এস এম সোহাগ কাজী:
মাদারীপুর সদর উপজেলায় ভুট্টা ক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতনামা লাশের রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। পরিচয় গোপন করতে নিহতের মুখমণ্ডল বিকৃত করে ফেলায় ঘটনাটি শুরুতে সম্পূর্ণ ‘ক্লুলেস’ থাকলেও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতায় মূল ঘাতককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে মাদারীপুর সদর উপজেলার দুধখালি ইউনিয়নের দুর্গাবদী গ্রামের জয়নাল বেপারীর বাড়ির পাশের একটি ভুট্টা ক্ষেত থেকে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। দুর্বৃত্তরা নিহতের পরিচয় মুছে ফেলার উদ্দেশ্যে মুখমণ্ডলের চামড়া তুলে ফেলেছিল, যার ফলে প্রাথমিকভাবে লাশের পরিচয় শনাক্ত করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে কোনো সুস্পষ্ট আলামত না থাকায় তদন্তে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মাদারীপুর জেলা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং মাঠপর্যায়ের নিবিড় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করে। নিহত ব্যক্তি হলেন সদর উপজেলার দক্ষিণ বিরাঙ্গল এলাকার বাসিন্দা সিরাজ সরদার (৫৬)।
পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর গত ২৭ ফেব্রুয়ারি মাদারীপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা (ধারা: ৩০২/২০১/৩৪) দায়ের করা হয়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় পুলিশ মোঃ বিলাল হোসেন সরদার (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে।
মঙ্গলবার দুপুরে মাদারীপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার এহতেশামুল হক বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, “হত্যাকাণ্ডটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও ক্লুলেস ছিল। ঘাতকরা লাশের পরিচয় গোপন করতে বীভৎসভাবে মুখমণ্ডল বিকৃত করে দেয়। তবে আমাদের বিশেষ টিম প্রযুক্তির সহায়তায় অল্প সময়ের মধ্যেই হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তারকৃত বিলাল হোসেন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তার দেওয়া তথ্যমতে, এই নৃশংস ঘটনায় আরও তিনজন জড়িত ছিল। পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে এবং বাকিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এই ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য দ্রুত উদঘাটিত হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরলেও ঘটনার বীভৎসতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রিন্ট

কুষ্টিয়ায় মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে বসতঘরে আগুন 
সোহাগ কাজী, সদর উপজেলা (মাদারীপুর) প্রতিনিধি 





















