এস. এম সালমান হৃদয়ঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া জেলার সাতটি আসনে বিএনপি প্রার্থীরা সবশেষে একচ্ছত্র জয় অর্জন করেছেন। এই জয় জেলা রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জেলার প্রতিটি উপজেলায় ধানের শীষ প্রতীক বিপুল ভোটে এগিয়ে থেকে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা ও অন্যান্য প্রতীকের প্রার্থীদেরকে সহজে ছাড়িয়ে গেছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই ফলাফল বিএনপির জন্য শুধু জয় নয়, বরং বগুড়ার রাজনৈতিক ঘাঁটি পুনরায় শক্তিশালী করার প্রতীকও বটে।
বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দী-সোনাতলা) আসনে কাজী রফিকুল ইসলাম (বিএনপি, ধানের শীষ) ১,৭১,৪৪০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন (জামায়াতে ইসলামী, দাঁড়িপাল্লা) যিনি ৫৭,৯৫৯ ভোট পান। এ আসনে ভোটারদের মাঝে উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নির্বাচনী প্রচারণার ফলেই কাজী রফিকুল ইসলাম উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে যেতে পেরেছেন।
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে বিজয়ী হয়েছেন মীর শাহ আলম (বিএনপি, ধানের শীষ) ১,৪৫,০২৪ ভোট নিয়ে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আবুল কালাম মোঃ শাহাদুজ্জামান (জামায়াতে ইসলামী, দাঁড়িপাল্লা) ৯৩,৫৪৮ ভোট পেয়েছেন। এখানে ভোটারদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য ছিল এবং স্থানীয় বিএনপি নেতারা প্রচারণার জোরালো রণনীতি ও দলীয় ঐক্যকে বিজয়ের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বগুড়া-৩ (দুপচাঁচিয়া-আদমদীঘি) আসনে আব্দুল মুহিত তালুকদার ১,২৭,৪০৬ ভোট নিয়ে জয়ী হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন নূর মোহাম্মদ আবু তাহের ১,১১,০২৬ ভোটে। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল বেশ ঘনিষ্ঠ এবং নির্বাচনী প্রচারণার সময় দুপক্ষের মধ্যে সমানভাবে কর্মী উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকরা ভোটের মাঠে সক্রিয় ছিলেন, যা জয় নিশ্চিত করতে সাহায্য করেছে।
বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন ১,৫৪,৬৯৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ড. মোস্তফা পারভেজ ফয়সাল ১,০৮,১৯১ ভোট পেয়েছেন। এখানে নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালীন সময় বিএনপি দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা সর্বাধিক তৎপর ছিলেন।
বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ ২,৪৭,০০০ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আলহাজ্ব দবিরুর রহমান ১,৪২,০৯১ ভোট পান। এ আসনে ধানের শীষের জয় অত্যন্ত ব্যবধানে, যা দেখাচ্ছে ভোটারদের মধ্যে বিএনপির প্রতি দৃঢ় আস্থা ও সমর্থন রয়েছে।
বগুড়া-৬ (সদর) আসনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২,১৬,২৮৪ ভোট নিয়ে জয়ী হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল ৯৭,৬২৬ ভোট পেয়েছেন। চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্ব এবং তৃণমূলের একতা এই আসনে জয় নিশ্চিত করেছে।
বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে মোরশেদ মিলটন ২,৬২,৫০১ ভোটে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গোলাম রব্বানী ১,১৫,১৮৪ ভোট পেয়েছেন। এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকের জয় সবচেয়ে বড় ব্যবধান দেখিয়েছে, যা জেলা জুড়ে বিএনপির প্রভাবকে আরও দৃঢ় করেছে।
ফলাফলের পর জেলা জুড়ে আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ এবং কৃতজ্ঞতা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বগুড়ার সাতটি আসনে একযোগে বিজয় বিএনপির জন্য শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছে এবং আগামী দিনে জেলার রাজনৈতিক মানচিত্রে দলের প্রভাব আরও বাড়াবে। বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, এই জয় শুধু আসনের জয় নয়, বরং দীর্ঘদিনের সংগঠন ও তৃণমূলের শ্রমের স্বীকৃতি। এ নির্বাচন বিএনপির জন্য বগুড়ায় শক্ত ঘাঁটি পুনরায় প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে ইতিহাসে থাকবে।
প্রিন্ট

ফরিদপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার 
এস. এম সালমান হৃদয়, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি 




















