ঢাকা , শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ফরিদপুরের ভাটি কানাইপুরে ডাকাতি সংঘটিত Logo সদরপুরে নিম্ম আয়ের মানুষের ভীড় বাড়ছে ফুটপাতের পুরানো শীতবস্ত্রের দোকানে Logo মধুখালীর রায়পুর ইউনিয়নে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু Logo মধুখালীতে দোয়া মাহফিল ও গণমাধ্যম কর্মিদের সাথে মতবিনিময় Logo বাঘায় মুক্তিযোদ্ধার সাথে সংসদ সদস্য প্রার্থী চাঁদের মতবিনিময় Logo শিবগঞ্জে চোখ উপড়ে পাহারাদারকে হত্যা Logo মধুখালীতে সাংবাদিক সাগর চক্রবর্তীর মোটরসাইকেল চুরি Logo বালিয়াকান্দিতে মোবাইলকোট পরিচালনায় দুই ট্রলি চালককে জরিমানা  Logo বগুড়া পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য পালশা ডে নাইট শর্ট পিচ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত Logo তানোর বিএনপির রাজনীতিতে জাহাঙ্গীরকে দায়িত্বশীল পদে দেখতে চায় তৃণমুল
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

ডিম বিক্রি করেই ছেলেকে বানিয়েছেন মুফতি, তিন মেয়ের দিয়েছেন বিবাহ

এস. এম রবিউল ইসলাম রুবেলঃ

অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী, অনিশ্চয়তা ছিল প্রতিদিনের বাস্তবতা। তবুও হার মানেননি মো. ইউনুস মোল্লা। হালাল পরিশ্রম, ধৈর্য আর আল্লাহর উপর অগাধ বিশ্বাসই বদলে দিয়েছে তাঁর জীবনের গতিপথ। আজ ডিম বিক্রি করেই তিনি গড়ে তুলেছেন স্বাবলম্বী সংসার ছেলেকে বানিয়েছেন মুফতি, তিন মেয়ের দিয়েছেন সসম্মানে বিবাহ।

 

বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর গ্রামের বাসিন্দা মো. ইউনুস মোল্লা (পিতা–মৃত আব্দুল আলেক মোল্লা) এক সময় প্যাডেল ভ্যান চালাতেন। পরে আইসক্রিম তৈরি করে গ্রামগঞ্জে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করলেও সংসারের অভাব ঘোচেনি। দিন যেত কষ্টে, রাত নামত অনিশ্চয়তায়।

 

২০০৩ সালের দিকে সাতৈর শাহী জামে মসজিদের ইমাম তাঁকে নতুন একটি পথ দেখান, ডিম সিদ্ধ করে বিক্রির পরামর্শ দেন। সেই পরামর্শই বদলে দেয় ইউনুস মোল্লার জীবন। শুরুতে খুব অল্প ডিম সিদ্ধ করে বিক্রি করতেন তিনি। তখন ক্রেতাও ছিল কম, অনেকেই ডিম খেতে চাইতেন না। কিন্তু হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধরে ব্যবসা চালিয়ে যান তিনি।

 

বর্তমানে ইউনুস মোল্লা প্রতিদিন বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেশীয় হাঁস ও মুরগির ডিম সংগ্রহ করেন। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ডিম বিক্রি করেন। সপ্তাহে দুই দিন সাতৈর বাজারে বৃহস্পতি ও সোমবার হাট বসে। হাটের দিনগুলোতে তিনি দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত প্রায় ৪০০ থেকে ৬০০টি ডিম বিক্রি করে থাকেন। সাধারণ দিনেও গড়ে ৩০০টির মতো ডিম বিক্রি হয়।

 

ডিম ব্যবসায়ী ইউনুস মোল্লা বলেন, “এক সময় অভাবের তাড়নায় দুমুঠো খাবারের ব্যবস্থাও করতে পারিনি। এমন কোনো কাজ নেই যা আমি করিনি। কিন্তু আল্লাহ আমাকে হালাল পথে থাকার তৌফিক দিয়েছেন। এই ডিম বিক্রি করেই ১২ জনের সংসার চালিয়েছি, ১০ জন ছেলে-মেয়েকে পড়াশোনা করিয়েছি, বিবাহ দিয়েছি। এক ছেলেকে মাওলানা-মুফতি বানাতে পেরেছি। এখন আলহামদুলিল্লাহ, সুখে আছি।”

 

তিনি আরও জানান, একসময় যিনি সাহায্য নিতেন, আজ আল্লাহর রহমতে তিনিই মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারেন।

 

স্থানীয় ক্রেতারা জানান, ইউনুস মোল্লা প্রতিদিন ৭–৮ ধরনের পদ্ধতিতে ডিম সিদ্ধ করেন। তাঁর ডিম মানসম্মত ও বিশুদ্ধ হওয়ায় ক্রেতাদের আস্থা রয়েছে। অনেক সময় বাজারে দেশীয় ডিমের সংকট থাকলেও তিনি গ্রাম ঘুরে অরিজিনাল ডিম সংগ্রহ করে আনেন। “ব্যবসাকে মহান আল্লাহ হালাল করেছেন, আর সুদকে হারাম। তাই কোনো হালাল ব্যবসাকে ছোট করে দেখবেন না। দেরি না করে আজই শুরু করে দিন।”

 

ইউনুস মোল্লার এই সংগ্রামী জীবনগাথা শুধু একটি সফলতার গল্প নয়,এটি হালাল উপার্জন, ধৈর্য ও বিশ্বাসের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।


প্রিন্ট
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ফরিদপুরের ভাটি কানাইপুরে ডাকাতি সংঘটিত

error: Content is protected !!

ডিম বিক্রি করেই ছেলেকে বানিয়েছেন মুফতি, তিন মেয়ের দিয়েছেন বিবাহ

আপডেট টাইম : ০২:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
এস. এম রবিউল ইসলাম রুবেল, নিজস্ব প্রতিনিধি :

এস. এম রবিউল ইসলাম রুবেলঃ

অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী, অনিশ্চয়তা ছিল প্রতিদিনের বাস্তবতা। তবুও হার মানেননি মো. ইউনুস মোল্লা। হালাল পরিশ্রম, ধৈর্য আর আল্লাহর উপর অগাধ বিশ্বাসই বদলে দিয়েছে তাঁর জীবনের গতিপথ। আজ ডিম বিক্রি করেই তিনি গড়ে তুলেছেন স্বাবলম্বী সংসার ছেলেকে বানিয়েছেন মুফতি, তিন মেয়ের দিয়েছেন সসম্মানে বিবাহ।

 

বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর গ্রামের বাসিন্দা মো. ইউনুস মোল্লা (পিতা–মৃত আব্দুল আলেক মোল্লা) এক সময় প্যাডেল ভ্যান চালাতেন। পরে আইসক্রিম তৈরি করে গ্রামগঞ্জে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করলেও সংসারের অভাব ঘোচেনি। দিন যেত কষ্টে, রাত নামত অনিশ্চয়তায়।

 

২০০৩ সালের দিকে সাতৈর শাহী জামে মসজিদের ইমাম তাঁকে নতুন একটি পথ দেখান, ডিম সিদ্ধ করে বিক্রির পরামর্শ দেন। সেই পরামর্শই বদলে দেয় ইউনুস মোল্লার জীবন। শুরুতে খুব অল্প ডিম সিদ্ধ করে বিক্রি করতেন তিনি। তখন ক্রেতাও ছিল কম, অনেকেই ডিম খেতে চাইতেন না। কিন্তু হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধরে ব্যবসা চালিয়ে যান তিনি।

 

বর্তমানে ইউনুস মোল্লা প্রতিদিন বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেশীয় হাঁস ও মুরগির ডিম সংগ্রহ করেন। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ডিম বিক্রি করেন। সপ্তাহে দুই দিন সাতৈর বাজারে বৃহস্পতি ও সোমবার হাট বসে। হাটের দিনগুলোতে তিনি দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত প্রায় ৪০০ থেকে ৬০০টি ডিম বিক্রি করে থাকেন। সাধারণ দিনেও গড়ে ৩০০টির মতো ডিম বিক্রি হয়।

 

ডিম ব্যবসায়ী ইউনুস মোল্লা বলেন, “এক সময় অভাবের তাড়নায় দুমুঠো খাবারের ব্যবস্থাও করতে পারিনি। এমন কোনো কাজ নেই যা আমি করিনি। কিন্তু আল্লাহ আমাকে হালাল পথে থাকার তৌফিক দিয়েছেন। এই ডিম বিক্রি করেই ১২ জনের সংসার চালিয়েছি, ১০ জন ছেলে-মেয়েকে পড়াশোনা করিয়েছি, বিবাহ দিয়েছি। এক ছেলেকে মাওলানা-মুফতি বানাতে পেরেছি। এখন আলহামদুলিল্লাহ, সুখে আছি।”

 

তিনি আরও জানান, একসময় যিনি সাহায্য নিতেন, আজ আল্লাহর রহমতে তিনিই মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারেন।

 

স্থানীয় ক্রেতারা জানান, ইউনুস মোল্লা প্রতিদিন ৭–৮ ধরনের পদ্ধতিতে ডিম সিদ্ধ করেন। তাঁর ডিম মানসম্মত ও বিশুদ্ধ হওয়ায় ক্রেতাদের আস্থা রয়েছে। অনেক সময় বাজারে দেশীয় ডিমের সংকট থাকলেও তিনি গ্রাম ঘুরে অরিজিনাল ডিম সংগ্রহ করে আনেন। “ব্যবসাকে মহান আল্লাহ হালাল করেছেন, আর সুদকে হারাম। তাই কোনো হালাল ব্যবসাকে ছোট করে দেখবেন না। দেরি না করে আজই শুরু করে দিন।”

 

ইউনুস মোল্লার এই সংগ্রামী জীবনগাথা শুধু একটি সফলতার গল্প নয়,এটি হালাল উপার্জন, ধৈর্য ও বিশ্বাসের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।


প্রিন্ট