ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

সরকারি কলেজে পরিক্ষার ফর্ম ফিল-আপের টাকা নিয়ে উধাও কর্মচারী-অনিশ্চয়তায় ৯১-শিক্ষার্থী

আসাদুর রহমান হাবিবঃ

 

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের ৯১জন শিক্ষার্থীর অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষার ফর্ম ফিলআপের প্রায় তিন লাখ টাকা জমা না দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে মাষ্টাররোলে কর্মরত সহকারী কর্মচারী মোঃ আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে।

 

এবিষয়ে জানা গেছে ২০২৫ সালের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষার ফর্ম পূরণের জন্য ইংরেজি বিভাগের ৯১জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ফর্ম ফিলআপ বাবদ ৪ হাজার ৯শত ৩৯ টাকা হারে মোট ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৪শত ৪৯ টাকা সংগ্রহ করেন মোঃ আনোয়ার হোসেন, সংগ্রহীত টাকার মধ্যে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪ শত ৪৯ টাকা কলেজের পাওনা মিটিয়ে বাকি ২ লাখ ৯৬ হাজার টাকা কলেজের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দেন আনোয়ার হোসেন।

 

পরবর্তীতে সেই টাকা কলেজের হিসাব রেজিষ্ট্রার খাতা এবং কলেজের নির্ধারিত ব্যাংক একাউন্টে জমা দেওয়ার কোন তথ্য প্রমাণ না পাওয়ায় টাকাগুলো আনোয়ার হোসেন আত্মসাত করেছেন বুঝতে পেরে ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ শামীম আক্তার ফুলবাড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

 

অভিযোগে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফর্ম ফিলআপ বাবদ সংগ্রহীত অর্থ আত্মসাত এবং কলেজের গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কাগজপত্রের অনিয়ম অপব্যবহারের আশক্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

 

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফর্ম ফিলআপ পূরণের সংগ্রহীত টাকা জমা দেওয়ার হিসাব আনোয়ার হোসেনের কাছে চাইতে গেলে আনোয়ার হোসেন মৌখিক দাবি করেন টাকা কলেজের নির্ধারিত ব্যাংক একাউন্টে জমা দিয়েছেন যাঁর কোন তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি পরবর্তীতে আনোয়ার হোসেনকে হিসাব মেলানোর তাগিদ দেওয়া হলে তিনি গত ৪ আগস্ট থেকে কলেজে অনুপস্থিত তিনি আর কলেজে আসেননি বা তাঁর দায়িত্ব হস্তান্তর করেননি এ ছাড়াও ইংরেজি বিভাগের গোপনীয় নথিপত্র আবেদন ফর্ম ও রেজিষ্ট্রার খাতা তাঁর জিম্মায় রয়েছে সেগুলো গোপন বা অপব্যবহারের আশক্কা তৈরি হতে পারে।

 

ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাহাবুব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন ফুলবাড়ী সরকারি কলেজে আমরা যাঁরা শিক্ষার্থী আছি সকলে বড় ফ্যামিলির নয় কেউ দিনমজুর রিক্সা চালক ভ্যান চালক কৃষকের ছেলে মেয়ে আবার কেউ নিজে অত্যন্ত পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহসহ টাকা জমিয়ে লেখা পড়া চালিয়ে যাচ্ছে সামনে পরিক্ষা অনেকে কষ্ট করে ফর্ম ফিলআপের টাকা জোগাড় করে দিয়েছে সেই টাকা জমা না হয়ে আত্মসাতের অভিযোগ শুনছি এখন পরীক্ষায় পপ্রবেশপত্র পাওয়া এবং অংশগ্রহণ করা আমাদের জন্য একটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এর সমাধান না করলে আমরা হুমকির মধ্যে পড়ে যাবো।

 

এবিষয়ে ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ আহসান হাবীব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন এই ঘটনাটি প্রায় মাস হতে চলল ঘটনায় অভিযুক্ত মোঃ আনোয়ার হোসেনের যিনি শশুর তিনি কলেজের এলপিআরে যাওয়া পিওন রশীদ মিয়া তিনি আমাদের আস্বস্ত করেছিলেন তাঁর মেয়ে জামাতা আত্মসাত করা টাকা কলেজে ফেরত দিবেন কিন্তু দীর্ঘদিন হয়ে গেল এখন পর্যন্ত আনোয়ার হোসেন কলেজে উপস্থিত হননি বা টাকা ফেরত দেননি যাঁর ফলে কলেজ প্রশাসন আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবার মৃত্যুর খবর শুনে বাড়ি ফেরার পথে ট্রাক চাপায় যুবকের মৃত্যু

error: Content is protected !!

সরকারি কলেজে পরিক্ষার ফর্ম ফিল-আপের টাকা নিয়ে উধাও কর্মচারী-অনিশ্চয়তায় ৯১-শিক্ষার্থী

আপডেট টাইম : ৪ ঘন্টা আগে
আসাদুর রহমান হাবিব, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :

আসাদুর রহমান হাবিবঃ

 

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের ৯১জন শিক্ষার্থীর অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষার ফর্ম ফিলআপের প্রায় তিন লাখ টাকা জমা না দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে মাষ্টাররোলে কর্মরত সহকারী কর্মচারী মোঃ আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে।

 

এবিষয়ে জানা গেছে ২০২৫ সালের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষার ফর্ম পূরণের জন্য ইংরেজি বিভাগের ৯১জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ফর্ম ফিলআপ বাবদ ৪ হাজার ৯শত ৩৯ টাকা হারে মোট ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৪শত ৪৯ টাকা সংগ্রহ করেন মোঃ আনোয়ার হোসেন, সংগ্রহীত টাকার মধ্যে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪ শত ৪৯ টাকা কলেজের পাওনা মিটিয়ে বাকি ২ লাখ ৯৬ হাজার টাকা কলেজের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দেন আনোয়ার হোসেন।

 

পরবর্তীতে সেই টাকা কলেজের হিসাব রেজিষ্ট্রার খাতা এবং কলেজের নির্ধারিত ব্যাংক একাউন্টে জমা দেওয়ার কোন তথ্য প্রমাণ না পাওয়ায় টাকাগুলো আনোয়ার হোসেন আত্মসাত করেছেন বুঝতে পেরে ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ শামীম আক্তার ফুলবাড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

 

অভিযোগে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফর্ম ফিলআপ বাবদ সংগ্রহীত অর্থ আত্মসাত এবং কলেজের গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কাগজপত্রের অনিয়ম অপব্যবহারের আশক্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

 

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফর্ম ফিলআপ পূরণের সংগ্রহীত টাকা জমা দেওয়ার হিসাব আনোয়ার হোসেনের কাছে চাইতে গেলে আনোয়ার হোসেন মৌখিক দাবি করেন টাকা কলেজের নির্ধারিত ব্যাংক একাউন্টে জমা দিয়েছেন যাঁর কোন তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি পরবর্তীতে আনোয়ার হোসেনকে হিসাব মেলানোর তাগিদ দেওয়া হলে তিনি গত ৪ আগস্ট থেকে কলেজে অনুপস্থিত তিনি আর কলেজে আসেননি বা তাঁর দায়িত্ব হস্তান্তর করেননি এ ছাড়াও ইংরেজি বিভাগের গোপনীয় নথিপত্র আবেদন ফর্ম ও রেজিষ্ট্রার খাতা তাঁর জিম্মায় রয়েছে সেগুলো গোপন বা অপব্যবহারের আশক্কা তৈরি হতে পারে।

 

ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাহাবুব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন ফুলবাড়ী সরকারি কলেজে আমরা যাঁরা শিক্ষার্থী আছি সকলে বড় ফ্যামিলির নয় কেউ দিনমজুর রিক্সা চালক ভ্যান চালক কৃষকের ছেলে মেয়ে আবার কেউ নিজে অত্যন্ত পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহসহ টাকা জমিয়ে লেখা পড়া চালিয়ে যাচ্ছে সামনে পরিক্ষা অনেকে কষ্ট করে ফর্ম ফিলআপের টাকা জোগাড় করে দিয়েছে সেই টাকা জমা না হয়ে আত্মসাতের অভিযোগ শুনছি এখন পরীক্ষায় পপ্রবেশপত্র পাওয়া এবং অংশগ্রহণ করা আমাদের জন্য একটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এর সমাধান না করলে আমরা হুমকির মধ্যে পড়ে যাবো।

 

এবিষয়ে ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ আহসান হাবীব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন এই ঘটনাটি প্রায় মাস হতে চলল ঘটনায় অভিযুক্ত মোঃ আনোয়ার হোসেনের যিনি শশুর তিনি কলেজের এলপিআরে যাওয়া পিওন রশীদ মিয়া তিনি আমাদের আস্বস্ত করেছিলেন তাঁর মেয়ে জামাতা আত্মসাত করা টাকা কলেজে ফেরত দিবেন কিন্তু দীর্ঘদিন হয়ে গেল এখন পর্যন্ত আনোয়ার হোসেন কলেজে উপস্থিত হননি বা টাকা ফেরত দেননি যাঁর ফলে কলেজ প্রশাসন আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছে।