ঢাকা , বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

তানোরের ইউএনও নাঈমা খানকে নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

আলিফ হোসেন:

 

রাজশাহীর তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খানকে জড়িয়ে দুই কোটি টাকা আত্মসাৎ, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে অনিয়ম ও অবৈধ লেনদেনসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের ঘটনায় অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহলের একটি অংশ।

 

সম্প্রতি প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদনে ইউএনও নাঈমা খানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়। তবে এসব অভিযোগের সমর্থনে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন, নিরীক্ষা নথি, মামলা সংক্রান্ত তথ্য কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়নি বলে দাবি করা হচ্ছে।

 

বিশেষ করে দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, কোন প্রকল্পে, কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় ওই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে—সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত, প্রকল্পের নাম, বরাদ্দের নথি, বাস্তবায়ন প্রতিবেদন বা সরকারি অডিট রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি।

 

এ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তোলা হয়েছে। তবে সরকারি তালিকা, কার্ড পাওয়ার নির্ধারিত যোগ্যতার মানদণ্ড এবং অভিযোগ করা ব্যক্তিদের তথ্য তুলনা করে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রতিবেদনে দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

 

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ, অর্থ আত্মসাৎ ও অবৈধ লেনদেনের মতো গুরুতর অভিযোগ প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্যের পাশাপাশি সরকারি নথি, তদন্ত প্রতিবেদন ও নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা জরুরি। কোনো অভিযোগ প্রকাশিত হলেই তা সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় না; অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য যথাযথ তদন্ত প্রয়োজন।

 

তাদের আরও দাবি, ইউএনও নাঈমা খান প্রকৃতপক্ষে কোনো অনিয়মে জড়িত থাকলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তা উদঘাটন করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আবার অভিযোগের সত্যতা না থাকলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একজন সরকারি কর্মকর্তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

 

এদিকে স্থানীয় সাংবাদিকদের একটি অংশের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্য, পুরোনো অভিযোগ কিংবা অন্যত্র প্রকাশিত তথ্য যথাযথভাবে যাচাই না করে পুনরায় সংবাদ আকারে প্রকাশ করা হলে সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে তথ্যের একাধিক উৎস থেকে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

 

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

ইউএনও নাঈমা খানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সত্য, নাকি ভিত্তিহীন—এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের পরিবর্তে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি চান স্থানীয়দের একটি অংশ।

 

তাদের মতে, ফ্যামিলি কার্ডের তালিকা, বিভিন্ন প্রকল্পের হিসাব, সরকারি বরাদ্দ, বাস্তবায়ন নথি, অডিট প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করলে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হতে পারে।

 

অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অভিযোগ মিথ্যা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রমাণিত হলে একজন সরকারি কর্মকর্তার সামাজিক ও পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার দায়ও নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

তানোরের ইউএনও নাঈমা খানকে নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

error: Content is protected !!

তানোরের ইউএনও নাঈমা খানকে নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

আপডেট টাইম : ৪৫ মিনিট আগে
আলিফ হোসেন, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি :

আলিফ হোসেন:

 

রাজশাহীর তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খানকে জড়িয়ে দুই কোটি টাকা আত্মসাৎ, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে অনিয়ম ও অবৈধ লেনদেনসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের ঘটনায় অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহলের একটি অংশ।

 

সম্প্রতি প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদনে ইউএনও নাঈমা খানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়। তবে এসব অভিযোগের সমর্থনে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন, নিরীক্ষা নথি, মামলা সংক্রান্ত তথ্য কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়নি বলে দাবি করা হচ্ছে।

 

বিশেষ করে দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, কোন প্রকল্পে, কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় ওই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে—সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত, প্রকল্পের নাম, বরাদ্দের নথি, বাস্তবায়ন প্রতিবেদন বা সরকারি অডিট রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি।

 

এ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তোলা হয়েছে। তবে সরকারি তালিকা, কার্ড পাওয়ার নির্ধারিত যোগ্যতার মানদণ্ড এবং অভিযোগ করা ব্যক্তিদের তথ্য তুলনা করে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রতিবেদনে দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

 

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ, অর্থ আত্মসাৎ ও অবৈধ লেনদেনের মতো গুরুতর অভিযোগ প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্যের পাশাপাশি সরকারি নথি, তদন্ত প্রতিবেদন ও নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা জরুরি। কোনো অভিযোগ প্রকাশিত হলেই তা সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় না; অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য যথাযথ তদন্ত প্রয়োজন।

 

তাদের আরও দাবি, ইউএনও নাঈমা খান প্রকৃতপক্ষে কোনো অনিয়মে জড়িত থাকলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তা উদঘাটন করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আবার অভিযোগের সত্যতা না থাকলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একজন সরকারি কর্মকর্তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

 

এদিকে স্থানীয় সাংবাদিকদের একটি অংশের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্য, পুরোনো অভিযোগ কিংবা অন্যত্র প্রকাশিত তথ্য যথাযথভাবে যাচাই না করে পুনরায় সংবাদ আকারে প্রকাশ করা হলে সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে তথ্যের একাধিক উৎস থেকে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

 

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

ইউএনও নাঈমা খানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সত্য, নাকি ভিত্তিহীন—এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের পরিবর্তে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি চান স্থানীয়দের একটি অংশ।

 

তাদের মতে, ফ্যামিলি কার্ডের তালিকা, বিভিন্ন প্রকল্পের হিসাব, সরকারি বরাদ্দ, বাস্তবায়ন নথি, অডিট প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করলে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হতে পারে।

 

অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অভিযোগ মিথ্যা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রমাণিত হলে একজন সরকারি কর্মকর্তার সামাজিক ও পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার দায়ও নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।