মো. আরিফুল হাসান:
স্বাধীনতার ৫৬ বছর পেরিয়ে গেলেও ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার মেগচামী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বনগ্রাম যেন এখনো উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে অনেকটাই বঞ্চিত। প্রায় সহস্রাধিক মানুষের বসবাস এই গ্রামে। অধিকাংশ বাসিন্দাই কৃষিনির্ভর। উর্বর মাটির কারণে বিভিন্ন মৌসুমে এখানে প্রচুর ফসল উৎপাদিত হয়। উৎপাদিত এসব ফসল মধুখালী, কামারখালী ও জামালপুরসহ আশপাশের বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন কৃষকরা।
তবে কৃষি উৎপাদনে সম্ভাবনাময় এই গ্রামের যোগাযোগব্যবস্থা এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচনের সময় বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা রাস্তাঘাটসহ নানা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও দীর্ঘদিনেও সেসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি।
শিক্ষাক্ষেত্রেও রয়েছে নানা সংকট। বনগ্রামে নেই কোনো সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রায় তিন কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে নরকোনা অথবা শান্তিপুরের স্কুলে যেতে হয়। বর্ষাকালে এ দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয়দের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ জরুরি সেবা নিয়ে। বর্ষা মৌসুমে গ্রামের রাস্তাঘাটের অবস্থা খারাপ থাকায় কোনো ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থ হলে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। একইভাবে অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোরও সুব্যবস্থা নেই। এতে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়।
সম্প্রতি সরেজমিনে বনগ্রাম ঘুরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এসব সমস্যার চিত্র উঠে এসেছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই গ্রামের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং জরুরি সেবা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
এ বিষয়ে ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইলিয়াস মোল্লার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “শুধু প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরিতে বিশ্বাসী হতে চাই না। বনগ্রামবাসীর বাস্তব উন্নয়ন চাই। এমপি হিসেবে আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, কাজ করার জন্যই দিয়েছি। দ্রুতই কাজ করা হবে।”
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংসদ সদস্যের দেওয়া প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে বনগ্রামের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত সংকট দূর হবে এবং কৃষিনির্ভর এই জনপদটি উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত হবে।

বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন 
মোঃ আরিফুল হাসান, মধুখালী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি 



















