ঢাকা , বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়ায় মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে বসতঘরে আগুন Logo চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত Logo ফরিদপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার Logo বিএনপি প্রার্থী স্বামীর জন্য ধানের শীষে ভোট চাইলেন চীনা স্ত্রী Logo আপনারা যাকে খুশি তাকে ভোট দেন, কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধীদের ভোট দেবেন না —ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল Logo সীমানা নির্ধারণ নিয়ে আদমদীঘিতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা Logo গোমস্তাপুরে ভারতীয় নাগরিক রণজিৎ মন্ডলকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত দিল বিজিবি Logo রাজবাড়ী-২ আসনের ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী সাইয়েদ জামিল Logo ভোলাহাটে রেশম চাষের ব্যাপক চাহিদা Logo মাদারীপুরে পরকীয়ার অভিযোগঃ ঘুমন্ত স্বামীর পুরুষাঙ্গ কাটলেন স্ত্রী, অভিযুক্ত আটক
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

বাবার পরিচয় পেতে মায়ের সাথে মাদারীপুর আদালতপাড়ায় সাড়ে তিন বছরের আফিয়া

অপি মুন্সীঃ

সাড়ে তিন বছরের অবুঝ শিশু আফিয়া। পিতৃপরিচয় পাবার আশায় মায়ের সাথে আদালতপাড়ায় ঘুরছে পৃথিবীতে আলোরমুখ দেখার পর থেকে। কিন্তু সে জানে না আদৌ পাবে কিনা তার বাবার পরিচয়। মা বিউটি আক্তারও স্বামীর নামঠিকানা জানতে পারেনি আজও।
ছদ্মনাম বিউটি আক্তার। ২০১৯ সালে সৎ মা কাজল বেগম তাকে বিক্রি কর দেয় একটি যৌনপল্লীতে। সেখানে থাকার পর বিউটি হয়ে যায় গর্ভবতী।

পরে যৌনপল্লীর লোকজন মেয়েটিকে ফেলে দিয়ে যায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুরের কলাবাড়ি বাসস্ট্যান্ডে। ২০২১ সালের ২৪ জানুয়ারি রাত ১২টার দিকে বিউটিকে উদ্ধার করে সদর মডেল থানা পুলিশ। পরদিন আদালতে হাজির করা হলে তাকে পাঠিয়ে দেয়া হয় ফরিদপুরের সেইফজোনে। সেখানে সিজারিয়ান করানো হলে কোলজুড়ে আসে এক ফুটফুটে মেয়ে। নাম রাখা হয় আফিয়া। আস্তে আস্তে বেড়ে ওঠে বিউটির মেয়ে আফিয়া। কিন্তু আজও মেলেনি আফিয়ার পিতৃপরিচয়। এরইমধ্যে আফিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত মা। নিজেও চান স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে, চান একটি একটি কর্মসংস্থানও।

অন্য শিশুর মতো আফিয়াকে মানুষ করতে ও তার মাকে প্রদিক্ষন দিতে এরইমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে আদালত। আর অহসায় মানুষ দুটির দায়িত্ব কেউ নিতে চাইলে আবেদন করলে যাছাইবাছাই করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলছে মাদারীপুর শিশু আদালত। এদিকে রোববার বিকেলে শিশু আদালতের বিচারক শরীফ এএম রেজা জাকের-এর সিদ্ধান্তে পুলিশী নিরাপত্তায় আফিয়া ও তার মাকে পৌঁছে দেয়া হয় বরিশালের সেইফজোনে। সেখানে থেকে আপাতত প্রশিক্ষন নিতে পারবেন বিউটি আক্তার।

বিউটি আক্তার বলেন, ‘আমি ও আমার মেয়ের অন্যদের মতো বাঁচতে চাই। প্রয়োজনে কাজ করে খাবো। তবুও বন্দি জীবনে আর থাকতে চাই। আমার সৎ মা আমাকে বিক্রি করে দেয়ায় আমার জীবনে অন্ধকার নেমে আসে। আদালতের মাধ্যমে এই অন্ধকার জীবনে আলো চাই। আমার মেয়েটির জন্য খুব চিন্তা। তাকে মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’


প্রিন্ট
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বাঘায় পলিথিনের পাইপ কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত-৫

error: Content is protected !!

বাবার পরিচয় পেতে মায়ের সাথে মাদারীপুর আদালতপাড়ায় সাড়ে তিন বছরের আফিয়া

আপডেট টাইম : ১২:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫
অপি মুন্সী, শিবচর ( মাদারীপুর) প্রতিনিধি :

অপি মুন্সীঃ

সাড়ে তিন বছরের অবুঝ শিশু আফিয়া। পিতৃপরিচয় পাবার আশায় মায়ের সাথে আদালতপাড়ায় ঘুরছে পৃথিবীতে আলোরমুখ দেখার পর থেকে। কিন্তু সে জানে না আদৌ পাবে কিনা তার বাবার পরিচয়। মা বিউটি আক্তারও স্বামীর নামঠিকানা জানতে পারেনি আজও।
ছদ্মনাম বিউটি আক্তার। ২০১৯ সালে সৎ মা কাজল বেগম তাকে বিক্রি কর দেয় একটি যৌনপল্লীতে। সেখানে থাকার পর বিউটি হয়ে যায় গর্ভবতী।

পরে যৌনপল্লীর লোকজন মেয়েটিকে ফেলে দিয়ে যায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুরের কলাবাড়ি বাসস্ট্যান্ডে। ২০২১ সালের ২৪ জানুয়ারি রাত ১২টার দিকে বিউটিকে উদ্ধার করে সদর মডেল থানা পুলিশ। পরদিন আদালতে হাজির করা হলে তাকে পাঠিয়ে দেয়া হয় ফরিদপুরের সেইফজোনে। সেখানে সিজারিয়ান করানো হলে কোলজুড়ে আসে এক ফুটফুটে মেয়ে। নাম রাখা হয় আফিয়া। আস্তে আস্তে বেড়ে ওঠে বিউটির মেয়ে আফিয়া। কিন্তু আজও মেলেনি আফিয়ার পিতৃপরিচয়। এরইমধ্যে আফিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত মা। নিজেও চান স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে, চান একটি একটি কর্মসংস্থানও।

অন্য শিশুর মতো আফিয়াকে মানুষ করতে ও তার মাকে প্রদিক্ষন দিতে এরইমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে আদালত। আর অহসায় মানুষ দুটির দায়িত্ব কেউ নিতে চাইলে আবেদন করলে যাছাইবাছাই করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলছে মাদারীপুর শিশু আদালত। এদিকে রোববার বিকেলে শিশু আদালতের বিচারক শরীফ এএম রেজা জাকের-এর সিদ্ধান্তে পুলিশী নিরাপত্তায় আফিয়া ও তার মাকে পৌঁছে দেয়া হয় বরিশালের সেইফজোনে। সেখানে থেকে আপাতত প্রশিক্ষন নিতে পারবেন বিউটি আক্তার।

বিউটি আক্তার বলেন, ‘আমি ও আমার মেয়ের অন্যদের মতো বাঁচতে চাই। প্রয়োজনে কাজ করে খাবো। তবুও বন্দি জীবনে আর থাকতে চাই। আমার সৎ মা আমাকে বিক্রি করে দেয়ায় আমার জীবনে অন্ধকার নেমে আসে। আদালতের মাধ্যমে এই অন্ধকার জীবনে আলো চাই। আমার মেয়েটির জন্য খুব চিন্তা। তাকে মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’


প্রিন্ট