরাম হোসেন জানান, গত বছর চারজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে তিনজন পাস করেছিল। এবারই প্রথম এমন ফল বিপর্যয় হয়েছে। বিদ্যালয়টিতে ছয়জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন।

 

বাউসা ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট (কারিগরি): এ প্রতিষ্ঠান থেকে ৪১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাস করেনি। প্রতিষ্ঠানটিতে ২০ জন শিক্ষক রয়েছেন। সুপারিনটেনডেন্ট রেজাউল করিমের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

সরেরহাট দাখিল মাদ্রাসা এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে ১৪ জন শিক্ষক রয়েছেন। সুপার ইউনুস আলী জানান, গত বছর ২৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে সাতজন পাস করেছিল। এবার ফল বিপর্যয়ের পর খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদনের কথা জানানো হয়েছে।

 

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাঘা উপজেলায় তিন বোর্ডের অধীনে ৬৭টি প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ২ হাজার ৮৬৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ৪১৫ জন। উপজেলায় গড় পাসের হার ৪৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৭ জন।

 

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু জাফর জানান, জেনারেল বোর্ডের ৪৯টি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৫৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এ বিভাগে ১ হাজার ৮৬২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ১১১ জন পাস করেছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৯ জন।

 

কারিগরি বিভাগের নয়টি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ২৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এ বিভাগে ৭৫২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২০৮ জন পাস করেছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ জন। মাদ্রাসা বিভাগের নয়টি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৩৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এ বিভাগে ২৫৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯৬ জন পাস করেছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে পাঁচজন।

 

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ফল বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আলোচনা করা হবে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩

error: Content is protected !!

বাঘায় ৩ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী ফেল

আপডেট টাইম : ১৬ ঘন্টা আগে
আব্দুল হামিদ মিঞা, বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি :

আব্দুল হামিদ মিঞা:

 

এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। তিন বোর্ডের অধীনে থাকা এসব প্রতিষ্ঠানের শতভাগ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

সোমবার (১০ আগস্ট) ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, জেনারেল, কারিগরি ও মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে থাকা বানিয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, বাউসা ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট ও সরেরহাট দাখিল মাদ্রাসার কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।

 

শতভাগ ফেল করা তিন প্রতিষ্ঠান হলো—

বানিয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় (জেনারেল): এ বিদ্যালয় থেকে ৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। প্রধান শিক্ষক আকরাম হোসেন জানান, গত বছর চারজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে তিনজন পাস করেছিল। এবারই প্রথম এমন ফল বিপর্যয় হয়েছে। বিদ্যালয়টিতে ছয়জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন।

 

বাউসা ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট (কারিগরি): এ প্রতিষ্ঠান থেকে ৪১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাস করেনি। প্রতিষ্ঠানটিতে ২০ জন শিক্ষক রয়েছেন। সুপারিনটেনডেন্ট রেজাউল করিমের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

সরেরহাট দাখিল মাদ্রাসা এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে ১৪ জন শিক্ষক রয়েছেন। সুপার ইউনুস আলী জানান, গত বছর ২৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে সাতজন পাস করেছিল। এবার ফল বিপর্যয়ের পর খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদনের কথা জানানো হয়েছে।

 

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাঘা উপজেলায় তিন বোর্ডের অধীনে ৬৭টি প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ২ হাজার ৮৬৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ৪১৫ জন। উপজেলায় গড় পাসের হার ৪৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৭ জন।

 

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু জাফর জানান, জেনারেল বোর্ডের ৪৯টি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৫৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এ বিভাগে ১ হাজার ৮৬২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ১১১ জন পাস করেছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৯ জন।

 

কারিগরি বিভাগের নয়টি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ২৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এ বিভাগে ৭৫২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২০৮ জন পাস করেছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ জন। মাদ্রাসা বিভাগের নয়টি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৩৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এ বিভাগে ২৫৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯৬ জন পাস করেছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে পাঁচজন।

 

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ফল বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আলোচনা করা হবে।