ঢাকা , রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

এবার নিয়ে ৫৪১ বার বন্ধ চিলমারীর নৌপথে ফেরি চলাচল

মো. কাজল ইসলাম:

 

নাব্যতা সংকটের কারণে আবারও বন্ধ হয়ে গেছে কুড়িগ্রামের চিলমারী-রৌমারী নৌপথে ফেরি চলাচল। গত ১৩ আগস্ট থেকে ফেরি সার্ভিস বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন পণ্যবাহী যানবাহনের চালক ও শ্রমিকসহ দুই উপজেলার স্থানীয়রা। দীর্ঘদিন ধরে এ নৌপথে বারবার ফেরি চলাচল বন্ধ হওয়ায় স্থায়ী সমাধান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

 

শনিবার (২৯ আগস্ট) চিলমারী নদীবন্দরে সরেজমিনে দেখা যায়, ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় একাধিক পণ্যবাহী যানবাহন আটকে রয়েছে। চালক ও শ্রমিকরা যানবাহনের পাশে অপেক্ষা করছেন। এতে তাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।

 

ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর দিয়ে পরিচালিত চিলমারী-রৌমারী নৌপথে ভারী যানবাহন পারাপারের জন্য ফেরি চলাচল করে। নাব্যতা সংকটের কারণে গত ১৩ আগস্ট থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এরই মধ্যে ১৫ দিন পার হলেও ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার কোনো আশ্বাস পাচ্ছেন না পণ্যবাহী পরিবহনের চালক ও শ্রমিকরা।

 

জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) উদ্যোগে চিলমারী-রৌমারী নৌপথে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরি চলাচল শুরু হয়। শুরুতে দুটি ফেরির মাধ্যমে পণ্যবাহী ও ভারী যানবাহন পারাপার করা হলেও পরবর্তীতে ‘বেগম সুফিয়া কামাল’ ও ‘ফেরি কুঞ্জলতা’ নামের ফেরি দুটি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে ‘কদর’ ফেরির মাধ্যমে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।

 

তবে নাব্যতা সংকটের কারণে মাঝেমধ্যেই ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে পরিবহনসংশ্লিষ্টদের। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চললেও নৌপথটির স্থায়ী নাব্যতা সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

 

বিআইডব্লিউটিসির চিলমারীর সহকারী ব্যবস্থাপক আকিব সোহেল আকাশ বলেন, “রৌমারী ঘাট থেকে প্রায় ২০০ বিঘা এলাকায় চাহিদার তুলনায় পানি কম থাকায় ১৪ আগস্ট থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। ওই এলাকায় ড্রেজিংয়ের কাজ চলছে। ১৫ আগস্ট ড্রেজিং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা আরও দুটি ড্রেজার পাঠানোর কথা জানিয়েছিল। কিন্তু এখনো তা পাঠানো হয়নি।”

 

তিনি আরও বলেন, “কয়েকদিন আগে রৌমারীতে গিয়ে দেখি ঘাট এলাকায় ড্রেজিংয়ের কাজ বন্ধ রয়েছে। ফেরি এভাবে বন্ধ থাকলে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।”

 

দায়িত্বপ্রাপ্ত ড্রেজিং কর্মকর্তা সমীর চন্দ্র পাল বলেন, রৌমারী ঘাট এলাকায় স্থানীয়দের বাধার কারণে খননকাজ বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে শুধু প্রায় ২০০ বিঘা এলাকায় খননকাজ চলছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এদিকে ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ২৯ আগস্ট পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৬৫ দিনের মধ্যে নাব্যতা সংকটের কারণে এ নৌপথে ৫৪১ বার ফেরি চলাচল বন্ধ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ফেরি সার্ভিস দ্রুত চালু ও জনদুর্ভোগ নিরসনে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হয়েছে। ফেরি সার্ভিসটি দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পশ্চিম বাংলা সরকারের একশত দিন পূর্তি উপলক্ষে উস্তিতে পথসভা অনুষ্ঠিত

error: Content is protected !!

এবার নিয়ে ৫৪১ বার বন্ধ চিলমারীর নৌপথে ফেরি চলাচল

আপডেট টাইম : ৯ ঘন্টা আগে
মো: কাজল ইসলাম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

মো. কাজল ইসলাম:

 

নাব্যতা সংকটের কারণে আবারও বন্ধ হয়ে গেছে কুড়িগ্রামের চিলমারী-রৌমারী নৌপথে ফেরি চলাচল। গত ১৩ আগস্ট থেকে ফেরি সার্ভিস বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন পণ্যবাহী যানবাহনের চালক ও শ্রমিকসহ দুই উপজেলার স্থানীয়রা। দীর্ঘদিন ধরে এ নৌপথে বারবার ফেরি চলাচল বন্ধ হওয়ায় স্থায়ী সমাধান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

 

শনিবার (২৯ আগস্ট) চিলমারী নদীবন্দরে সরেজমিনে দেখা যায়, ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় একাধিক পণ্যবাহী যানবাহন আটকে রয়েছে। চালক ও শ্রমিকরা যানবাহনের পাশে অপেক্ষা করছেন। এতে তাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।

 

ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর দিয়ে পরিচালিত চিলমারী-রৌমারী নৌপথে ভারী যানবাহন পারাপারের জন্য ফেরি চলাচল করে। নাব্যতা সংকটের কারণে গত ১৩ আগস্ট থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এরই মধ্যে ১৫ দিন পার হলেও ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার কোনো আশ্বাস পাচ্ছেন না পণ্যবাহী পরিবহনের চালক ও শ্রমিকরা।

 

জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) উদ্যোগে চিলমারী-রৌমারী নৌপথে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরি চলাচল শুরু হয়। শুরুতে দুটি ফেরির মাধ্যমে পণ্যবাহী ও ভারী যানবাহন পারাপার করা হলেও পরবর্তীতে ‘বেগম সুফিয়া কামাল’ ও ‘ফেরি কুঞ্জলতা’ নামের ফেরি দুটি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে ‘কদর’ ফেরির মাধ্যমে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।

 

তবে নাব্যতা সংকটের কারণে মাঝেমধ্যেই ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে পরিবহনসংশ্লিষ্টদের। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চললেও নৌপথটির স্থায়ী নাব্যতা সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

 

বিআইডব্লিউটিসির চিলমারীর সহকারী ব্যবস্থাপক আকিব সোহেল আকাশ বলেন, “রৌমারী ঘাট থেকে প্রায় ২০০ বিঘা এলাকায় চাহিদার তুলনায় পানি কম থাকায় ১৪ আগস্ট থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। ওই এলাকায় ড্রেজিংয়ের কাজ চলছে। ১৫ আগস্ট ড্রেজিং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা আরও দুটি ড্রেজার পাঠানোর কথা জানিয়েছিল। কিন্তু এখনো তা পাঠানো হয়নি।”

 

তিনি আরও বলেন, “কয়েকদিন আগে রৌমারীতে গিয়ে দেখি ঘাট এলাকায় ড্রেজিংয়ের কাজ বন্ধ রয়েছে। ফেরি এভাবে বন্ধ থাকলে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।”

 

দায়িত্বপ্রাপ্ত ড্রেজিং কর্মকর্তা সমীর চন্দ্র পাল বলেন, রৌমারী ঘাট এলাকায় স্থানীয়দের বাধার কারণে খননকাজ বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে শুধু প্রায় ২০০ বিঘা এলাকায় খননকাজ চলছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এদিকে ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ২৯ আগস্ট পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৬৫ দিনের মধ্যে নাব্যতা সংকটের কারণে এ নৌপথে ৫৪১ বার ফেরি চলাচল বন্ধ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ফেরি সার্ভিস দ্রুত চালু ও জনদুর্ভোগ নিরসনে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হয়েছে। ফেরি সার্ভিসটি দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।