মোঃ ফখরুজ্জামান চৌধুরী কৌশিকঃ
শারদীয় দুর্গোৎসবের আর বেশি দেরি নেই। তাই দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) উপজেলার বিভিন্ন পূজামন্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। দিন-রাত এক করে দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পী ও কারিগররা। পাশাপাশি চলছে প্যান্ডেল নির্মাণ, সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার কাজ।
পূজা যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে কারিগরদের ব্যস্ততা। বাঁশ, কাঠ ও খড় দিয়ে প্রতিমার কাঠামো তৈরির পর কাদা-মাটির প্রলেপ দেওয়ার কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। আর কয়েকদিন পরে শরু হবে প্রতিমায় রং, নকশা, অলংকার ও সাজসজ্জার কাজ। নিখুঁত তুলির আঁচড়ে মাটির প্রতিমায় ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে দেবী দুর্গাসহ লক্ষী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ ও অসুরের অবয়ব।
কারিগরদের কেউ ব্যস্ত দেবী দুর্গার চোখ-মুখের নিখুঁত রূপ দিতে, আবার কেউ ব্যস্ত প্রতিমার পোশাক ও অলংকারের সাজে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করতে অনেকেই অতিরিক্ত শ্রমিক ও কারিগর নিয়োগ করেছেন। শেষ সময়ে কাজের চাপ বেড়ে যাওয়ায় দম ফেলারও যেন সময় নেই তাদের। কারিগররা জানান, প্রতিমা তৈরির কাজ সময়মতো শেষ করে নির্ধারিত মন্ডপে পৌঁছে দিতে তারা দিন-রাত পরিশ্রম করছেন। এখন প্রতিমার রং ও সাজসজ্জার কাজ শুরু হবে । সময় কম থাকায় ব্যস্ততা অন্য সময়ের তুলনায় অনেক বেড়েছে।
এদিকে দুর্গাপূজাকে ঘিরে হিলির সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ। বিভিন্ন পূজামন্ডপে চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, প্যান্ডেল নির্মাণ ও আলোকসজ্জার কাজ। ধীরে ধীরে ফুটে উঠছে দূগো উৎসবের আবহ।
স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা জানান, দুর্গাপূজা তাদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। প্রতিবছরের মতো এবারও আনন্দ-উৎসাহের মধ্য দিয়ে পূজা উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে। শান্তিপূর্ণ ও উৎসমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনের প্রত্যাশা তাদের।
পূজাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উপজেলার বিভিন্ন পূজা মন্ডপে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিও রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, দুর্গাপূজাকে ঘিরে উপজেলার বিভিন্ন পূজা মন্ডপে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
অমিত কুমার মানি জানান, এ বছর দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) উপজেলায় ছোট-বড় প্রায় ২৫টি স্থায়ী ও অস্থায়ী মন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি নিজেও প্রতি বছরের মত এবারও একক পূজা করছেন।
পূজাকে ঘিরে ইতোমধ্যে হিলির মন্ডপ গুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কারিগরদের তুলির আঁচড়ে প্রতিমায় প্রাণবন্ত রূপ ফুটে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে উৎসবের অপেক্ষায় থাকা মানুষের মধ্যেও বাড়ছে আনন্দ-উচ্ছাস।

১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। 
মোঃ ফখরুজ্জামান চৌধুরী কৌশিক, হাকিমপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি 




















