ঢাকা , রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ফরিদপুরে ওজোপাডিকোর উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত Logo বাংলাদেশের আকাশে রহস্যময় আলোর ঝলকানি ঘিরে যা জানা যাচ্ছে Logo দেড় লাখ টাকার গাছ ৫০ হাজারে নিলাম Logo ফরিদপুরে ট্রিপল মার্ডারঃ ১০ ঘণ্টায় গ্রেফতার প্রধান আসামি, উদ্ধার কোদাল Logo ফরিদপুরে ‘শ্মশান বন্ধু’ কানু সেন অনেকটাই সুস্থ Logo বাঘায় সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিতঃ উপস্থিতির হারে বালিকা এগিয়ে Logo নরসিংদীর শিবপুরে ২৬ মামলার আসামিসহ দুই ডাকাত গ্রেপ্তার Logo খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে পালিত হবে আগামীকাল Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক উদ্ধার Logo সকল রাজনৈক দল, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণী পেশার মানুষের সেবা করতে বিএনপি সরকার ওয়াদাবদ্ধ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

নরসিংদী সদরে কিশোর গ্রেফতার নিয়ে বিতর্ক, পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ—তদন্তের আশ্বাস এসপির

মোঃ আলম মৃধা:

 

নরসিংদী সদর উপজেলায় ইয়াবাসহ এক কিশোরকে গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে নানা বিতর্ক ও অভিযোগ। পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগের বিপরীতে পুলিশের দাবি, অভিযানে মাদক উদ্ধার করেই তাকে আটক করা হয়েছে।

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে নরসিংদী সদর থানার একটি টিম অভিযানে গিয়ে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন এসআই বিপ্লব, এএসআই সাইফুল ও এএসআই আল-আমিন। পরবর্তীতে তাকে থানায় নিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়।

 

তবে গ্রেফতার হওয়া কিশোর ফাহিমের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনাটি ভিন্ন। তাদের দাবি, ফাহিমকে জাহাঙ্গীরের বাড়ির ভিতরে তরমুজ খাওয়ার সময় আটক করা হয় এবং তার কাছে কোনো মাদক ছিল না। পরে তাকে বাইরে নিয়ে গিয়ে পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে ভিডিও ধারণ করা হয় এবং থানায় নিয়ে আরও বেশি পরিমাণ ইয়াবা দেখিয়ে চালান দেওয়া হয়।

 

একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ফাহিম ঢাকায় তার খালার অপারেশনে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় এসেছিল। এ সময় পুলিশ তাকে আটক করে। তার কাছে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

 

এদিকে পরিবারের আরও অভিযোগ, ফাহিমকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য এএসআই সাইফুল টাকা দাবি করেন এবং ৫ হাজার টাকা নেওয়ার পরও তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি।

 

অভিযোগের বিষয়ে এএসআই সাইফুল বলেন, “আমি কোনো টাকা-পয়সা নিইনি। যা উদ্ধার হয়েছে, তার ভিত্তিতেই তাকে চালান দেওয়া হয়েছে।”

 

অন্যদিকে অভিযানের নেতৃত্বদানকারী এসআই বিপ্লব সরকার বলেন, “অভিযানে ফাহিমের কাছ থেকে মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে সাক্ষীও রয়েছে।”

 

এ বিষয়ে নরসিংদী জেলার পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ সত্য হলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, অভিযোগ ও পুলিশের বক্তব্যের মধ্যে ভিন্নতা থাকায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন জরুরি।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড়াতে গিয়ে বিএনপি-জামায়াত ৫ সমর্থক পুলিশ হেফাজতে

error: Content is protected !!

নরসিংদী সদরে কিশোর গ্রেফতার নিয়ে বিতর্ক, পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ—তদন্তের আশ্বাস এসপির

আপডেট টাইম : ১২:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
মোঃ আলম মৃধা, নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি :

মোঃ আলম মৃধা:

 

নরসিংদী সদর উপজেলায় ইয়াবাসহ এক কিশোরকে গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে নানা বিতর্ক ও অভিযোগ। পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগের বিপরীতে পুলিশের দাবি, অভিযানে মাদক উদ্ধার করেই তাকে আটক করা হয়েছে।

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে নরসিংদী সদর থানার একটি টিম অভিযানে গিয়ে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন এসআই বিপ্লব, এএসআই সাইফুল ও এএসআই আল-আমিন। পরবর্তীতে তাকে থানায় নিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়।

 

তবে গ্রেফতার হওয়া কিশোর ফাহিমের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনাটি ভিন্ন। তাদের দাবি, ফাহিমকে জাহাঙ্গীরের বাড়ির ভিতরে তরমুজ খাওয়ার সময় আটক করা হয় এবং তার কাছে কোনো মাদক ছিল না। পরে তাকে বাইরে নিয়ে গিয়ে পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে ভিডিও ধারণ করা হয় এবং থানায় নিয়ে আরও বেশি পরিমাণ ইয়াবা দেখিয়ে চালান দেওয়া হয়।

 

একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ফাহিম ঢাকায় তার খালার অপারেশনে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় এসেছিল। এ সময় পুলিশ তাকে আটক করে। তার কাছে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

 

এদিকে পরিবারের আরও অভিযোগ, ফাহিমকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য এএসআই সাইফুল টাকা দাবি করেন এবং ৫ হাজার টাকা নেওয়ার পরও তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি।

 

অভিযোগের বিষয়ে এএসআই সাইফুল বলেন, “আমি কোনো টাকা-পয়সা নিইনি। যা উদ্ধার হয়েছে, তার ভিত্তিতেই তাকে চালান দেওয়া হয়েছে।”

 

অন্যদিকে অভিযানের নেতৃত্বদানকারী এসআই বিপ্লব সরকার বলেন, “অভিযানে ফাহিমের কাছ থেকে মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে সাক্ষীও রয়েছে।”

 

এ বিষয়ে নরসিংদী জেলার পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ সত্য হলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, অভিযোগ ও পুলিশের বক্তব্যের মধ্যে ভিন্নতা থাকায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন জরুরি।