ঢাকা , বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগার পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, বন্দিদের মাঝে বই বিতরণ

হুমায়ন আহমেদ:

 

চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বন্দিদের জীবনযাত্রার মান এবং সংশোধনমূলক কার্যক্রম পর্যালোচনায় জেলা কারাগার পরিদর্শন করেছেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ লুৎফুন নাহার এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান।

 

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা জেলা কারাগারে গিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

 

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কারাগারের বিভিন্ন ওয়ার্ড, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বন্দিদের আবাসন, চিকিৎসাসেবা, খাদ্য সরবরাহ, পরিচ্ছন্নতা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি কারাগারে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

এ সময় তারা বিভিন্ন মামলার বন্দিদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সুবিধা-অসুবিধা, স্বাস্থ্যসেবা ও কারাগারের পরিবেশ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তারা বলেন, আইন অনুযায়ী প্রত্যেক বন্দির মানবিক অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই কারাগারে শৃঙ্খলার পাশাপাশি মানবিক পরিবেশ বজায় রাখা প্রয়োজন।

 

পরিদর্শনের অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বন্দিদের মাঝে বিভিন্ন ধরনের বই বিতরণ করা হয়। এ সময় পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে বন্দিদের মানসিক বিকাশ, আত্মসমালোচনার সুযোগ সৃষ্টি এবং ইতিবাচক চিন্তার বিকাশের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

 

জেলা প্রশাসক মিজ লুৎফুন নাহার বলেন, “কারাগারের উদ্দেশ্য শুধু সাজা কার্যকর করা নয়; বরং সংশোধনের মাধ্যমে একজন মানুষকে সমাজে পুনরায় ইতিবাচকভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে সহায়তা করা। বই মানুষকে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়, আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে। তাই বন্দিদের মধ্যে পাঠাভ্যাস বিস্তারে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

 

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, “নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বন্দিদের প্রতি মানবিক আচরণ এবং সংশোধনমূলক কার্যক্রম আরও কার্যকর করা প্রয়োজন।” তিনি সংশ্লিষ্টদের পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

 

এ সময় কারাগারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বন্দিদের শিক্ষা, নৈতিক উন্নয়ন, মানসিক পুনর্বাসন এবং সমাজে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে সহায়ক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের সমন্বয়ে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বাঘার চকরাজাপুর ও গড়গড়িতে ২৫০ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করলেন এমপি আবু সাইদ চাঁদ

error: Content is protected !!

চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগার পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, বন্দিদের মাঝে বই বিতরণ

আপডেট টাইম : ৬ ঘন্টা আগে
হুমায়ন আহমেদ, আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি :

হুমায়ন আহমেদ:

 

চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বন্দিদের জীবনযাত্রার মান এবং সংশোধনমূলক কার্যক্রম পর্যালোচনায় জেলা কারাগার পরিদর্শন করেছেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ লুৎফুন নাহার এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান।

 

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা জেলা কারাগারে গিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

 

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কারাগারের বিভিন্ন ওয়ার্ড, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বন্দিদের আবাসন, চিকিৎসাসেবা, খাদ্য সরবরাহ, পরিচ্ছন্নতা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি কারাগারে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

এ সময় তারা বিভিন্ন মামলার বন্দিদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সুবিধা-অসুবিধা, স্বাস্থ্যসেবা ও কারাগারের পরিবেশ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তারা বলেন, আইন অনুযায়ী প্রত্যেক বন্দির মানবিক অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই কারাগারে শৃঙ্খলার পাশাপাশি মানবিক পরিবেশ বজায় রাখা প্রয়োজন।

 

পরিদর্শনের অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বন্দিদের মাঝে বিভিন্ন ধরনের বই বিতরণ করা হয়। এ সময় পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে বন্দিদের মানসিক বিকাশ, আত্মসমালোচনার সুযোগ সৃষ্টি এবং ইতিবাচক চিন্তার বিকাশের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

 

জেলা প্রশাসক মিজ লুৎফুন নাহার বলেন, “কারাগারের উদ্দেশ্য শুধু সাজা কার্যকর করা নয়; বরং সংশোধনের মাধ্যমে একজন মানুষকে সমাজে পুনরায় ইতিবাচকভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে সহায়তা করা। বই মানুষকে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়, আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে। তাই বন্দিদের মধ্যে পাঠাভ্যাস বিস্তারে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

 

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, “নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বন্দিদের প্রতি মানবিক আচরণ এবং সংশোধনমূলক কার্যক্রম আরও কার্যকর করা প্রয়োজন।” তিনি সংশ্লিষ্টদের পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

 

এ সময় কারাগারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বন্দিদের শিক্ষা, নৈতিক উন্নয়ন, মানসিক পুনর্বাসন এবং সমাজে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে সহায়ক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের সমন্বয়ে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।