নুরুল ইসলামঃ
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা সদরে বি.এস ডাঙ্গী গ্রামের মুখোশধারী এক পীর মিশকাত শরীফ (৪৮) তার দলবল নিয়ে আপন বড় ভাইয়ের বাড়ীতে ঢুকে বিধবা ভাবী শামসুন্নাহার (৫০) ও এতিম ভাতিজা নাজিব শাহ (২৩) কে এলোপাথারী পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর| আহতরা চরভদ্রাসন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে|
গত সোমবার বিকেলে উক্ত নামধারী পীর মৃত বড় ভাইয়ের বসতভিটেয় ঝড়ে বিধ্বস্ত একটি ঘর দখলের চেষ্টাকালে উপর বর্বর হামলার ঘটনা ঘটায় বলে অভিযোগ| শুধু তাই নয়, ঘটনার পর উক্ত পীর উল্টোভাবে পুলিশের কাছে একটি অভিযোগ পত্র দিয়ে ভাইয়ের পরিবারের ঝড়ে বিধ্বস্ত পাটখড়ি বেড়ার একচালা টিনের ঘরটি মেরামত করতেও দিচ্ছে না| এতে করে ঝড়ের মৌসুমে বান তুফানের চরম হুমকীর মধ্যে অসহায় পরিবারটি বসবাস করছে বলে জানিয়েছে|

এ ব্যপারে চরভদ্রাসন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, “যেহেতু উভয় পক্ষই থানায় অভিযোগ পত্র দায়ের করেছেন| তাই দুই পক্ষকে ডেকে শুনামেলা ও তদন্ত না করা পর্যন্ত ঘর মেরামত কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে”|
মঙ্গলবার রাতে হাসপাতাল থেকে বেড়িয়ে এসে নির্যাতিত গৃহিনী শামসুন্নাহার জানান, ক’দিন আগে কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে তার বসতভিটের প্রায় তের বছরের পুরোনো একটি একচালা টিনের ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়| তাই ঘটনার দিন সে মজুর দিয়ে ঝড়ে বিধ্বস্ত ঘরটি মেরামত করছিল| এ সময় তার ছোট দেবর পাশের বাড়ীর নামধারী পীর মিশকাত শরীফ দলবল নিয়ে এসে ঝড়ে ভাঙা ঘরটি নিজের জায়গায় বলে দাবী করে মেরামত কাজ বন্ধ করার জন্য গালিগালাজ করতে থাকে| কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উক্ত পীর নিজ হাতে তার বড় ভাবীকে এলোপাথারী লাঠিপেটা করতে থাকে| লাঠীর আঘাতে অসহায় গৃহিনী মাটিতে লুটিয়ে পড়লে পীরের সাঙ্গপাঙ্গরা মিলে আরেক দফায় মারধর করে তার শ্লীলতাহানী ঘটায় বলেও অভিযোগ রয়েছে| এ সময় আহত গৃহিনীর ছেলে নাজিব শাহ তার মাকে বাঁচাতে গেলে উক্ত পীর ও তার দলবল মিলে তাকেও লাঠী সোটা, ইট পাটকেল দিয়ে এলোপাথারী আঘাত করে নিলা ফুলা ও রক্তাক্ত জখম করে রেখে যায়|
উক্ত গৃহিনী আরও জানান, বিগত তের বছর আগে সাড়ে দশ শতাংশ জমি কিনে বসতবাড়ী গড়েছি| আর প্রতিবেশী দেবর দু’বছর আগে একই সীমানার নদীর মধ্যে জমি কিনে সে ফসল ফলিয়ে খাচ্ছে| তারপরও সে আমার বসত বাড়ীর জমি দাবী করে ঘটনার দিন আমার পরিবারের সবাইকে মেরে গুরুতর জখম করেছে|

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুই সংখ্যালঘু পরিবারকে দেশছাড়ার হুমকি 
নুরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার 





















