সাজেদুর রহমানঃ
বেনাপোলের পুটখালী ইউনিয়ন যুবদলের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক হত্যা ঘটনার ১৩ বছর পর আদালতে মামলা হয়েছে। নিহতের ছেলে আহসান হাবিব বাদী হয়ে
বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) যশোর আদালতে মামলা করেছেন।
সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবা শারমিন অভিযোগ আমলে নিয়ে পুলিশের দায়ের করা মামলাটির নথি ও সিডি তলব করে আগামী ২০ নভেম্বর আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট দেবাশীষ দাস।
২০১২ সালের ৩ জানুয়ারি আব্দুল খালেক হত্যা ঘটনায় বেনাপোল পোর্টথানা পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছিল। প্রকাশ্য দিবালোকে তাকে হত্যা করা হলেও আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করতে পারেনি। ওই সময় একটি পুলিশ বাদী মামলা হলেও পরিবার কোন বিচার পাইনি।
এই মামলায় তৎকালীন ওসিসহ ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
আসামিরা হলেন- বেনাপোল পোর্ট থানারপুটখালী গ্রামের সহিদুলের ছেলে রেজাউল ইসলাম রেজা তার ২ ভাই আজিজুল ইসলাম ও জিয়াউর রহমান, আকবর সর্দারের ছেলে শাহাদৎ হোসেন, মোতালেব সর্দারের ছেলে কামাল হোসেন, আঃ মজিদের ছেলে তারিকুল ইসলাম, আবদুর ওয়াজেদ মান্দারের ছেলে আব্দুর রব, (বর্তমান নারানপুর) গ্রামের মৃত জব্বার আলী মুন্সির ছেলে ইয়াকুব আলী, মোতালেব সর্দারের ছেলে রিয়াজুল ইসলাম।
বেনাপোল পোর্ট থানার- সাবেক তদন্ত ওসি সৈয়দ লুৎফর রহমান, সাবেক এসআই আবুল কালাম আজাদ, সাবেক এসআই শিকদার মতিয়ার রহমান, ডিবির তৎকালীন এসআই আবুল খায়ের মোল্লা সহ অজ্ঞাত ৮ জন।
বাদী আহসান হাবীবের দাবি, স্থানীয় আসামিরা সকলেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। হত্যার কিছুদিন আগে উপরোক্ত আসামীগণ আমার পিতাকে হত্যা করিবার জন্য আমাদের বাড়ী ঘেরাও করে এবং চাঁদা দাবী করে।
সে সময় আমার পরিবারের লোকজন বেনাপোল পোর্ট থানায় অভিযোগ জানাইতে গেলে বিএনপির রাজনীতি করার কারনে কোন অভিযোগ গ্রহন করেন নাই। চাঁদা না দেওয়ায় আমার পিতাকে হত্যা করা হয়েছে। উক্ত হত্যা ঘটনায় জড়িত প্রকৃত আসামীদের রক্ষার জন্য আমার পিতার হত্যা সংক্রান্তে অজ্ঞাতনামা আসামী উল্লেখ করে থানায় একটি এজাহার করেন। যাহার মামলা নং-১২, তাং-০৭/০১/২০১২।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, ২০১২ সালের ৩ জানুয়ারি দুপুরে ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক তার ছেলে মুন্নাকে বেনাপোল হাইস্কুলে ভর্তি করাতে যান। ছেলে ভর্তি শেষে কাছের একটি দোকানে বসিয়ে তিনি যশোর-বেনাপোল সড়কের দিঘীরপাড় এলাকায় শাহজালাল ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলে তেল নিতে গেলে দুপুরে তার উপর হামলা চালিয়ে হত্যা করেন। হত্যা কান্ডে পুলিশ বাদে অন্য আসামিরা আব্দুল খালেককে ঘিরে ফেলেন এবং রেজাউল, আজিজুল, ইয়াকুব ও জিয়াউর রহমান আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি চালান।
রেজাউলের গুলি খালেকের ডান কান ভেদ করে বাম কান দিয়ে বেরিয়ে যায়। অন্য আসামিরা চারদিক ঘিরে সহযোগিতা করে। পরে তার মৃত্যু হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, তৎকালীন বেনাপোল পোর্ট থানার এসআই আবুল কালাম আজাদ প্রকৃত আসামিদের রক্ষায় ২০১২ সালের ৭ জানুয়ারি নিজে বাদী হয়ে মনগড়া অভিযোগ এনে মামলা করেন।
তার সাথে তদন্ত ওসিও জড়িত ছিলেন। এমনকি খালেকের পরিবারকে মামলা করতে দেওয়া হয়নি। পরে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শিকদার মতিয়ার রহমান ও জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই আবুল খায়ের মোল্লা আসামিদের বাঁচাতে ২০১৩ সালের ১৩ মার্চ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
এতে করে প্রকৃত আসামিরা সকলেই মামলা থেকে রক্ষা পেয়ে যান। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় বাদী বাবা হত্যার বিচার চেয়ে আদালতে মামলা করেন।

মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার 
সাজেদুর রহমান, বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি 





















