ঢাকা , বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

সারাক্ষণ ক্লান্তিবোধে লুকিয়ে আছে বিপৎসংকেত

প্রতিদিন অফিসে কাজের চাপ, বাড়ির নানান দায়িত্ব পালনের ঝামেলা আর মানসিক স্ট্রেসে ক্লান্তিবোধ হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে আপনার এই ক্লান্তিবোধ যদি সবসময় আপনাকে ঘিরে রাখে, তবে তা হতে পারে বড় কোনো রোগের প্রাথমিক লক্ষণ।

অতিরিক্ত ক্লান্তিকে অধিকাংশ মানুষ অবহেলার চোখে দেখেন। কারণ, কাজের চাপ আর মানসিক স্ট্রেসে এমনটা হওয়া মোটেও অস্বাভাবিক নয়। অনেকেই মনে করেন, বেশি কাজে বেশি ক্লান্তিবোধ অনুভূত হয়।

যদি এমন ধারণা আপনার মনেও বাসা বেঁধে থাকে, তবে মাথা থেকে তা এখনই ঝেড়ে ফেলুন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে পরিশ্রান্ত লাগা।

গবেষকরা মনে করছেন, অবসাদে ভোগা রোগীদের মধ্যে সবসময়ই কাজে অনীহা দেখা দেয়। আর এই ক্লান্তিবোধের বড় কারণ হতে পারে মানসিক চাপ। আমরা সবাই শারীরিক অসুস্থতাকে যেভাবে গুরুত্ব দিই, মানসিক স্বাস্থ্যকে তেমন গুরুত্ব দিই না। এ সমস্যা দীর্ঘদিন উপেক্ষা করি, যা ধীরে ধীরে শারীরিক স্বাস্থ্যেরও ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর তখনই আমরা শরীরে সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে তা নিরাময়ে মনোযোগী হই।

এ রকম ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে আমাদের শারীরিক সমস্যাগুলো ওষুধেও অকার্যকর হয়ে পড়ে। তাই গবেষকরা মানসিক স্বাস্থ্যের যত্নের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে পরামর্শ দিচ্ছেন। কেননা, শরীরের যেকোনো সমস্যাতেই ওষুধের কার্যকারিতা থাকে। কিন্তু মানসিক সমস্যায় ওষুধ প্রয়োগেও কোনো সুরাহা পাওয়া যায় না। এর জন্য প্রয়োজন হয় চিকিৎসকদের নিবিড় কাউন্সেলিংয়ের।

সবসময় ক্লান্তিবোধের আরেকটি বড় কারণ হতে পারে ডায়াবেটিস। চিকিৎসকরা বলছেন, ডায়াবেটিসের কারণে শরীরে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট হলেই দেখা দিতে পারে দীর্ঘকালীন ক্লান্তিবোধ। এ ছাড়া ডায়াবেটিস যদি কিডনি সমস্যা ডেকে আনে, তখনো রোগী সারাক্ষণ ক্লান্তিবোধ করবে।

আমাদের শরীর সুস্থ রাখতে হলে প্রয়োজন সঠিক পুষ্টি। বিশেষজ্ঞরা মনে করে, শরীরে আয়রন, ম্যাগনেসিয়ামের মতো খনিজ, ভিটামিন বি ও ভিটামিন সি-র মতো বিভিন্ন উপাদানের ঘাটতিও ডেকে আনে ক্লান্তি। যেমন, শরীরে আয়রনের অভাব হলে তা রক্তস্বল্পতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর রক্তস্বল্পতাও ক্লান্তিবোধের অন্যতম প্রধান কারণ।

এ ছাড়া নিরবচ্ছিন্ন ঘুম ও দৈনিক ৮ ঘণ্টা ঘুমের ঘাটতিও ক্লান্তিবোধের অনুভূতি তৈরি করে। দীর্ঘসময় ধরে ঘুমের অভাব বা অনিদ্রা হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস ও মানসিক অবসাদের মতো সমস্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

বিশেষজ্ঞদের এ কারণটি জানলে আপনি রীতিমতো এখন চমকে যাবেন। তারা মনে করেন, রক্তের ক্যানসার ও মস্তিষ্কে ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে ক্লান্তি। তাই সারাক্ষণই ক্লান্তিবোধ হলে একে হেলা না করে এর সঠিক কারণ খুঁজে বের করুন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আড়ানী-বাঘায় পৌর অনুমতি ছাড়াই বিলাসবহুল ভবন, নকশা বহির্ভূত নির্মাণে ঝুঁকি

error: Content is protected !!

সারাক্ষণ ক্লান্তিবোধে লুকিয়ে আছে বিপৎসংকেত

আপডেট টাইম : ০১:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ এপ্রিল ২০২২
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা ডেস্কঃ :

প্রতিদিন অফিসে কাজের চাপ, বাড়ির নানান দায়িত্ব পালনের ঝামেলা আর মানসিক স্ট্রেসে ক্লান্তিবোধ হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে আপনার এই ক্লান্তিবোধ যদি সবসময় আপনাকে ঘিরে রাখে, তবে তা হতে পারে বড় কোনো রোগের প্রাথমিক লক্ষণ।

অতিরিক্ত ক্লান্তিকে অধিকাংশ মানুষ অবহেলার চোখে দেখেন। কারণ, কাজের চাপ আর মানসিক স্ট্রেসে এমনটা হওয়া মোটেও অস্বাভাবিক নয়। অনেকেই মনে করেন, বেশি কাজে বেশি ক্লান্তিবোধ অনুভূত হয়।

যদি এমন ধারণা আপনার মনেও বাসা বেঁধে থাকে, তবে মাথা থেকে তা এখনই ঝেড়ে ফেলুন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে পরিশ্রান্ত লাগা।

গবেষকরা মনে করছেন, অবসাদে ভোগা রোগীদের মধ্যে সবসময়ই কাজে অনীহা দেখা দেয়। আর এই ক্লান্তিবোধের বড় কারণ হতে পারে মানসিক চাপ। আমরা সবাই শারীরিক অসুস্থতাকে যেভাবে গুরুত্ব দিই, মানসিক স্বাস্থ্যকে তেমন গুরুত্ব দিই না। এ সমস্যা দীর্ঘদিন উপেক্ষা করি, যা ধীরে ধীরে শারীরিক স্বাস্থ্যেরও ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর তখনই আমরা শরীরে সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে তা নিরাময়ে মনোযোগী হই।

এ রকম ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে আমাদের শারীরিক সমস্যাগুলো ওষুধেও অকার্যকর হয়ে পড়ে। তাই গবেষকরা মানসিক স্বাস্থ্যের যত্নের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে পরামর্শ দিচ্ছেন। কেননা, শরীরের যেকোনো সমস্যাতেই ওষুধের কার্যকারিতা থাকে। কিন্তু মানসিক সমস্যায় ওষুধ প্রয়োগেও কোনো সুরাহা পাওয়া যায় না। এর জন্য প্রয়োজন হয় চিকিৎসকদের নিবিড় কাউন্সেলিংয়ের।

সবসময় ক্লান্তিবোধের আরেকটি বড় কারণ হতে পারে ডায়াবেটিস। চিকিৎসকরা বলছেন, ডায়াবেটিসের কারণে শরীরে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট হলেই দেখা দিতে পারে দীর্ঘকালীন ক্লান্তিবোধ। এ ছাড়া ডায়াবেটিস যদি কিডনি সমস্যা ডেকে আনে, তখনো রোগী সারাক্ষণ ক্লান্তিবোধ করবে।

আমাদের শরীর সুস্থ রাখতে হলে প্রয়োজন সঠিক পুষ্টি। বিশেষজ্ঞরা মনে করে, শরীরে আয়রন, ম্যাগনেসিয়ামের মতো খনিজ, ভিটামিন বি ও ভিটামিন সি-র মতো বিভিন্ন উপাদানের ঘাটতিও ডেকে আনে ক্লান্তি। যেমন, শরীরে আয়রনের অভাব হলে তা রক্তস্বল্পতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর রক্তস্বল্পতাও ক্লান্তিবোধের অন্যতম প্রধান কারণ।

এ ছাড়া নিরবচ্ছিন্ন ঘুম ও দৈনিক ৮ ঘণ্টা ঘুমের ঘাটতিও ক্লান্তিবোধের অনুভূতি তৈরি করে। দীর্ঘসময় ধরে ঘুমের অভাব বা অনিদ্রা হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস ও মানসিক অবসাদের মতো সমস্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

বিশেষজ্ঞদের এ কারণটি জানলে আপনি রীতিমতো এখন চমকে যাবেন। তারা মনে করেন, রক্তের ক্যানসার ও মস্তিষ্কে ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে ক্লান্তি। তাই সারাক্ষণই ক্লান্তিবোধ হলে একে হেলা না করে এর সঠিক কারণ খুঁজে বের করুন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা